রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ হলো মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক বিশেষ সুযোগ। এর মূল উদ্দেশ্য- দুনিয়ার ব্যস্ততা ও পার্থিব সম্পর্ক থেকে দূরে সরে আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিমগ্ন করা। তবে ইতেকাফ অবস্থায় অন্যের সঙ্গে সালাম বা কুশল বিনিময় নিয়ে অনেক সময় অস্পষ্টতা তৈরি হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আর তোমরা যখন মসজিদে ইতেকাফরত অবস্থায় থাকো, তখন স্ত্রীদের সঙ্গে মেলামেশা করো না।’ (সুরা বাকারা: ১৮৭)
বিজ্ঞাপন
এই আয়াত ইঙ্গিত দেয় যে, ইতেকাফকালে পার্থিব ও পারিবারিক সম্পর্কও ইবাদতের স্বার্থে সীমিত রাখা আবশ্যক।
আরও পড়ুন: 'ইতেকাফ' জাহান্নাম থেকে মুক্তির অনন্য আমল
উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) ইতেকাফ অবস্থায় (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গেলে) পথ চলতে চলতে অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ খবর নিতেন, কিন্তু এজন্য রাস্তার মধ্যে দাঁড়াতেন না।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৪৭২)
অন্যান্য হাদিস ও ফিকহি গ্রন্থে উল্লেখ আছে, ইতেকাফ অবস্থায় কারো সাথে কথা বলা বা কুশলাদি জিজ্ঞেস করার জন্য মসজিদের বাইরে অল্পক্ষণ দাঁড়িয়ে কথা বলা বা কুশলাদি বিনিময় করা নিষিদ্ধ, কারণ এটি ইতেকাফের মূল চেতনার পরিপন্থী। (মুসলিম: ২৯৭; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১২১)
বিজ্ঞাপন
মোটকথা, প্রয়োজনে বাইরে চলাকালীন সময় যেমন মসজিদের বাইরে পেশাব বা পায়খানার জন্য যাওয়ার সময় পথ চলতে চলতে সালাম দেওয়া বা অল্প কথা বলা জায়েজ। আলাদা করে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ কথা বলা অনুমোদিত নয়।
আরও পড়ুন: ইতেকাফ কাজা আদায়ের নিয়ম কী
মসজিদের ভেতর অবস্থানকালে অপ্রয়োজনীয় সামাজিক আলাপ বা কুশল বিনিময় থেকে বিরত থাকা উচিত। দ্বীনি বা অত্যন্ত জরুরি বিষয়ে সংক্ষেপে কথা বলায় বাধা নেই।
অপ্রয়োজনীয় আলাপ তথা ইতেকাফ অবস্থায় দীর্ঘ সময় দুনিয়াবি গল্পগুজব করা ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট করে, যা বর্জনীয়।
ইতেকাফের মূল লক্ষ্য হলো নির্জনতা ও একাগ্রতা। তাই সামাজিক মেলামেশা বা দীর্ঘ আলাপ এ সময়ে পরিহার করাই শ্রেয়। শুধু চলতে চলতে অত্যন্ত সীমিত কথোপকথন বা সালাম বিনিময়ের অনুমতি রয়েছে, যাতে ইতেকাফের মূল উদ্দেশ্য—দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে আল্লাহর নৈকট্যে মনোনিবেশ- বিঘ্নিত না হয়।
সুরা বাকারা: ১৮৭; সহিহ মুসলিম: ২৯৭; আবু দাউদ: ২৪৭২; মিরকাতুল মাফাতিহ: ৪/৫২৯; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১২১




