রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

এক টেবিলে আরব ও মুসলিম বিশ্ব, কী পেল ফিলিস্তিনিরা?

আবুল কাশেম
প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৯ এএম

শেয়ার করুন:

মুসলিম বিশ্বের নেতারা এক টেবিলে, কী পেল ফিলিস্তিনিরা?
সৌদিতে হাজির হন আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতারা। ছবি: আনাদুলু

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ৩৫ দিনের বেশি সময় ধরে অকাতরে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে দখলদার ইসরায়েল। এমন অবস্থার মধ্যে মুসলিম ও আরব বিশ্বের নেতারা সৌদি আরবে একত্রিত হয়েছিলেন। তবে সম্মেলনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে এখনও তারা দৃঢ় কোনো পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি।

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা গত ৩৫ দিনে ভয়াবহ হামলায় ১১ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এর মধ্যে সাড়ে চার হাজারের বেশি শিশু এবং প্রায় তিন হাজারের বেশি নারী। নিহতদের মধ্যে প্রায় সবাই বেসামরিক এবং সাধারণ ফিলিস্তিনি। ইসরায়েল যে হামাসকে নির্মূলে এই নৃসংস অভিযান পরিচালনা করছে, সেই হামাসের টিকিটিও খুঁজে পাচ্ছে না তারা। এর ফলে সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করছে।

আরও পড়ুন: হামাসের যুদ্ধ কৌশল, অবাক বিশ্ব

জাতিসংঘসহ বিশ্বের অন্যতম মানবাধিকার ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, শিশু হত্যা, সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা, মানবিক সংকট সৃষ্টিসহ ভয়াবহ সব অভিযোগ এনেছে। তারা শিগগিরই গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জানিয়েছে যে, তারা সব প্রকারভাবে ইসরায়েলের পাশে আছে এবং গাজায় তারা স্থায়ী বা দীর্ঘ সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি চায় না।

ফিলিস্তিনিদের জমি দখল করে গড়ে ওঠা ইসরায়েল গাজায় যে নৃশংসতা চালাচ্ছে, সেটি বিশ্বের যেকোনো ভয়ঙ্কর ও নৃশংসতাকে ছাড়িয়ে গেছে। হাজার হাজার শিশুকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ আহত। লাখ লাখ মানুষ তাদের বাড়ি ঘর সব হারিয়েছে। চারদিক থেকে অবরুদ্ধ গাজায় থাকা ২৩ লাখ মানুষের জন্য যে গুটিকয়েক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে সেটিও জ্বালানির অভাবে ও সরাসরি হামলার শিকার হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালের আইসিইউ, অপরিণত নবজাতদের ইনকিউবেটরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

gaza_1
স্বজনদের হারিয়ে দিশেহারা ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি/আল জাজিরা

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল শিফা হাসপাতালের ইনকিউবেটরে প্রায় ৩৯ শিশু রয়েছে। জ্বালানির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই শিশু এরই মধ্যে মারা গেছে। বাকি ৩৭ শিশু দুধের বিকল্পের অভাবে পানিশূন্যতায় ভুগছে। এমনকি তারাও মৃত্যুর অপেক্ষা করছে। এটি শুধু আল শিফা হাসপাতালের চিত্র নয়, গাজাজুড়েই এমন অবস্থা। প্রতিদিন মিশরের রাফাহ ক্রসিং দিয়ে যে পরিমাণ সহায়তা গাজায় ঢুকছে, সেটি চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

গাজা ও ফিলিস্তিনের যখন এমন অবস্থা তখন সৌদি আরবে আলোচনায় বসেছিলেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এর ৫৭দেশসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতারা। সেখানে যোগ দেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসি, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদসহ মুসলিম বিশ্বের নেতারা সম্মেলনে যোগ দেন।

আরও পড়ুন: ১০ ছেলে থাকলে সবাইকে পাঠাতাম, নিহত ফিলিস্তিনি যুবকের মা

ওআইসি এবং আরব লীগের নেতাদের নিয়ে শনিবার ও রোববার পৃথকভাবে দুটি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন পরিকল্পনা করেছিল সৌদি আরব। পরে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘গাজার নজিরবিহীন পরিস্থিতির আলোকে যৌথভাবে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের ঘোষণা দেয়।

সম্মেলনে কী বললেন মুসলিম বিশ্বের নেতারা
সম্মেলনে নেতাদের কেউ বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। কেউ কেউ ফিলিস্তিনের প্রতি আরও দৃঢ়তা প্রকাশ এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে ফিলিস্তিনিদের জন্য কী করা জরুরি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ না হলে তারা কী করবে এ বিষয়ে আসলে এসব নেতারা কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।

বৈঠকের শুরুতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর যুদ্ধ অব্যাহত রাখার নিন্দা জানান। সেইসঙ্গে তিনি অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা-সহ গাজায় মানবিক করিডোর তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

gaza_2
অকাতরে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে ইসরায়েল। মৃতদেহ রাখারও জায়গা মিলছে না। ছবি: এএফপি/আল জাজিরা

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ফিলিস্তিনে আমাদের ভাইদের বিরুদ্ধে এই বর্বর যুদ্ধ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান এবং এর নিন্দা জানায় সৌদি আরব। সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছি; যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট ইসরায়েলি লঙ্ঘন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার প্রমাণ দেয় এই বিপর্যয়।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রায়িসি বলেন, ‘গাজা যুদ্ধ হলো হক ও বাতিলের মধ্যকার যুদ্ধ। প্রত্যেককে আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কে কোন পক্ষে দাঁড়াবে। ইরানি প্রেসিডেন্ট গাজা যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাব দিতে গিয়ে আরও বলেন, আমেরিকা সরাসরি এ যুদ্ধে প্রবেশ করেছে এবং ইসরায়েলের পেছনে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলকে আত্মরক্ষার অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে যুক্তরাষ্ট্র।’

আরও পড়ুন: গাজায় শিশু হত্যা বিশ্বের নৈতিক ব্যর্থতা: রেডক্রস

সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনিরা ‘গণহত্যা যুদ্ধের’ মুখোমুখি হয়েছে। ইসরায়েলি ‘‘আগ্রাসন’’ বন্ধ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রিয়াদে যৌথ সম্মেলনে অংশ নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘গাজায় আমাদের যা দরকার তা কয়েক ঘণ্টার বিরতি নয়, বরং আমাদের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি দরকার।’

কাতারের আমির বলেছেন, তার দেশ— যেখানে কয়েকজন হামাস নেতা রয়েছেন— ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য মধ্যস্থতা করতে চাইছে। শিগগিরই গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতি হবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি। শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, ‘ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে— বিশ্ব সম্প্রদায় এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি কতদিন পোষণ করবে?’

gaza_3
শোক প্রকাশ করতেও ভুলে গেছে গাজাবাসী। ছবি: এপি/আল জাজিরা

সম্মেলনের যৌথ বিবৃতিতে কী বলা হয়েছে? 
রিয়াদ শীর্ষ সম্মেলনের বিবৃতিতে ইসরায়েলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রফতানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলনে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সিদ্ধান্তমূলক, বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

গাজায় নিরলস ইসরায়েলি হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং দখলদার বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত জঘন্য যুদ্ধাপরাধ ও নৃশংস গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছেন নেতারা। ইসরায়েলি আগ্রাসন আত্মরক্ষার কাঠামোর আওতায় পড়ে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন সম্মেলনের নেতারা।

পশ্চিমারা ইসরায়েলের পক্ষে একাট্টা, ফিলিস্তিন যেন একা!
ইসরায়েলকে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব যতটা ঐক্যবদ্ধ, তাদের পরিকল্পনা, সহযোগিতা ও প্রতিক্রিয়া যতটা দৃঢ় এবং স্পষ্ট। সেই তুলনায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম এবং আরব বিশ্ব সাগরের মধ্যে এক বালতি পানির সমান। আল-জাজিরার প্রতিনিধি হাসেম আহেলবারা সম্মেলনের বিষয়ে বলেছেন, মুসলিম নেতারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিভক্ত।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে যুদ্ধের পর গাজায় কী ঘটবে? বা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে যে মতানৈক্য ছিল - তাতে আলোচনা ও পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য অভাব ছিল। অপরদিকে যুদ্ধের আগে ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্কের স্বাভাবিককরণের বিষয়টি এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

হাসেম আহেলবারা বলেন, আমরা মুসলিম বিশ্ব এবং আরব বিশ্বের নেতাদের কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ে একমত হতে দেখিনি। এসব শীর্ষ নেতারা এখনও এ বিষয়ে একমত হতে পারেননি যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কেমন কঠোর অবস্থান নিতে হবে। গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য যুদ্ধবিরতি এবং সাহায্যের জন্য এ শীর্ষ সম্মেলনের আহ্বানের ক্ষেত্রে বলা যায় যে রিয়াদে উপস্থিত নেতাদের পক্ষে এটা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

আরও পড়ুন: হামাসের শীর্ষ নেতা কারা, শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু?

এ কারণে তাদের অপেক্ষা করতে হবে এবং আশা করতে হবে যে কখন আমেরিকানরা ইসরায়েলিদের ওপর মানবিক যুদ্ধবিরতি শুরু করার জন্য চাপ দেবে। এছাড়া মার্কিন কর্তৃপক্ষ যখন আরও মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেবে, তখন গাজার লোকেরা এসব ত্রাণ সহায়তা পাবে।

আরবদের সমর্থন হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার কারণে আরবদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন হারাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এসব দেশে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা। কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়ে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনকে সতর্ক করে তারা বলেছেন, ইসরায়েলকে সমর্থনের কারণে আরবে একটি প্রজন্মের সমর্থন হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওমানে মার্কিন দূতাবাস এ নিয়ে একটি বার্তা দিয়েছে বাইডেন প্রশাসনকে। এতে বলা হয়েছে, ‘আলোচনা করে দেখতে পাচ্ছি, এই যুদ্ধে আমরা হেরে যাচ্ছি।’ ওমান দূতাবাসের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা এ বার্তা দিয়েছেন। মূলত ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের আস্থাভাজন ও গাজা যুদ্ধকে যারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে বাইডেন প্রশাসনকে এ বার্তা দিয়েছে দূতাবাস। তারা এ-ও জানিয়েছেন, ওমানের লোকজন মনে করছেন, ফিলিস্তিনে যুদ্ধাপরাধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তাদের ভেতরে মার্কিনবিরোধী ক্ষোভ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: অবরুদ্ধ গাজা কত বড়, কীভাবে জীবন কাটে ফিলিস্তিনিদের?

সিএনএনের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওমানের ওই বার্তা হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা কাউন্সিল, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও দেওয়া হয়েছে। আবার এ বার্তা যে শুধু ওমান থেকে এসেছে, এমনটি নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকেই এমন বার্তা এসেছে।

এমন আরেকটি বার্তা এসেছে মিসরে মার্কিন দূতাবাস থেকে। এতে বলা হয়েছে, মিসরে রাষ্ট্রীয় পত্রিকা জো বাইডেনের বিষোদ্গার করেছে। তাঁরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি নিষ্ঠুরতা ও অবজ্ঞার জায়গায় আগের যেকোনো প্রেসিডেন্টকে ছাড়িয়ে গেছেন বাইডেন। 

একে

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর