images

ইসলাম

অজুর যেসব মাসয়ালা জানেন না অনেকেই 

ধর্ম ডেস্ক

০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৩ পিএম

অজু পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম। নামাজ পড়ার জন্য অজু আবশ্যক। কোরআন স্পর্শ করার জন্য অজু শর্ত। অজুর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করেন। বিপুল সওয়াব দান করেন। পবিত্রতা অর্জনের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানের খুঁটিনাটি কিছু বিষয় এখানে তুলে ধরা হলো যা জেনে রাখা উচিত।

দাড়ি ধোয়ার ক্ষেত্রে
দাড়ি যদি ঘন হয়, তাহলে ঝুলে থাকা পশম ছাড়া দাড়ির উপরিভাগ ধৌত করা ওয়াজিব। (আসার: ১/২০)
দাড়ি যদি পাতলা হয়, তাহলে দাড়ির ওপরিবাগ ধৌত করলে হবে না, বরং দাড়ির ভেতরে চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে হবে। (ইবনে আবি শায়বা: ১/১৪)
দাড়ির ঝুলে থাকা পশমগুলো ধোয়া ও মাসেহ করা ওয়াজিব নয়। (ইবনে আবি শায়বা: ১/১৪)

অজুতে ব্যবহৃত পানির ছিটা কি নাপাক?
যেসব মাসয়ালা নারীদের জানা জরুরি 

নখে-চামড়ায় পানি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে
অজু করার সময় নখে যদি এমন  বস্তু লেগে থাকে, যার কারণে নখ পর্যন্ত পানি পৌঁছতে পারে না; যেমন—মোম, আঠা ও পালিশ ইত্যাদি তাহলে সেগুলো পরিষ্কার করে এমনভাবে ধৌত করতে হবে, যেন সর্বাঙ্গে পানি পৌঁছে। (সুনানে কুবরা: ৩৬৭)
নখের সামান্য ময়লা ইত্যাদি চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছাতে প্রতিবন্ধক হয় না। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ১/২৩৮)
অর্থাৎ ময়লা যদি এমন মিহি হয় যে, যার ভেতর দিয়ে পানি পৌঁছা সম্ভব; এমন অবস্থায় যতক্ষণ পর্যন্ত সেখানে পানি পৌঁছা সুনিশ্চিত হয়, ততক্ষণ সন্দেহ না করা ভালো।
তেল বা লোশন ব্যবহারের পর তৈলাক্ত অঙ্গসমূহে স্বাভাবিকভাবে পানি পৌঁছালেই অজু হয়ে যাবে। তৈলাক্ততা দূর করে পানি পৌঁছানো জরুরি নয়। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/১৫৪)

অজু বারবার ভেঙে যায়, করণীয় কী?
অজুতে ঘাড় মাসেহ করা সুন্নত, নাকি বিদআত?

আংটি খোলা, ক্ষত স্থানে মাসেহ ও চুল-গোঁফ মুণ্ডানোর ক্ষেত্রে
সংকীর্ণ আংটিকে যদি নাড়াচড়া করা ছাড়া ভেতরে পানি না পৌঁছে, তাহলে তা নাড়াচড়া করতে হবে। (ইবনে মাজাহ: ৪৪৩)
ক্ষত স্থানে ধোয়ার কারণে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা হলে, ক্ষতস্থানে লাগানো ওষুধের ওপর মসেহ করলেই হবে। (সুনানে কুবরা: ১১২৯)
অজুতে মাথা মাসেহ করার পর যদি কেউ চুল চেঁছে ফেলে, তাহলে পুনরায় মাসেহ করতে হবে না। (আল ফিকহুল ইসলামি: ১/৩৮৪)
অজু করার পর যদি কেউ নখ কাটে বা মোছ চেঁছে ফেলে, তাহলে পুনরায় সেগুলো ধৌত করতে হবে না। (বুখারি: ১/৩০১)

টয়লেট বাথরুম একসঙ্গে, অজু শুদ্ধ হবে?
অজু ছাড়া আজান দেওয়া যায়?

যেভাবে ঘুমালে অজু ভাঙে না
বাসের সিটে বা অন্যকোথাও যদি মোটামুটি সোজা হয়ে বসা হয় এবং নিতম্ব সিটের সাথে এঁটে থাকে, এ অবস্থায় ঘুমালে অজু নষ্ট হবে না। চেয়ার কোচের স্লিপিং জাতীয় সিট একেবারে ফেলে দিয়ে ঘুমালে অজু নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা এক্ষেত্রে নিতম্ব সিটের সাথে এঁটে থাকে না। (আলবাহরুর রায়েক: ১/৩৮; ফাতাওয়া খানিয়া: ১/৪১; রদ্দুল মুহতার: ১/১৪১)
নামাজরত ব্যক্তির ঘুমের দরুন অজু ভাঙে না। চাই তা দাঁড়ানো অবস্থায় হোক অথবা বসা, রুকু বা সেজদা অবস্থায় হোক। (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি: ৬০৯)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অজুর মাসায়েলসহ শরিয়তের সকল বিধি-বিধান জানার ও মেনে চলার তাওফিক দান করুন।