মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

নানান চরিত্রে ভ্রমণের মধ্যেই অভিনয়ের আসল আনন্দ: ফজলুর রহমান বাবু

মো: ইনামুল হোসেন
প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

নানান চরিত্রে ভ্রমণের মধ্যেই অভিনয়ের আসল আনন্দ: ফজলুর রহমান বাবু

হৃদয় কাটা ছেঁড়ার ধকল কাটিয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। আগামী ১৭ জুলাই মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘মাস্তুল’। রাশিয়া, মস্কোসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে ছবিটি। গতকাল সোমবার অভিনেতার সঙ্গে ফোনালাপে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় ঢাকা মেইলের। 

আপনার শারীরিক অবস্থা এখন কেমন?


বিজ্ঞাপন


বড় অপারেশন তো, তাই কাটার জায়গায় এখনও ব্যথা আছে। তবে এখন ভালো আছি। যদিও ভারী কাজ বা পরিশ্রমের শুটিং করার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। বেশি মুভমেন্ট করতে হয়— এমন শুটিংয়ে ফিরতে হয়তো এক-দুই মাস সময় লাগবে। 

‘মাস্তুল’ সিনেমার একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন...

গানটি অসুস্থ অনেক আগে গেয়েছিলাম। সিনেমার প্রমোশনের জন্য করা হয়েছিল। ‘আমায় ভাসাইলি রে’ -এর কিছু অংশ ব্যবহার করা হবে। সিনেমাটিও অনেক আগে তৈরি। গত বছর মস্কো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও অংশ নিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


image

পল্লিকবির গান নতুনভাবে গাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ছোটবেলা থেকেই গানটি শুনে বড় হয়েছি। নতুন সংগীতায়োজনে আমি নিজের মতো করে গাওয়ার চেষ্টা করেছি। যেন প্রমোশনে এবং চরিত্রের ভাবনার সঙ্গে মিলে যায়। তবে মূল সুর অক্ষত রেখেই গেয়েছি।

গান নিয়ে পরিকল্পনা 

জীবন শেষের দিকে। নতুন করে আর কী পরিকল্পনা করব! মূলত আমি একজন অভিনেতা, অভিনয়ই করি। তবে একজন অভিনেতাকে গানের চর্চা করতে হয় সেই জায়গা থেকে গাওয়া। আমি অল্প কয়েকটি গান করেছি। সেগুলো দর্শক-শ্রোতারা পছন্দ করেন। এটা আমার সৌভাগ্য। বড় স্বস্তি। তবে গান নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। 

জীবনের এক পর্যায়ে অনেকে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করেন অনেকে। আপনার কী মনে হয়? 

আমি অভিনেতা হতে চেয়েছিলাম। হতে পেরেছি। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিতে পেরেছি। বাংলাদেশের মতো জায়গায় খুব কম মানুষ নিজের পছন্দের কাজকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ পায়। আমি সেই অল্প কিছু সৌভাগ্যবান মানুষের একজন। অভিনয়ে এসে মানুষের ভালোবাসা, সম্মান, খ্যাতি এবং আর্থিক সচ্ছলতা— সব পেয়েছি। তাই আমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কোনো আক্ষেপ নেই। যা আছে তা হলো ভালো কাজের আকাঙ্ক্ষা।

image

অর্থ সংকটের কারণে ‘মাস্তুল’-এর মুক্তি আটকে ছিল। যেহেতু আর্থিক সংকটের কথা উঠেছে, তাই জানতে চাওয়া— আপনি কি পারিশ্রমিক ঠিকঠাক পেয়েছেন?

আমরা প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে সম্মানীতে ছাড় দিয়েছি। চলচ্চিত্রের প্রতি কমিটমেন্টের জায়গা থেকে কাজটি করেছি। চুক্তির সময় যদি বলি আমাকে দুই টাকা দেওয়া হোক, আর সেই দুই টাকা যদি পাই, তবে তো বলাই যায় ঠিকঠাক সম্মানী পেয়েছি। পরিচালক কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ছবিটি বানাননি। বানিয়েছেন প্যাশন থেকে। আমরাও চাই দেশে ভালো ছবি হোক, যা আন্তর্জাতিকভাবে সম্মান বয়ে আনবে। অর্থ সংকটে পড়তে হয়েছিল সিনেমাটির পোস্টার, প্রচার-প্রকাশনার খরচে। তাছাড়া এ ধরনের ভিন্নধারার চলচ্চিত্র যারা বানান, তাঁদের অর্থ সংকট থাকেই।

ছবিটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহে কতটা সাড়া ফেলবে বলে মনে করেন?

আমরা আশাবাদী। বর্তমানে দর্শকরা বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন ঢঙের গল্পের সিনেমাগুলোও দেখছেন। যেমন— ‘রইদ’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ‘উৎসব’। ওই জায়গা থেকে আমি আশাবাদী যে গ্ল্যামারের বাইরে গিয়ে পরিচালকের ভিন্নভাবে গল্প বলার চেষ্টাটি দর্শক পছন্দ করবেন।

image

উৎসব ছাড়া ‘মাস্তুল’ মুক্তি দেওয়াটা কি একটু ঝুঁকিপূর্ণ নয়?

কিছুটা ঝুঁকি তো আছেই। ঈদ বা বড় কোনো উৎসব ছাড়া ছবি রিলিজ না হওয়া আমাদের চলচ্চিত্রের একটা সীমাবদ্ধতা। অথচ একটা সময় ভালো ছবি হলে মানুষ যেকোনো সময় প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখত। আমরা চাই সেই পুরোনো দিনগুলো ফিরে আসুক। সবাই যদি একই ধারার মধ্যে আটকে থাকি, তাহলে পরিবর্তন আসবে না। কাউকে না কাউকে তো প্রথা ভেঙে নতুন করে ভাবতে হবে।

‘মাস্তুল’ সিনেমার গল্পটি আবর্তিত হয়েছে নদী ও ভাসমান মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে। ছবিতে অভিনয়ের আগে ভাসমান মানুষদের জীবন কি সরাসরি দেখার সুযোগ হয়েছিল?

সরাসরি ওইভাবে দেখার সুযোগ হয়নি। তবে এই ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে তাঁদের জীবনটাকে খুব কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করেছি।

image

এক চরিত্র থেকে অন্য চরিত্রে প্রবেশ কতটা চ্যালেঞ্জের? 

চ্যালেঞ্জিং তো বটেই। প্রতিটি চরিত্র আমার জন্য নতুন পরীক্ষা। দর্শকরা হয়তো ভাবেন আমি ভালো অভিনয় করি বা সব পারি, কিন্তু মানুষের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। আমি যদি মনে করি সব পারি, তবে আমি কিছুই পারি না। আমাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু সৃষ্টির চেষ্টা করতে হয়। তার জন্য পরিশ্রম করতে হয়। চরিত্র নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হয়। তবে এক চরিত্র থেকে অন্য চরিত্রে গিয়ে সেটাকে দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা এবং একই মানুষ হয়ে নানান চরিত্রে ভ্রমণ করার মধ্যে অভিনয়ের আসল আনন্দ লুকিয়ে আছে।

অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এরমধ্যে নিজের প্রিয় কোনটি? 

নির্দিষ্ট করে একটি চরিত্রের নাম বলা কঠিন। অনেক চরিত্রই আমার প্রিয়। ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘আহা!’, ‘স্বপ্নজাল’, ‘মনপুরা’ সিনেমার কথা বলা যায়। এই চরিত্রগুলো আমাকে দারুণ তৃপ্তি দিয়েছে।

ইএইচ/আরআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর