শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

আলাপন

আজ পর্যন্ত আমার কোনো নাটকে ‘বিপ’ ব্যবহার করতে হয়নি: জামিল

মো. ইনামুল হোসেন
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

আজ পর্যন্ত আমার কোনো নাটকে ‘বিপ’ শব্দ ব্যবহার করতে হয়নি: জামিল
অভিনেতা জামিল হোসেনের শুরুটা ‘মীরাক্কেল’-এ। এরপর ক্যারিয়ারের খাতা খোলেন ছোটপর্দায়। শুরু থেকে হাস্যরসাত্মক চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। সম্প্রতি ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা হয় অভিনেতার। 

 

অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়তে কি প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল?

প্রত্যেকটা পেশার শুরুতে একটু হোঁচট খেতে হয়। দাঁড়াতে সময় লাগে। আমারও হোঁচট খেতে হয়েছে। 

মীরাক্কেল থেকে আসা অনেকে স্ট্যান্ডআপ কমেডিতে স্থায়ী হননি কী কারণ বলে মনে হয়? 

ইদানীং স্ট্যান্ডআপ কমেডিকে পেশা হিসেবে নেওয়া যাচ্ছে। এখন বিভিন্ন শো চালু হয়েছে। আমরা যখন এসেছিলাম, তখন সুযোগগুলো ছিল না। ফলে অনেকে স্ট্যান্ড আপ কমেডিটা কন্টিনিউ করতে পারেনি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ইচ্ছা ছিল অভিনয় করব। যে কারণে স্ট্যান্ড আপ কমেডি ছেড়ে অভিনয়ের দিকে চলে গেছি। কাজের পরিবেশ গড়ে উঠলে সামনে আরও ভালো হবে। দেশের স্ট্যান্ড আপ কমেডি থেকে শুরু করে ইউরোপ, আমেরিকা ও পার্শ্ববর্তী দেশের কমেডি মানুষ উপভোগ করছেন। দর্শক এগুলো যত বেশি উপভোগ করবেন এ পেশার জন্য তত ভালো হবে। 

image

স্বামী-স্ত্রী মিলে কনটেন্ট নির্মাণ করেন। এটি অভিনয়শিল্পীর ভাবমূর্তিতে কোনো প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন?

কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর মূলধারার অভিনয়শিল্পীর কাজের মধ্যে কিছুটা তফাত আছে। শিল্পীরা কনটেন্ট করলে কেমন দেখায়, তা নির্ভর করে আর্টিস্টের ওপর। আমার কাজের ভিত্তি কমেডি, ছোটখাটো নানা বিষয় নিয়ে পর্যবেক্ষণ থাকে। সেগুলো নাটকে আনা কঠিন। যে কারণে পর্যবেক্ষণগুলো এক করে কনটেন্ট বানাই। এতে ভাবমূর্তির ওপর কতটুকু প্রভাব পড়ে তা কখনও ভাবিনি। বিষয়টি ঠিকঠাক-ই মনে হয়। পর্দায় একটি চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলতে অনেক সময় পাওয়া যায়। কিন্তু কনটেন্টের ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যে একটি বিষয় মানুষের সামনে তুলে ধরতে হয়।

অনেকে শুটিংয়ের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। নির্মাতা-প্রযোজকদের অনেকে বিষয়টি ভালোভাবে নেন না। আপনি কীভাবে দেখেন? 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শুটিংয়ের দৃশ্য আগে থেকে দিয়ে দিলে দুটি সমস্যা হয়। প্রথমত, মূল কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যায়। দ্বিতীয়ত, পরিচালক বা প্রযোজক যে জিনিসটা আগে দেখাতে চান না সেটা বাইরে চলে আসে। অবশ্য প্রচার করাটা খুব জরুরি, যা আগেও ছিল। এখন অনেক প্রচারের মাধ্যম হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, ‘আমার প্রচারের দরকার নেই’। আবার অনেকে বলেন, ‘এগুলো প্রচার করেন। ছোট ক্লিপ দেখে মানুষ বড় নাটকগুলো দেখতে আসে।’ আসলে দেখার জায়গাটা একেক জনের একেক রকম। প্রযোজক যদি মনে করেন, তাঁর নাটক মানুষ সরাসরি দেখবেন তাহলে পরিচালককে বলে দিলে হয়, ‘নাটক বা সিনেমার ফুটেজ যেন বাইরে না যায়।’ শুটিংয়ের দৃশ্য শুধু তো শিল্পীরা না, অনেক সময় ক্যামেরাম্যান বা লাইটম্যানরা ফাঁস করে দেয়। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, ক্যামেরা এবং লাইটের লোকজন মোবাইল দিয়ে লুকিয়ে ভিডিও করে নিজেদের পেজে ছেড়ে দিচ্ছে। এটা আটকানো কঠিন।

image

ক্যারিয়ারের আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে গিয়ে ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে কী ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে?

অভিনয় পেশায় কাজ করতে পরিবারকে সময় দেওয়া সম্ভাব হয় না। বাবা-মা, ভাই-বোনদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়। অনেক সিনিয়র শিল্পীর জীবনেও এমন হয়েছে— কখন বাবা-মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী চলে গেছে কিংবা বোন কবে মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছে তা অনেকের মাথায় থাকে না। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজের চাপে থাকি। পরিবারের সান্নিধ্য খুব মিস করি। অনেক সময় ভাই-বোনের সাথে কথা বলতে পারি না। ওঁরা ফোন দিতেও ভয় পায়! ভাবে আমি হয়তো শুটিংয়ে আছি। পরিবারকে ইচ্ছা করে দূরে রাখতে হয় না, কাজের চাপে এমনিতেই হয়ে যায়।

‘ঘর জামাই’, ‘ইতালি জামাই’, ‘দারোগা জামাই’, ‘কিশোরগঞ্জের জামাই’, ‘এলাকার জামাই’— ‘জামাই’ যুক্ত শিরোনামের একাধিক নাটকে আপনাকে দেখা গেছে। এরকম নামের কারণে দর্শক প্রায়ই নেতিবাচক মন্তব্য করেন… 

এ ধরনের নাম বেছে নেওয়ার একমাত্র কারণ দর্শককে আকর্ষণ করা। এর বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। সবকিছু তো দর্শকের জন্য। তারা যদি নেতিবাচক মন্তব্য করেন, আমার কিছু বলার নেই।  

এক ধাচের নামের কারণে নাটকের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে… 

গুণগত মান আসলে কীসের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে— সেটাই আমার প্রশ্ন। বড় বাজেটের কাজগুলোতে যে ধরনের ডায়লগ ব্যবহার করা হয়, সেগুলো কি মানসম্মত? আমার নাটকের নামগুলো একটু অন্যরকম বা ক্ষ্যাত টাইপের বলে এগুলোর গুণগত মান খারাপ হয়ে গেল? আমার কোনো নাটকে আজ পর্যন্ত ‘বিপ’ শব্দ ব্যবহার করতে হয়নি। কখনও খারাপ শব্দ উচ্চারিত হয়নি। হ্যাঁ, নামগুলো কিছুটা ‘ক্ষ্যাত’ মনে হতে পারে কিন্তু নাটকগুলো পরিবার নিয়ে দেখতে পারবেন। অনেকে সেন্সরের ভয়ে পুরো নাটকে ‘বিপ’ শব্দ দিয়ে রাখে। ওগুলো কি খুব উচ্চমানের নাটক?

image

আপনাকে  কমেডিধর্মী চরিত্রে বেশি দেখা যায়। কারণ কী? 

কমেডি অভিনয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। মনে হয় এই ধারায় আমি আমার সেরাটা দিতে পারি। কমেডি বেশ কঠিন কাজ। ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে না পারলে পুরো অভিনয় নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া প্রযোজক ও পরিচালকরাও ঝুঁকি না নিয়ে নিরাপদ থাকতে চান। তারা ভাবেন— ‘জামিল তো কমেডি ভালো করে। তাকে দিয়ে কমেডি চরিত্র করানো যাক।’ এ কারণে কমেডি নাটকের সংখ্যা বেশি। সম্প্রতি অনেকগুলো সিরিয়াস চরিত্রে কাজ করেছি। দর্শক, প্রযোজক ও পরিচালকরা চাইলে অবশ্যই সিরিয়াস চরিত্রে অভিনয় করব। একজন অভিনেতা হিসেবে সব সময় চরিত্রের মধ্যে ভিন্নতা চাই। আমি কাজের মূল ভিত্তি ঠিক রেখে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করতে আগ্রহী।  

আপনার অভিনীত নাটকগুলোতে অন্যদের তুলনায় মুনমুন আহমেদকে বেশি দেখা যাওয়ার কারণ কী? 

মুনমুন আহমেদ একজন ভালো অভিনেত্রী। তাঁর মধ্যে একটি বিশেষ গুণ বেশি রয়েছে— তিনি নোয়াখালী, বরিশাল ও কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা খুব ভালো বলতে পারেন। পাশাপাশি নিজের চরিত্রটি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, তিনি কাজের প্রতি ভীষণ আন্তরিক। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সিনসিয়ার থাকার চেষ্টা করেছি। যেটি মুনমুনের মধ্যেও দেখেছি। এ কারণে তাঁর সঙ্গে কাজের পরিমাণ বেশি। তাছাড়া উনি আমার স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী বলে একসঙ্গে কাজ বেশি হয়। তবে পরিচালক, প্রযোজকরা চাইলে অন্য শিল্পীদের সঙ্গেও কাজ করি। অনেক সময় গল্পের খাতিরে প্রযোজকরা নিজের থেকে বলেন, ‘আপনারা জুটি আছেন। আপনাদের নিই।’

image

আপনাকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে না কেন? 

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম খুব টানে। সত্যি বলতে, ওখানকার বাজেট, পরিকল্পনা, শুটিংয়ের ধরন, চরিত্র তৈরি— আকর্ষণ করে। তবে ওটিটির নির্মাতাদের সঙ্গে আমার একধরনের দূরত্ব রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির রীতি, যাদের সঙ্গে কাজ করতে চান তাঁদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখতে হয়। কিন্তু ওটিটি নির্মাতাদের সঙ্গে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে হাই-হ্যালো নেই। হয়তো এ কারণে তাঁরা জানেন না ওটিটিতে কাজ করার আগ্রহ আছে। আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই— ওটিটির পরিচালকরা যদি চান তবে অবশ্যই কাজ করতে প্রস্তুত আছি। অনেকে ভাবেন মাসে ৩০ দিন নাটকের শুটিং করি। তাহলে ওটিটি করব কীভাবে? আসলে বিষয়টি তেমন নয়। একজন অভিনেতা হিসেবে ভালো চরিত্র জন্য সবসময় অপেক্ষা করি। ভালো একমাত্র ওটিটি ও ফিল্মে পাওয়া সম্ভব। যারা ভালো ফিল্ম বা ওটিটি কনটেন্ট বানাচ্ছেন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বললে চলে। তবে ব্যাটে-বলে মিলে গেলে দেখবেন কোনো এক সময়ে ওটিটিতে নিয়মিত কাজ করছি। 

বর্তমান ব্যস্ততা 

অভিনয়ে বেশি সময় কাটছে। পাশাপাশি ‘জামিল জু প্রোডাকশন’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে। সেখানে নিজের গল্প নিয়ে কাজ করছি। এছাড়া ‘জামিল মিউজিক’ নামে একটি মিউজিক চ্যানেল রয়েছে। ছোটবেলা থেকে টুকটাক গান করতাম। বাবাও গান করতেন। তাঁর অনুপ্রেরণাতে গান করা। সম্প্রতি নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছি। শরীফ রাফাতের মিউজিকে ওয়েস্টার্ন ফ্লেভারে দুটি নজরুল সংগীত করেছি। গান দুটি হলো— ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার’ এবং ‘আলগা করো গো খোপার বাদন’। গান দুটি ‘জামিল মিউজিক’-এর ব্যানারে আসবে।

ইএইচ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর