বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

চাইলে কি রাজনীতি রুদ্ধ রাখা যায়?

মো. ফরহাদ আলী শুভ
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৪:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

চাইলে কি রাজনীতি রুদ্ধ রাখা যায়?

এরিস্টটল বলেছেন, 'মানুষ স্বভাবতই সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব।' শিক্ষার্থীরাও সে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে আমরা রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার যে সৌধ দেখতে পাই তা একদিনে তৈরি হয়নি। এটা বিভিন্ন ইতিহাসবিদ, সমাজবিজ্ঞানী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, দার্শনিক, বিভিন্ন বিজ্ঞানী, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সার্বিক সংযোজনে পরিকাঠামো পেয়েছে। তাই আমরা দেখতে পাই, রাষ্ট্র ও সমাজচিন্তার ইতিহাস চার ভাগে যথা-প্রাচীন, মধ্য, আধুনিক ও সাম্প্রতিককালের বিভাজনে বিভাজিত হয়ে দৃশ্যমান।

যুগের পরিক্রমায় সমাজ ও রাষ্ট্রে সমস্যা তৈরি হয় ভৌগোলিক অবস্থানভেদে। কিন্তু তারপরও ব্যক্তি পুরোপুরি স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা ভোগ করে; যা তাদের রাজনৈতিক মূল্যবোধে পরিণত হয়। এমনিভাবে অদ্ভুত মনন ও সচেতনতা একটি রাষ্ট্রকে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এক অপূর্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দান করে, তা কখনো রুদ্ধ করে রাখা যায় না। সেই আলোকে একটি রাষ্ট্রের সংবিধান ও রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম ও রীতিনীতি গড়ে ওঠে। সাংবিধানিক কাঠামো আইনের চেয়েও শক্তিশালী, তা কখনো রুদ্ধ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কি চলতে পারে?

স্থান, কাল, পাত্রভেদে একজন নাগরিক, একজন শিক্ষার্থী, একজন শ্রমিক, একজন কৃষক বিভিন্ন সংগঠন করার অধিকার রাখে, যদি তা নিষিদ্ধ ও দেশদ্রোহী সংগঠন না হয়। যদি সেই সংগঠন দেশের জন্য মঙ্গলজনক হয়, যার দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য থাকে বা তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে সেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা শাসন দণ্ড কখনোই দাবিয়ে রাখতে পারে না, যা রাষ্ট্রের সংবিধানকে হুমকির মুখে ফেলে।

আরও পড়ুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে কেন বিতর্ক?

সম্প্রতি ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নামক রাজনৈতিক সংগঠনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংগঠন পরিচালনা করতে দিচ্ছে না, এটা শুধু ছাত্রলীগ না বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের যেকোনো  ছাত্র রাজনীতির সংগঠনের জন্য অশনি সংকেত। আমরা যদি দেখি সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল প্রমুখ যেসব চিন্তাবিদ স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নিয়মতন্ত্র ও আইনের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে যেসব তত্ত্ব ও তথ্য প্রদান করেছেন সেগুলো আজও আমাদের জীবনে সক্রিয় প্রভাব বিস্তার করে চলছে। যা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অর্থনীতির কল্যাণধর্মী রাষ্ট্রচিন্তারই ফসল। একজন চিন্তাশীল, সৃজনশীল ও মেধাবী অত্যন্ত প্রখর চিন্তায় একজন হলেও একটি সংগঠনের ইতিবাচক ঝান্ডার বাহক হয়ে তার সংগঠনের নেতৃত্ব দিতে পারেন সকল ভুলের ঊর্ধ্বে থাকার ব্রতে।

মানুষের অন্যতম একটি মৌলিক অধিকার হলো শিক্ষা। আর শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষা হবে প্রধান হাতিয়ার। পাশাপাশি মানবিক ও মনুষ্যত্বের পরিশীলিত চিত্ত বিকাশের জন্য থাকবে সুস্থ ধারায় ইতিবাচক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক চর্চা। কিন্তু রূদ্ধ করে রাখা স্বাধীনতা হরণের সমান। ইতিবাচক ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের নেতৃত্বের অদক্ষতায় বা শূন্যতায় ভুলভ্রান্তি তৈরি হলে তা সমাজ সংশোধন করে সুযোগ দেবে পরিচালিত হওয়ার, কিন্তু নিষিদ্ধ করা সাংবিধানিক পরিপন্থী।

তারুণ্য একটি দেশের ঐশ্বরিক ও অলৌকিক শক্তি ও সম্পদ। যুগে যুগে ইতিহাসের পাতায় পৃথিবীর বাঁক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে স্বপ্নবাজ তরুণরা। সাম্প্রতিক তরুণরা ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ কথাটিকে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করে সমাজে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, দুরন্ত ও দুঃসাহসী তরুণরা যদি ঘরের খেয়ে বনের মোষ না তাড়াতো, তাহলে এই পৃথিবী ও বঙ্গালমুলুক এতটা সুন্দর হতো না। 'বাংলাদেশ' নামক সবুজ শ্যামল, মা ও মাটির সোনালী ষড়ঋতুর দেশ তৈরি হতো না, স্বাধীনতা পেতাম না, মায়ের ভাষায় 'অ আ ক খ’ ধ্বনি উচ্চারিত হতো না।

তাইতো কবিতার পঙক্তি তে বলতে হয়-

হে উন্নত মম শির!

তোমার আলোক-নহরে শব্দেরা জাগে,

দ্রোহের ঝংকারে ভাঙে গোলামির জিঞ্জির।

বুকের পিঞ্জর খুলে উড়ে যায় মুক্ত পাখি,

অনুভব থেকে অনুভবে আছ চির মহিমায়।

আসুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রে দেশের কল্যাণে পরিচালিত ছাত্র সংগঠন পরিচালনা করার সুযোগ থাকবে। কিন্তু সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে তা রুদ্ধ করা বোকামির ফসল ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন  সংগঠনকেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পরিচালিত হতে  হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য সংগঠন অন্যথায় সংগঠন যেন তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে তাই সচেতনতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা খুবই জরুরি। শিক্ষার্থী ভাবনা বলিষ্ট স্পন্দমান কণ্ঠে যুগ যুগ জিও উচ্চারিত প্রতিবাদী স্বরে। জয় হোক সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতির।

লেখক:  উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক, জাবি ছাত্রলীগ

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর