ঢাকা মেইল ডেস্ক
১১ মে ২০২৪, ০১:৪০ পিএম
বাঙালির শেকল পরা ছল থেকে মুক্তি আনয়নের অগ্রনায়ক স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও স্বাধীনতার ইতিহাসের জন্য অনন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই তো হাজার বছরের বাঙালি জাতির ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫) শ্রেষ্ঠতম বাঙালি। গণতান্ত্রিক মূল্যচেতনা, নৈতিকতা ও মননশীলতা, শোষণ মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা- এ চতুর্মাত্রিক বৈশিষ্ট্যই বঙ্গবন্ধুর জাতীয়তাবাদী ভাবনার মূল কথা। বাংলাদেশের কথা বলতে গিয়ে অনিবার্যভাবে স্মরণ করতে হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মকে।
বাংলা নামক ভূখণ্ডের স্বার্থের কাছে, আপামর জনতার স্বার্থের কাছে তিনি নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন, এ কারণেই বোধ করি কবি-মনীষী অন্নদাশংকর রায় বাংলাদেশের আরেক নাম লেখনীতে বলেছেন Mujibland. এক অর্থে, বঙ্গবন্ধুই একটা পর্যায়ের বাংলাদেশের ইতিহাস, ইতিহাসের মহানায়ক ও ইতিহাসবিদ। তার জীবন ও কর্মের ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটা বিশেষ সময়খণ্ডের কথা বর্তমান প্রজন্ম জানতে পারবে অনায়াসে।
পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তির পরাধীন শৃঙ্খল থেকে তিনি বাঙালি জনগোষ্ঠীকে মুক্ত করতে চেয়েছেন, চেয়েছেন বাংলা ভূখণ্ডকে স্বাধীন সত্তায় রূপ দিতে। এই মুক্তির সংগ্রামে তিনি নিজের জীবনকে তুচ্ছ ভেবে জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, কৈশোর থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারণ করেছেন প্রতিবাদ, সর্বদা বলেছেন সত্য ও ন্যায়ের কথা এবং এভাবে হয়ে উঠেছেন স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক।
সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে তিনি কখনো দূরে সরে যাননি, ভীত ও অত্যাচারের মুখেও সর্বদা তিনি সত্য ও ন্যায়ের কথা বলেছেন, শোষিত মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। শোষিত মানুষের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর এই নির্ভীক অবস্থানের কারণে তিনি কেবল বাংলাদেশেই নয়, শোষিত-নির্যাতিত বিশ্বমানব সমাজেরও অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আজকের স্মার্ট বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের আইডল হতে পারে কৈশোরের বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন।
আলোচনার প্রসঙ্গে বলতে হয়, ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত আলজিয়ার্সের জোট-নিরপেক্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের কথা, যেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন- 'বিশ্ব আজ দু'ভাগে বিভক্ত শোষক ও শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।' জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন- এসব স্থানে শোষিত মানুষের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়, বিশ্বের শোষিত নির্যাতিত মানুষ বাঙালির বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নেয় নিজেদের নেতা হিসেবে।
আরও পড়ুন
এ কারণেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পরম মিত্র ইন্দিরা গান্ধী বলেন এই কথা- 'শেখ মুজিব ছিলেন একজন মহান নেতা। তার অনন্য সাধারণ সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগণের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল।' কিংবা ফিদেল ক্যাস্ত্রোর মতো বিশ্বনেতা বলেন এ কথা- 'আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি, ব্যক্তিত্ব এবং সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।... শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে, আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল বন্ধুকে।'
শুধু কি তাই, আজকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে গণআন্দোলন সেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে বঙ্গবন্ধু বিশ্বদরবারে সোচ্চার ছিলেন ৫০ বছর পূর্বেই, সেই ধারা অব্যাহত রেখেছে বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আমানত প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। বিশ্ব-ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর মতো জাতীয়তাবাদী নেতার দৃষ্টান্ত বিরল। তিনিই বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি জাতীয় পুঁজির আত্মবিকাশের আকাঙ্ক্ষা ও বাঙালির সম্মিলিত মুক্তির বাসনাকে এক জলের বিন্দুতে মেলাতে পেরেছেন। এ কারণেই তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, এ কারণেই তিনি আমাদের জাতির পিতা। সবার স্বপ্নকে বঙ্গবন্ধু একটি গ্রহণযোগ্য মোহনায় মেলাতে পেরেছেন।

সৌরপঞ্জিকায় সময় তখন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন- 'জয় বাংলা স্বাধীন বাংলা। বাঙালি আমার জাতি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার স্থান।' বস্তুত, এ আন্তরিক উপলব্ধি এবং বিশ্বাসই ছিল তার সব কর্ম ও সাধনার কেন্দ্রীয় প্রেরণাশক্তি ও আলোকিতবর্তিকা।
কৈশোরকাল ও যৌবন পদার্পণ থেকেই তিনি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে ছিলেন সোচ্চার। আটচল্লিশ ও বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আটান্নর সাময়িক শাসনবিরোধী আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছিষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের মহান গণ-অভুত্থান সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ- বাঙালির প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি পালন করেন নেতৃত্বের ভূমিকা। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রধান শক্তি-উৎস ও সূতিকাগার ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে তিনি ছিলেন সর্বদা বজ্রকণ্ঠে বলীয়ান।
বাঙালির অভিধানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ একটি জাতিকে জাগ্রত করেছে, সবাইকে একত্রিত করেছে এক মোহনায়, সবাইকে করে তুলেছে স্বাধীনতামুখী ও অধিকার আদায়ে সচেতন- এমন ঘটনা বিশ্ব-ইতিহাসে বিরল।শত শত মাসের অপেক্ষার শেষে ৭ মার্চের ভাষণ গোটা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে স্বাধীনতার স্বপ্নে, মুক্তির সংগ্রামে, জীবনের আত্মমর্যাদার সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এ সূত্রেই অনন্য অতুলনীয় ঐতিহাসিক। উপস্থাপিত হয়েছে যে, একটি ভাষণ ছিল দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একটি জাতিরাষ্ট্র নির্মাণের মূল শক্তি ও রাজনৈতিক দর্শন।
পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষণের সঙ্গেই তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের তুলনা হয় না। তুলনামূলক আলোচনায় আমরা পেট্রিক হেনরি, আব্রাহাম লিঙ্কন, উইনস্টল চার্চিল কিংবা মার্টিন লুথার কিংয়ের ভাষণের কথা বলতে পারি। এ চারজনের ভাষণও বিশ্ব-ইতিহাসের অসামান্য গৌরবোজ্জ্বল ভাষণ। পেট্রিক হেনরির 'Give me liberty, or give me death' (১৭৭৫), আব্রাহাম লিঙ্কনের 'Gettysburg Address' (1863), নোবেল বিজয়ী উইনস্টন চার্চিলের 'We shall fight on the beaches' (১৯৪০), কিংবা মার্টিন লুথার কিংয়ের 'I have a Dream' (১৯৬৩) ভাষণে মানুষকে জাগ্রত করেছে, কিন্তু জাতিরাষ্ট্র সৃষ্টি করেনি।
পেট্রিক হেনরি ভাষণ দিয়েছিলেন বিপ্লবী যুদ্ধের জন্য ভার্জিনীয় সেনা সরবরাহের জন্য, আব্রাহাম লিঙ্কনের ভাষণটি দেওয়া হয়েছিল আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪০ সালে উইনস্টন চার্চিল পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে ঐতিহাসিক ভাষণে
অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর পক্ষে ব্রিটিশ নাগরিকদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। আর মার্টিন লুথার কিংয়ের ভাষণ ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান।
ইতিহাসের তথ্য-উপাত্ত স্মরণ করিয়ে দেয়, হেনরি-লিঙ্কন-চার্চিল-লুথার কিং চরম বিপদ, আতঙ্ক, কোটি-কোটি মানুষের দ্বিমুখী চাপের মধ্যে ভাষণ দেননি- বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছেন রাইফেল- মেশিনগান-কামানের গোলার মুখে- রেসকোর্স ময়দানে তখন তার মাথার ওপর চক্কর দিচ্ছিল পাকিস্তানি জঙ্গি বিমান। বাংলা সাহিত্যের লেখক সরদার ফজলুল করিমের লেখনীর কিছু তথ্য তুলে ধরি-সেদিনের সেই মুহূর্ত চোখে না দেখলে বোঝানো সম্ভব নয় বঙ্গবন্ধু সেই ঐতিহাসিক ভাষণের মহিমা ও তাৎপর্য। বাঙালির আত্মমর্যাদার দিন ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ নয় মাসের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আমাদের প্রধান শক্তি-উৎস ও সর্বাধিনায়ক।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনন্য স্থপতি। দীর্ঘ সাধনায় বাঙালির মানসলোকে তিনি সঞ্চার করেছেন স্বাধীনতার বাসনা।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এ কথাই যেন উল্লেখ করে অন্নদাশংকর রায়ের অম্লান এই শব্দগুচ্ছে-‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান; ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মজিবর রহমান।’
লেজুড়বৃত্তি উপনিবেশ-শৃঙ্খলিত একটি ঘুমন্ত জাতিকে বঙ্গবন্ধু জাগ্রত করেছেন, বাঙালিদের তুলেছেন স্বপ্নমুখী, রক্তমুখী, মুক্তিমুখী, স্বপ্নের পূরণে বলীয়ান করে। এই যে একটি জাতির মানস প্রকল্পকে জাগিয়ে তোলা- এটাই বঙ্গবন্ধুর অক্ষয় অবদান। উপনিবেশিক অবকাঠামোর মধ্যে তার মতো জাতীয়তাবাদী নেতার জাগরণ রীতিমতো বিস্ময়কর। পৃথিবীর একমাত্র বদ্বীপকে বঙ্গবন্ধু জাগিয়ে তুলেছেন, কিংবা বলি তার বলিষ্ঠ স্পন্দমান বজ্রকন্ঠের মোহিনী তে পুরো দেশ জেগে উঠেছে- এ কারণেই তিনি বঙ্গবন্ধু, এ কারণেই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আজ অভিন্ন। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষা আজ এক সুতোয় বাঁধা- একটি অপরটির পরিপূরক, পরস্পর পরম আত্মীয়।
আরও পড়ুন
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি স্বাধীনতার যে ঘোষণা দেন, সেখানেও দেশের মাটির কথা তিনি চরম বিপদের মুখেও উচ্চারণ করেন নির্ভীকচিত্তে। স্মরণ করা যায় বঙ্গবন্ধুর সেই ট্রান্সমিটারে প্রেরিত বাঙালি ও বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্য স্বাধীনতার ঘোষণা- This may be my last message from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh, whenever you are and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieve. Joy Bangla.
বাংলা ভূখণ্ডকে ভালোবাসতেন বলেই বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছেন মিলিত বাঙালির। তিনি ছিলেন বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সুস্থ সংস্কৃতির ধারক।
তার কাছে সর্বদা প্রাধান্য পেয়েছে মানুষের মানব- পরিচয়। এ কারণে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে তিনি ঐতিহ্য সংস্কৃতির ধারক বাঙালির জন্য অসম্মানের বলে মনে করতেন।
বাংলাদেশ ও বাঙালি সত্তাকে অপার ভালোবাসতেন, তা বোঝা যায় ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে তিনি যে ভাষণ দেন, তা থেকে। ওই ভাষণে তিনি বলেছিলেন- 'আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবরও খোঁড়া হয়েছিল... আমি ঠিক করেছিলাম, আমি তাদের নিকট নতি স্বীকার করব না। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। জয় বাংলা।'

এ বক্তব্য থেকেই অনুধাবন করা যায়, দেশের জন্য, বাঙালির জন্য, বাংলা ভাষার জন্য বঙ্গবন্ধুর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও হৃদয়ের উত্তাল ঢেউয়েও গভীরতা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণে কেবল দেশপ্রেম নয়, বঙ্গবন্ধুর উদার মানবতাবোধ,মূল্যাবোধ, নৈতিকতা, মননশীলতা, সৃষ্টিশীলতা এবং সদর্থক বিবেচনারও পরিচয় ব্যক্ত হয়েছিল।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণে সুস্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়েছিল এই উদার মানবচেতনা, এই মহৎ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, এই মহৎ বন্ধুভাবাপন্ন মানসিকতা, আবার একই সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবিধান বাসনা, আমার পশ্চিম পাকিস্তানের ভায়েরা, আপনাদের প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই। আমি চাই আপনারা সুখে থাকুন। আপনাদের সেনাবাহিনী আমাদের অসংখ্য লোককে হত্যা করেছে, তবুও আপনাদের প্রতি আমার কোনো আক্রোশ নেই। আপনারা স্বাধীন থাকুন, আমরাও স্বাধীন থাকি। বিশ্বের অন্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে ধরনের বন্ধুত্ব হতে পারে, আপনাদের সঙ্গেও শুধু সেই বন্ধুত্বই হতে পারে। কিন্তু যারা অন্যায়ভাবে আমাদের মানুষদের মেরেছে, তাদের অবশ্যই বিচার হবে। উদ্ধৃতির শেষের বাক্যটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
সেই ভাষণের ক্ষমাগুণ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও পাকিস্তানের জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বাঙালির ওপর যে অমানবিক নির্যাতন ও শোষণ হয়েছিলে, তা বারবার স্বীকার করে বঙ্গবন্ধুর সহনশীলতা ও উদারতার প্রশংসা করে, আজ বঙ্গবন্ধুর তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার সোনার বাংলার উন্নয়ন পাকিস্তানের জন্য অনুকরণীয়।
শেষ বাক্যে বঙ্গবন্ধু সচেতনভাবে এখানে যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে বলেছেন। তার রক্তের উত্তরাধিকারবাহী সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় এবং সাহসী সিদ্ধান্তে বাংলার মাটিতে একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের বিচার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর সেদিনের বক্তব্য আরও তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন
বঙ্গবন্ধু আজীবন স্বপ্ন দেখেছেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানবিক বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুর সে স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে- এগিয়ে যেতে হবে আরও অনেক দূর ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট উন্নত বাংলাদেশে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে, শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে, প্রকৃত দেশপ্রেম নিয়ে সচেতনতার সঙ্গে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। সেটাই হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের শ্রেষ্ঠ উপায়।
বাংলামুলক আজ কাঙ্গালি ভোজের দরিদ্রের সোনার বাংলা নয়, আলোকিত স্মার্ট উন্নত সোনার বাংলা হওয়ার পথে প্রান্তরে।
আসুন সংস্কৃতির শেকড়ে, নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালনের মাধ্যমে; পারস্পরিক স্নেহ, শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার সহযোগিতায় স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ি। জয় হোক বাঙালির মজ্জাগত সংসক্ততার সংস্করণে সকলের সম্মিলিত সমষ্টিগত পর্যায়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।
লেখক: উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ