ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই মন খারাপ বা বিষণ্ণতা বাড়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার বা সিজনাল ডিপ্রেশন। বিশেষ করে শরৎ থেকে শীতকাল আসার সময়টাতে এই সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়। চলুন জেনে এরকম কেন হয় তার বৈজ্ঞানিক কারণ জেনে নিই-
সূর্যালোকের অভাব ও মেলাটোনিন: শীত বা বর্ষাকালে সাধারণত সূর্যালোক কম থাকে। এতে শরীরে মেলাটোনিন নামক হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা আমাদের ঘুম ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কেননা, শরীরে মেলাটোনিন বেশি নিঃসৃত হলে অলস লাগে, ঘুম বেশি পায় এবং বিষণ্ণতা বাড়ে।

আরও পড়ুন: মন খারাপের সঙ্গে কি ক্ষুধার সম্পর্ক আছে?
সেরোটোনিন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: সূর্যের আলো আমাদের মস্তিষ্কে সেরোটোনিন মক হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। এই হরমোন আমাদের মন ভালো করতে ভূমিকা রাখে। ঋতু পরিবর্তনের সময় দিনের আলোর সঙ্গে সেরোটোনিনের মাত্রাও কমে যায়। ফলে আমাদের মেজাজ তুলনামূলকভাবে খিটখিটে হয় এবং মনে বিষণ্ণতা ভর করে।

বায়োলজিক্যাল ক্লক ব্যাহত হওয়া: ঋতু পরিবর্তনের সময় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যে পরিবর্তন আসে। হঠাৎ এই পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কাডিয়ান রিদম সহজে মানিয়ে নিতে পারে না। ঘুমের সময় ও রুটিনের এই পরিবর্তন মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন: মাত্র ১০ মিনিট দৌড়ালেই ভালো হবে মন
ভিটামিন ডি’র ঘাটতি: সূর্যালোকের অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি’র উৎপাদন কমে যায়। এতে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতির দেখা দেয়। ফলে আমাদের মধ্যে বিষণ্ণতা বা অবসাদ দেখা দেয়। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই অবসাদের সঙ্গে ভিটামিন ডি’র ঘাটতির সরাসরি সংযোগ রয়েছে।

তবে সমাধান?
এই বিষণ্ণতা কাটানোর কিছু সহজ উপায় হলো-
সকালের রোদ গায়ে মাখানো: সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ রোদে বসার অভ্যাস করুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের জন্য জানালা খোলা রাখুন।

শারীরিক ব্যায়াম: নিয়মিত অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করতে হবে। এতে শরীর থেকে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
পুষ্টিকর খাবার ও ঘুম: ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।
এএ




