শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

আলাপন

শুধু টাকার জন্য কাজ করা আমার উদ্দেশ্য না: শামীম সরকার

মো. ইনামুল হোসেন
প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

শুধু টাকা জন্য কাজ করা আমার উদ্দেশ্য না: শামীম সরকার
চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে জুড়ি মেলা ভার ছোটপর্দার অভিনেতা শামীম হাসান সরকারের। দীর্ঘ বিরতির পর জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর পঞ্চম সিজনে ‘আরেফিন’ চরিত্রে ফিরেছেন তিনি। পাশাপাশি ম্যাঙ্গো স্কোয়াডের কনটেন্টেও দেখা গেছে তাকে। ঢাকা মেইলের সঙ্গে ফোনালাপে অভিনেতার ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিসহ নানা দিক উঠে এসেছে। 

লম্বা সময় পর ‘ম্যাংগো স্কোয়াড’-এর কনটেন্ট প্রকাশ করলেন। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

ভালো। দর্শকরা পছন্দ করছে। তাঁদের ভালো ভালো মন্তব্য আমাকে উৎসাহ জোগায়।

বিলম্বের কারণ কী? 

তিনটি নাটক প্রডিউস করেছিলাম। পরে নির্বাচন হলো। তখন দর্শক শুধু নিউজ দেখছিলেন। মানুষ না দেখলে নাটক প্রকাশ করে লাভ নাই। পরীক্ষামূলকভাবে তিনটা নাটক বানানোর চেষ্টা করছি। ‘আতা অ্যান্ড তোতা ব্রাদার’ এবং ‘ম্যাংগো ডান্স ক্লাব’— দুটি নাটক আপলোড হয়েছে। আরেকটা পেন্ডিং আছে। এছাড়া আগে যে ধরনের ভিডিও বানাতাম— ‘অস্থির বাড়িওয়ালা’, ‘অস্থির ফ্যান’, ‘অস্থির সেলুন’, ‘অস্থির দোকানদার’— ওই টাইপের ভিডিও আবার বানাব ইনশাল্লাহ।

image

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকে বিরতি ভেঙে ফেরার সময় দর্শকরা কেমন সমাদর করবে তা নিয়ে কোনো সংশয় কাজ করছিল?

না, এরকম কোনো সংশয় ছিল না। যেটা হওয়ার সেটাই হয়েছে। কোনো সংশয়-টংশয় নাই। সংশয় থাকলে তা প্রকাশ করতাম।

আরেফিন চরিত্রটি আপনার ক্যারিয়ারে কতটা অবদান রেখেছে? 

১০০ ভাগ অবদান রেখেছে। দেশ-বিদেশের অনেক জায়গায় যখন হেঁটে যাই, মানুষ আমাকে ‘আরেফিন’ বলে সম্বোধন করে। তারা ‘আরেফিন ভাই’ বলে ডাকে, ছবি তোলে এবং ভালোবাসা জানায়।

আরেফিন চরিত্রটি নাটকে কতটা অবদান রাখে বলে মনে করেন?

গ্রুপ ওয়ার্কে প্রত্যেক চরিত্রই সমান অবদান রাখে। আমি আলাদা কিছু না। সবার অবদানে বড় কিছু হয়েছে। এজন্য মানুষ ভালোবাসা দিচ্ছে। একা কাউকে দেখলে এত জমত না। ফুটবলের মতো একটা বল পাস দিয়ে দিয়ে একসাথে খেললাম। যার যার ক্যারেক্টার ও ডায়ালগ ডেলিভারি আলাদা। প্রত্যেকেই মজার। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককেই ভালো লাগে।‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকের সফলতা কিংবা ক্যারেক্টার তৈরির পেছনের মূল কারিগর হলেন পরিচালক কাজল আরেফিন অমি। এই ক্রেডিট সম্পূর্ণ তাঁর। তিনিই সবাইকে বেছে নিয়েছেন কে কোন চরিত্রে অভিনয় করবেন। 

image

নাটকে আরেফিন তাঁর স্ত্রী মাহাকে মডেলিং করতে দিতে চায় না। বাস্তবে এমন নজির আছে। নারীদের ঘরবন্দি করার ব্যাপারটা আপনি কীভাবে দেখেন?

ব্যক্তিগত জীবনে আমি এর বিপক্ষে। আমি অ্যাপ্রিশিয়েট করি যে মেয়েরা কাজে যাবে। ঘরবন্দি করে রেখে লাভ কী? ২০২৬ সালে এটা সম্ভব না। এখন ছেলে-মেয়ে উভয়ই কাজ করতে যাচ্ছে। আমার ফ্রেন্ডরা সবাই কাজ করছে। যারা কাজ করে সংসারে অবদান রাখে, তাদের আমি অ্যাপ্রিশিয়েট করি।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ছাড়া অন্য কোনো ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে না কেন?

অন্য কোনো ধারাবাহিকে কাজ করে কী লাভ? আগে ১৩-১৫টি সিরিয়াল করেছি, কোনোটাই তেমন হিট হয়নি। আমি মনে করি, যেটা সেরা সেখানেই থাকা উচিত। শুধু টাকা আয়ের জন্য প্রতিদিন কাজ করা আমার উদ্দেশ্য না। এখন নাটকের গল্প পছন্দ হচ্ছে না। গল্পের কোনো উন্নতিও নেই। ২০২৬-এ এসে সবার একটু পড়াশোনা করা উচিত। গল্পের গভীরতা নিয়ে ভাবা দরকার। সেই সাথে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ শেখা উচিত। সবাই শুধু কাজ করতে চায় কিন্তু নিজেকে আপগ্রেড করে না।

image

ওটিটিতে দেখা যাচ্ছে না কেন? কোনো প্রস্তাব আসেনি?

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ওটিটিতে যাচ্ছে। আর যে সিঙ্গেল প্রজেক্টের কথা বলছেন, সেটা আমার হাতে না। আমি ওটিটির মালিকও না। আমাকে না ডাকলে কাজ পাওয়ার জন্য আমি কেন অফিসে গিয়ে বসে থাকব? আমি যেখান থেকে এসেছি, আমার পক্ষে কোথাও গিয়ে বসে থেকে কাজ করা সম্ভব না। আজ পর্যন্ত ওটিটি থেকে কেউ আমাকে একটা ছোট ক্যারেক্টারের জন্য ডাকেনি।

ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল?

যুক্তিযুক্ত ছিল, না হলে আল্লাহ আমাকে এখানে রাখতেন না। আল্লাহর রহমতে আমার কোনো ইঞ্জিনিয়ার বন্ধু আমার চেয়ে ওপরে যায়নি। অনেকেই দেশ-বিদেশে চাকরি করছেন। পিএইচডি করে অন্য জায়গায় স্থায়ী হয়ে গেছেন। আমার অর্থ, সম্মান এবং মানুষের ভালোবাসার মূল্য নির্ধারণ করলে আমি ডক্টর-ইঞ্জিনিয়ারদের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছি। আমি ক্লাস সেভেন থেকে অভিনয়ের সাথে যুক্ত। ২০০১ সাল থেকে মঞ্চনাটক করতাম। ২০১৩ সালে একজন ইউটিউবার হিসেবে ক্যামেরার সামনে এসেছি। টিভিতে ২০১৫ সালে। আমি জানতাম অভিনয় করব। যার যা মনের বাসনা আল্লাহ সেটাই পূরণ করেন। আমি আনন্দিত। কেউ যদি টিভিতে নাও রাখত, ইউটিউব চ্যানেলে অভিনয় করে সারাজীবন নিজেকে মানুষের কাছাকাছি রাখতে পারতাম।

image

অনেকের মতে নাটকের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাওয়ায় সংখ্যা কমে গেছে। এতে কি শিল্পীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন?

আমরা মাসিক চুক্তিভিত্তিক বেতন পাই না। প্রতিদিনের কাজের ওপর নির্ভর করে সম্মানী পাই। যদি একজন শিল্পী তাঁর কাজের গুণগত মানের দিকে নজর দেন, তাহলে তাঁকে অবশ্যই কমপ্রোমাইজ করতে হবে। পকেটে টাকা আসবে না, বাসায় বসে থাকতে হবে। তাহলে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইএইচ/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর