Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

এমবাপেকে কত পয়েন্টে হারিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কেইন, অন্যরা কে কত

স্পোর্টস ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে শেষ হাসি হেসেছে হ্যারি কেইন। তবে পুরস্কারটি জিততে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ ফরোয়ার্ডকে যে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে, ভোটের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশের পর তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে কিলিয়ান এমবাপেকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কেইন। দুই তারকার মধ্যে এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এবারের আসরকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকী ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের পূর্ণাঙ্গ ভোটের ফল প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন কেইন। অন্যদিকে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা এমবাপে। ৮৮১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বার্সেলোনার তরুণ স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল।

এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসরে কেইনের নাম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই সম্মাননা পেলেন তিনি। তবে পুরস্কার ঘোষণার সময় ভোটের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ না করায় কেইন ও এমবাপের মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে কৌতূহল ছিল সমর্থকদের।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, শুধু মোট পয়েন্টেই নয়, প্রথম পছন্দের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিলেন বায়ার্ন তারকা। ১০০ জন নির্বাচিত সাংবাদিকের মধ্যে ৪০ জন কেইনকে প্রথম স্থানে রেখেছেন। বিপরীতে এমবাপে পেয়েছেন ২৩টি প্রথম স্থানের ভোট। আর ইয়ামালকে সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছেন ১৩ জন ভোটার।

তবে ভোট গণনার পুরো সময় কেইনের অবস্থান যে শীর্ষে ছিল, তা নয়। ফ্রান্স ফুটবলের প্রধান সম্পাদক ভিনসেন্ট গার্সিয়া জানিয়েছেন, গণনার একটি পর্যায়ে এমবাপে এগিয়ে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ভোটের হিসাব পরিবর্তিত হলে ব্যবধান পেরিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন কেইন। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত অল্পের জন্যই হাতছাড়া হয়েছে এমবাপের প্রথম ব্যালন ডি’অর।

এবারের ২৮ পয়েন্টের ব্যবধান ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে চতুর্থ ক্ষুদ্রতম ব্যবধান। ২০২৪ সালে রদ্রি ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের লড়াইয়ে ব্যবধান ছিল ৪১ পয়েন্ট। সেবার ১ হাজার ১৭০ পয়েন্ট নিয়ে পুরস্কার জিতেছিলেন রদ্রি, আর ভিনিসিয়ুস পেয়েছিলেন ১ হাজার ১২৯ পয়েন্ট। তবে ইতিহাসের সবচেয়ে কম ব্যবধানের রেকর্ডটি এখনো ২০১৯ সালের, যখন লিওনেল মেসি মাত্র ৭ পয়েন্টের ব্যবধানে ভার্জিল ফন ডাইককে হারিয়েছিলেন।

এদিকে এবারের ভোটে তৃতীয় হওয়া ইয়ামাল পেয়েছেন ৮৮১ পয়েন্ট। তার পরেই রয়েছেন স্পেনের আরেক তারকা রদ্রি, যার সংগ্রহ ৭২৬ পয়েন্ট। পঞ্চম স্থানে থাকা আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির ঝুলিতে জমা হয়েছে ৬১২ পয়েন্ট।

শীর্ষ দশের অন্য ফুটবলারদের মধ্যে ষষ্ঠ হয়েছেন পিএসজির খভিচা কাভারাস্কেইয়া। তার পয়েন্ট ৫৪১। ৪১৮ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছেন উসমান দেম্বেলে। ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ড ৩৭৮ পয়েন্ট পেয়ে অষ্টম হয়েছেন। নবম স্থানে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসের পয়েন্ট ২৯৬। আর ২০১ পয়েন্ট নিয়ে দশম হয়েছেন পিএসজির ফাবিয়ান রুইজ।

শীর্ষ দশের বাইরে রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহাম ১০৭ পয়েন্ট নিয়ে একাদশ স্থানে রয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অবস্থান ১৭তম, তার সংগ্রহ মাত্র ২৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার লাউতারো মার্তিনেস ১১ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করেছেন ২২তম স্থানে।

নারীদের ব্যালন ডি’অরেও পুতেয়াসের শ্রেষ্ঠত্ব

পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ব্যালন ডি’অরের ভোটের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন স্পেনের অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। ৬১৮ পয়েন্ট পেয়ে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটানোর পর নতুন মৌসুমের আগে লন্ডন সিটি লায়নেসে যোগ দিয়েছেন পুতেয়াস। এবারের ভোটে তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বার্সেলোনার পোলিশ ফরোয়ার্ড এভা পায়োর। তিনি পেয়েছেন ৫৩২ পয়েন্ট। অর্থাৎ দুজনের মধ্যে ব্যবধান ৮৬ পয়েন্ট।

নারীদের বিভাগে ভোট দেওয়া ৫০ জন সাংবাদিকের মধ্যে ২৮ জন পুতেয়াসকে প্রথম পছন্দ হিসেবে রেখেছেন। পায়োর পেয়েছেন ১২টি প্রথম স্থানের ভোট।

নারীদের তালিকায় ৩৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির খাদিজা শ। চতুর্থ স্থানে থাকা হাইতির মেলশি দুমোর্নের সংগ্রহ ৩৪২ পয়েন্ট। মাত্র দুই পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। পঞ্চম হয়েছেন পাত্রি গুইহারো, তার পয়েন্ট ২২১। শীর্ষ দশের বাকি স্থানগুলোতে রয়েছেন ক্যারোলিন গ্রাহাম হ্যানসেন, পেরনিলে হার্ডার, ক্লদিয়া পিনা, আলেসিয়া রুসো ও তেমওয়া চাওয়িঙ্গা।