বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ওয়ার্ল্ড মুসলিম কালচারাল সোসাইটির সেমিনারে মদিনা সনদ পাঠ্যভুক্তির দাবি

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ওয়ার্ল্ড মুসলিম কালচারাল সোসাইটির সেমিনারে মদিনা সনদ পাঠ্যভুক্তির দাবি

মদিনা সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সনদটি পাঠ্যভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে ওয়ার্ল্ড মুসলিম কালচারাল সোসাইটি আয়োজিত এক সেমিনারে। বক্তারা বলেন, মদিনা সনদ নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হলেও এটি সম্পর্কে মানুষের সুস্পষ্ট ধারণা নেই। তাই ন্যায়বিচার, সাম্য ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মদিনা সনদের শিক্ষা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

বক্তারা বলেন, সমাজ এখন নানা দলীয় ও ধর্মীয় গোত্রে বিভক্ত হয়ে গেছে। ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সামাজিক ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ মদিনা সনদে আছে। তা বাস্তবায়নের সরকার, আলেম সমাজ ও রাজনীতিবিদদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

মদিনা দিবস পালন উপলক্ষে গত শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড মুসলিম কালচারাল সোসাইটি আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে বক্তরা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এমিরেটার্স ড. আনিসুজ্জামান।

সেমিনারে ‘মদিনা সনদের আলোকে সামাজিক শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আহমদ সেলিম রেজা। বক্তব্য দেন, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার ও প্রখ্যাত সাংবাদিক আবু সালেহ। বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী, দারুল ইহছান ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহযোগী অধ্যাপক শাইখ উছমান গণি, ভাষানী ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।

প্রফেসর এমিরেটার্স ড. আনিসুজ্জামান বলেন, আল্লাহর নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনা সনদ সমাজে সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু আমাদের সমাজে ন্যায্যতা নেই। আমরা গণতন্ত্র বলতে বুঝি ভোট। এটা গণতন্ত্রের একটি পা। গণতন্ত্রের অপর পা হলো সাম্য বা ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা। এই চর্চা এখানে নেই। অতীত থেকেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র এক পায়ে হাঁটছে। এখানে ভোট হয়, সরকার গঠন হয় কিন্তু সাম্য প্রতিষ্ঠা হয় না।

তিনি আরো বলেন, দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার অন্তরায় দুর্নীতির সঙ্গে সরকার ও রাজনীতিবিদদের আপোসকামিতা। আমাদের স্পিকার বলেছেন, আমাদের সরকারির কর্মকর্তাদের অধিকাংশ চোর। শেখ মুজিবও বেলছিলেন আমি পেয়েছি চোরেরখনি।

মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেছেন, নৈতিকতা ছাড়া সমাজে ন্যায্যতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ইশতেহার দিয়ে, বক্তব্য দিয়ে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট জিয়া ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তার এককালীন এই একান্ত সচিব।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর