মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

আলাপন

“পাতার বাঁশরী’ কোক স্টুডিওতে সিলেক্ট হওয়ার দুই দিন পর জানতে পারি”

মো. ইনামুল হোসেন
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

“পাতার বাঁশরী’ কোক স্টুডিওতে সিলেক্ট হওয়ার দুই দিন পর জানতে পারি”
কণ্ঠে সুনিপুণ সুরের খেলা সুনিধি নায়েকের। ফুলের মতো সুবাস ছড়ায় তাঁর গায়কী। এর আগে ‘সন্ধ্যাতারা’ হয়ে জ্বলেছিলেন কোক স্টুডিও বাংলায়। এবার ‘পাতার বাঁশরি’ দিয়ে সম্মোহিত করছেন শ্রোতাদের। সেই সূত্র ধরে গায়িকার সঙ্গে আলাপ জমেছিল ঢাকা মেইলের।

 

‘পাতার বাঁশরী’র সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্পটা জানতে চাই।

‘পাতার বাঁশরী’-এর সঙ্গে আকস্মিকভাবে যুক্ত হওয়া। ঈশান একদিন ফোন দিয়ে জানাল সে একটি গান বানাচ্ছে। তখন পুরোটা তৈরি হয়নি। একটি স্তবক লেখা হয়েছিল। বলল, ‘আমি চাই তুমি গানটা শোনো। পছন্দ হলে জানিও।’ আমি শুনলাম। বেশ ভালো লাগল। তারপর স্টুডিওতে গিয়ে আলোচনা করলাম। তখনও জানতাম না গানটি কোথায় যাবে। মনের তাগিদে বানাচ্ছিলাম। ছয়-সাত মাস আগের কথা। গানটা কখন কোক স্টুডিওর জন্য নির্বাচিত হয়েছে জানতাম না । সিলেক্ট হওয়ার দুই দিন পর জানতে পারি। 

ঈশান মজুমদারের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন? 

ঈশান অনেক মেধাবী। ওঁর লেখা খুব ভালো লাগে। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও সুন্দর। এই সময়ে ওর জেনারেশনের অন্য কেউ ওর মতো এত সুন্দর গান লিখতে পারবে কি না আমি জানি না।

image

দর্শকদের প্রশংসা কেমন লেগেছে?

‘পাতার বাঁশরী’ প্রকাশের পর থেকে দর্শকরা যেভাবে ভালোবাসা দিচ্ছেন, খুব ভালো লাগছে। সুন্দর সুন্দর মতামত পড়ে আনন্দ পাচ্ছি। গান বানানোর সময় খুব একটা প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করি না। বিশ্বাস করি জীবনে অনেক বানিয়েছি এবং আরও গান বানাব। স্বাভাবিকভাবে সব গান সবার ভালো লাগবে না। প্রতিটি গানের আলাদা আলাদা শ্রোতা থাকে। ‘পাতার বাঁশরী’ গানটির সঙ্গে মানুষ নিজেদের যুক্ত করতে পারছেন, দেখে ভীষণ ভালো লাগছে।

কেউ কেউ দাবি করছেন, আবিদা সুলতানার ‘একি বাঁধনে বলো জড়ালে আমার’ গানের সুরের সঙ্গে মিল রয়েছে… 

‘পাতার বাঁশরী’ নির্দিষ্ট একটি রাগের ওপর তৈরি। এর সঙ্গে আরও অনেক গানের মিল পাবেন। এটা সুরের না, চলনের মিল। যখন গানগুলো একই রাগে বাঁধা হয় তখনই চলনের মিল পাওয়া যায়। আমার নতুন গানের সঙ্গে  ‘কা করুন সজনি আয় না বালাম’-এরও মিল পাবেন। অনেক ভজনের মিল পাবেন। তার মানে এই না যে, সুরের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে বলে ওই গান থেকে অনুপ্রাণিত। একটি রাগ থেকে অনুপ্রাণিত। একই রাগের ওপর তৈরি বলে একটি গান শুনলে আরেকটির হুবহু নকল মনে হয়। আসলে তা না।

image

কোক স্টুডিওতে এটা আপনার দ্বিতীয় গান। দ্বিতীয় সিজনে ‘সন্ধ্যাতারা’ গেয়েছিলেন। প্ল্যাটফর্মটির কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করলেন?

কোক স্টুডিও বাংলায় এটা আমার দ্বিতীয় গান। তবুও কেন জানি না, মানুষ আমাকে গালাগালি করে বলে, আমি নাকি শুধু কোক স্টুডিওতেই গাই! অথচ অনেক শিল্পী আছেন, যারা কোক স্টুডিওতে আমার চেয়ে বেশি গান গেয়েছেন। কিন্তু আমি চাই না কোক স্টুডিওতে গাইতে। কারণ আমি গাইলেই মানুষ ভাবে, প্রথম থেকে যুক্ত বলে আমাকে বারবার গান দেওয়া হয়। বাস্তবতা একদম ভিন্ন। ‘সন্ধ্যাতারা’র গল্পও আলাদা ছিল। আর ‘পাতার বাঁশরী’ তো নিজেদের গান। এটা কোক স্টুডিও বাংলা কেন নিয়েছে আমার জানা ছিল না। যাই হোক, মানুষের কথা তো মানুষ বলবেই!

প্ল্যাটফর্মটি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। প্রথম সিজনের অনুভূতি বারবার ফিরে আসে না। প্রথম সব-ই একটু বেশি স্পেশাল হয়। কোক স্টুডিও যখন প্রথম বাংলাদেশে এলো, তখন নতুন এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল। খুব এক্সাইটেড ছিলাম। তখন আমাদের স্টুডিও এত বড় ছিল না। পরে চমৎকার একটি স্টুডিও তৈরি করি। সেখানে এখন সবাই মিলে কাজ করি। সময়ের সঙ্গে যে পরিবর্তন এসেছে তা ইতিবাচক। শুধু প্ল্যাটফর্ম বড় হয়নি, আমরা যারা মিউজিক ডিরেক্টর এবং প্রোডাকশন টিমের কাজ করছি, তাদের কাজের পরিধি, অভিজ্ঞতা—দুটোই বেড়েছে। যা ভবিষ্যতে কাজে দেবে বলে মনে করি।

image

কোক স্টুডিওর গান নিয়ে মাঝে মাঝে সমালোচনা হয়। শিল্পীসত্তার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে?

গান নিয়ে সমালোচনা ভালো। কিন্তু শিল্পীকে কটাক্ষ করা, ভুলভাল কথা বলে বডিশেম করা—এগুলো একটু ডিস্টার্বিং। আমরা দর্শকদের পরিবর্তন করার কেউ না। আমরা আমাদের কাজ করে যাব। প্রার্থনা করব, মানুষের কটাক্ষ যেন শিল্পীসত্তার ওপর প্রভাব না ফেলতে পারে। 

অভিনয়-সংগীত সমানতালে চালিয়ে যাওয়া কতটা চ্যালেঞ্জিং?

তিন বছর বয়স থেকে গান করছি। মিউজিক আমার কাছে সাধনার মতো। আমি ডান্স-ড্রামা নিয়ে পড়াশোনা করেছি। তাই অভিনয়টা আমার অনেক কাছের। দুটি কাজ একসঙ্গে করা চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমার ভালো লাগে। সারাদিন পর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় মনে হয় আমার বসে থাকার সময় নেই। সকালবেলা বিছানা ছাড়ি আর রাতে গিয়ে বিছানায় বসি। সারাদিন বসার সময় পাই না। জিনিসটা এখন এনজয় করছি। বয়সটা এখন কাজ করার। যদি ভালো স্ক্রিপ্ট বা চরিত্র পাই, তাহলে সিনেমা করব; নাহলে সিনেমায় নিয়মিত হতে চাচ্ছি না। এখনও স্ক্রিপ্ট পড়ছি। অনেকগুলো স্ক্রিপ্ট জমেছে। সেগুলোও পড়তে হবে। দেখি, সামনে কী হয়।

ইএইচ/আরআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর