নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। আর মাত্র তিন দিন বাদেই ভোটগ্রহণ। এই ভোট নিয়ে উঠেছে জরিপের ঢেউ। কোন দলের জনসমর্থন বেশি, কারা কতটি সিট পাবে, কোন আসনে কোন প্রার্থী এগিয়ে, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন- এসব নিয়ে চলছে নানা পক্ষের চুলচেরা বিশ্লেষণ।
তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) একদিনে সামনে এলো তিনটি জরিপের ফলাফল। এর একটি প্রকাশ করেছে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা, আরেকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল’ এবং অন্যটি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) নামের একটি সংস্থা।
কিন্তু এসব জরিপের একটির সঙ্গে আরেকটির ফলাফলে যোজন যোজন পার্থক্য। ফলে কার জরিপ সঠিক আর কারটা মনগড়া- এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে সাধারণ ভোটাররাসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। তাহলে দেখে নেওয়া যাক জরিপগুলোতে কোন দলের অবস্থান কেমন।
দৈনিক ইনকিলাবের জরিপে অনেক এগিয়ে বিএনপি
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বহু আগে থেকেই জরিপ চালায় দৈনিক ইনকিলাব। সংবাদমাধ্যমটির জরিপের ফলাফল অনেকাংশে মিলে যায় বলে বাজারে প্রচলিত। সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ৫৩টি সংসদীয় আসন ও আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি ১১ দিন এ জরিপ চালায় তারা।
দৈনিক ইনকিলাবের জরিপে ৯৬৬৯ জন্য অংশগ্রহণকারী ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ (৫৮৬০ জন ৬০.৬০ শতাংশ) ভোট পেয়ে বিএনপি বিজয়ী হতে পারে বলে মতামত দিয়েছেন। অন্যদিকে ২৯ শতাংশ (২৮১২ জন ২৯.০৮ শতাংশ) ভোট জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট পাবে বলে মতামত দিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, গণভোটে প্রায় ৮০ শতাংশ (৭৯.৫২ শতাংশ) ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন বলে মনস্থির করেছেন বলে জরিপে অংশ নেওয়া ভোটাররা জানিয়েছেন। এ জরিপে ৭৩৯১ জন (৭৬.৪৪ শতাংশ) পুরুষ ও ২২৭৮ জন (২৩.৪৪ শতাংশ) নারী অংশগ্রহণ করেন।
ইনকিলাবের জরিপে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে বিএনপির সামান্য জনসমর্থন কমেছে; অন্যদিকে জামায়াতের জনসমর্থন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ইনকিলাবে ৬০৩৬ জনের মতামত নিয়ে একটি জরিপ প্রকাশ করা হয়।
ওই জরিপে বিএনপির পক্ষে মতামত দেন ৬১.০৮ শতাংশ ভোটার। এক বছরের ব্যবধানে সেটা ০.৪৮ শতাংশ কমে ৬০.৬০ শতাংশ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ওই জরিপে জামায়াতের পক্ষে মতামত দিয়েছিল ১৪.৮২ শতাংশ ভোটার। এবার এনসিপিসহ কয়েকটি দল জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় এক বছরের মাথায় সেই সমর্থন ১৪.২৬ শতাংশ (প্রায় দ্বিগুণ) বেড়ে ২৯.০৮ শতাংশ হয়েছে।
বিএনপিকে বহুলাংশে এগিয়ে রেখেছে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেলও
ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনটির জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, সারাদেশে ২২০টি আসন পেতে পারে দেশের অন্যতম বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি। অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে তাদের মুল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ৫৭টি আসন।
এই জরিপ কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন সাবেক ছাত্র ও পাঁচজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী গবেষক অংশ নেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৩০০ জনকে চারটি করে প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশ উত্তর দাতা বলেছেন, তারা বিএনপিকে সমর্থন করেন।
অন্যদিকে ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করেন। এছাড়া এনসিপিকে ৩ শতাংশ, জাতীয় পার্টিকে ২ শতাংশ, অন্যান্য দলকে ১ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন করেছেন। মন্তব্য করেননি ১ শতাংশ উত্তরদাতা।
জরিপের তথ্য তুলে ধরে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল জানায়, গণভোটে সংস্কারে কাকে ভোট দেবেন এমন প্রশ্নে ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছে এখনো তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছে, তারা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ভোট দেবেন। ২১ শতাংশ বলেছেন তারা ‘না’ এর পক্ষে ভোট দেবেন। ৯৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের আসনের নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে তারা সন্তুষ্ট।
জরিপে আরও বলা হয়েছে, সারাদেশে বিএনপি ২২০টি, জামায়াতে ইসলামী ৫৭টি, এনসিপি দুটি, জাতীয় পার্টি পাঁচটি, স্বতন্ত্র ১২টি এবং অন্যান্য দল চারটি আসন পাবে।
আইআইএলডির জরিপে বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির (আইআইএলডি) প্রাক-নির্বাচনি জনমত জরিপে বলা হচ্ছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১০৫টি সংসদীয় আসনে জয় পাবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জয় পাবে ১০১টিতে। অন্যান্য পাবে ১৯টি আসন। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ৭৫টি আসনে।
গণভোট সম্পর্কে জরিপে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট পাবে ৮৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর ‘না’ ভোট পাবে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের ৬৩ হাজার ৬১৫ জন ভোটারের মতামত নিয়ে জরিপটি করা হয়।
সংস্থাগুলোর এসব জরিপের ফলাফলের মতো দেশের মানুষ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও নানা মত। কেউ কেউ বলছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিই এবার সরকার গঠন করবে। আবার কারও কারও মতে, চমক দেখিয়ে প্রথমবারের মতো গদিতে বসতে পারে জামায়াত।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হবে? কারা করতে যাচ্ছেন দেশ শাসন? কে হতে যাচ্ছেন নতুন সরকারপ্রধান, তারেক রহমান নাকি ডা. শফিকুর রহমান? এ সব প্রশ্নেরই উত্তর মিলবে ১২ ফেব্রুয়ারির পরেই। আপাতত সেই সময়ের অপেক্ষা।
এএইচ