দেলাওয়ার হোসাইন দোলন
০৯ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:২৪ এএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে স্ত্রী, মা ও সন্তানদের নিয়ে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় বেড়াতে এসেছেন নজরুল ইসলাম জুয়েল। বিভিন্ন পশুপাখির খাঁচা ঘুরে দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচে বসে পড়েন। এ সময় সবাই মিলে বাসা থেকে নিয়ে আসা নাস্তা খাওয়া শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ দেখলেন পানি তো আনেননি। আশপাশে হকারও নেই, কারও কাছে পানিও নেই। অগত্যা বাধ্য হয়েই চিড়িয়াখানার মূল গেটে গিয়ে পানি কিনে আনতে হয়।
জুয়েল ঢাকা মেইলকে বলেন, চিড়িয়াখানা তো আগের মতো নাই। বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে আসলেও পানি আনা হয়নি। ভেবেছিলাম চিড়িয়াখানার ভেতরেই পানি পাওয়া যাবে। পরে মূল গেটে গিয়ে পানি আনতে হয়েছে। চিড়িয়াখানর ভেতরে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলে দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধা হতো।
আরও পড়ুন: কনকনে শীতে ওরাও কাঁপছে
এ দর্শনার্থী আরও বলেন, গত বছরের আর এবারের অভিজ্ঞতা অনেকটাই ভিন্ন। তখন ভিক্ষুক আর হকারদের উৎপাতে শান্তিমতো চিড়িয়াখানায় ঘোরাফেরা দায় ছিল। এবার তেমন কোনো ঝামেলা নেই বললেই চলে।

প্রকৃত অর্থেই মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা ভেতরে কোথাও এখন আর হকার নেই। এতে ভেতরের পরিবেশও ভালো হয়েছে। যেখানে সেখানে খাবারের উচ্ছিষ্ট ও পলিথিন দেখা যায় না। এছাড়া বসার স্থানগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে, বিভিন্ন নির্দেশনা-সংবলিত ব্যানারও টানানো হচ্ছে। অন্যদিকে ভিক্ষুক এখনও দেখা যায়, যদিও আগের চেয়ে অনেক কম। ভিক্ষুকদের প্রায় সবাই শিশু।
আরও পড়ুন: কিউরেটর মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দেয় হিংস্র বাঘও
শিশু কর্নারে কথা হয় নির্মল চন্দ্র নামে এক দর্শনার্থীদের সাথে। ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, চিড়িয়াখানার কোথাও হকার বা ভিক্ষুক দেখিনি। তবে ছোট ছোট শিশুদের উৎপাত দেখছি, রাইডে চড়ার জন্য টাকা চাইছে। কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ছোট বলে বকাও দিতে পারছি না।

এ সময় সেখানে অন্তত ৫টি শিশুকে দেখা যায় ভিক্ষা করতে। রাইডে চড়ার জন্য টাকা চেয়ে কয়েকজনের পা জড়িয়ে ধরছে শিশুগুলো। তবে মূল গেটে হকার ও ভিক্ষুকদের উৎপাত চোখে পড়ার মতো। কেউ কেউ শরীরের সঙ্গে ঘেঁষে ভিক্ষা দিতে বাধ্য করছে। শিশু ভিক্ষুকদের আচরণ আরও বেপরোয়া। ভিক্ষা দিতে না চাইলে পোশাক ধরে টানাটানি করে, এমনকি থুথু নিক্ষেপ করার ভয়ও দেখায়।
আরও পড়ুন: বাঘ-সিংহের খাঁচার সামনে ঝুঁকি নিয়ে সেলফি
ছেলেকে নিয়ে বেড়াতে আসা রত্না আক্তার ঢাকা মেইলকে বলেন, চিড়িয়াখানার পরিবেশ আগের যে কোনো সময়ের ভালো। হকার ও ভিক্ষুক না থাকলেও এখন দেখছি শিশু ভিক্ষুক। যদিও সংখ্যায় কম, তবুও এগুলো বন্ধ করা দরকার। নিরাপত্তাকর্মীসহ দায়িত্বরতদের অবহেলার কারণেই এমন অবস্থা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিড়িয়াখানা সম্পূর্ণভাবে ভিক্ষুক ও হকারমুক্ত এলাকা। বিচ্ছিন্নভাবে দুয়েকটি ঘটনা ঘটতে পারে। কোথাও দোকান বসতে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে জাতীয় চিড়িয়াখার কিউরেটর মুজিবুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা সবসময় একটা আন্তরিক মনোভাব নিয়ে কাজ করি। আমাদের উদ্দেশ্য প্রাণীগুলোকে ভালো রাখা।

তিনি বলেন, অফিসাররা যথাসময়ে আসেন। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি সবসময় অফিসে না বসার। অফিসে বসে থেকে প্রাণীদের দেখভাল করা সম্ভব নয়। এছাড়া প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা এবং পকেটমার, ছিনতাইকারীদের শনাক্তে সিভিল ড্রেসে থাকেন তারা।
ডিএইচডি/জেএম