সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

বাঘ-সিংহের খাঁচার সামনে ঝুঁকি নিয়ে সেলফি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২২, ০৪:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

বাঘ-সিংহের খাঁচার সামনে ঝুঁকি নিয়ে সেলফি

ঈদের দিন দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়। দুপুরের আগ পর্যন্ত দর্শনার্থী তেমনটা চোখে না পড়লেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়ছে মানুষের। তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু বাঘ। বাঘ ও সিংহের খাঁচাকে ঘিরে অনেকে ছবি তুলছেন। আবার অনেকে ঝুঁকি নিয়ে কাছে গিয়ে বাঘ-সিংহের সঙ্গে সেলফি তুলছেন।

রোববার (১০ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে দেখা যায়, যান্ত্রিক নগরী এখন যানজট ও কোলাহলমুক্ত থাকায় নগরবাসীর অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে চিড়িয়াখানায় আসছেন। আগতদের মধ্যে বৃদ্ধ থেকে ছোট শিশুরাও আছে। মানুষের ভিড় তেমনটা না থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে মানুষের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। বাঘ, সিংহ, হরিণ, ভাল্লুক, জলহস্তিসহ বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচার সামনে ভিড় করছেন মানুষ। বিশেষ করে বাঘ ও সিংহের খাঁচার সামনে বেশি মানুষকে ভিড় করতে দেখা যায়।

imrul-2বাঘ ও সিংহের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে অনেককে মোবাইলে ঝুঁকিপূর্ণ সেলফি তুলতে দেখা গেছে। কেউ কেউ লম্বা কাঠি দিয়ে বাঘের শরীরে খোঁচা দিচ্ছেন আবার অনেকে খাবার ছুঁড়ে বসা থেকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।

মেয়েকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন গুলশান বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা সিরাজুম মনিরা। দুপুরের পর অটোরিকশায় করে মেয়েকে নিয়ে চলে আসেন চিড়িয়াখানায়। এরপর টিকিট কিনে চিড়িয়াখানা ঘুরছেন। মেয়েকে কম বেশি সব পশু পাখি দেখিয়ে গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এই নারী। এর ফাঁকে কথা হয় তার সঙ্গে।

মনিরা বলেন, মেয়েকে বইয়ের পাতায় বাঘ ও সিংহ পড়িয়েছি। কিন্ত বাস্তবে দেখার জন্য ওর অনেক আগ্রহ ছিল। সরাসরি বাঘ-সিংহ দেখতে পেরে সেতো অনেক খুশি। অন্য প্রাণীর চেয়ে বাঘ দেখে বেশি খুশি হয়েছে। বাঘের খাঁচা থেকে তো বাচ্চারা আসতেই চাচ্ছে না।


বিজ্ঞাপন


imrul-3তার সঙ্গে কথা বলার পর প্রধান গেট হয়ে হাতের বামে গিয়ে কয়েকটি খাঁচায় পৃথকভাবে রাখা বাঘের দেখা মিলল। তিন জায়গায় ছয়টি বাঘকে খাঁচাবন্দি অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। সব বাঘগুলো তখন পাঁয়চারি করছিল। আর খাঁচার পাশে আসা লোকজন দেখে বারবার লোহার বেড়ার কাছে আসছিল আর যাচ্ছিল। এর মধ্যেই কিছু উৎসুক মানুষকে সীমানা প্রাচীর টপকে খাঁচার কোলঘেঁষে বাঘের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সেলফি তুলতে দেখা গেছে। তাদের এমন কারবারে উপস্থিত অনেকে তাদের নিষেধ করছিলেন। কিন্তু কারও কথায় কান না দিয়ে তারা আপন মনে সেলফি তুলছিলেন।

তিন বছরের শিশু সামিরাকে বাঘ দেখাচ্ছেন বাবা। লোহার গ্রিলে রেখে বাঘ দেখানোর সময় হাসছিল শিশুটি। ওই সময় মেয়েটির বাবা বলছিল, অনেক হয়েছে মা, বাঘ মামা তো তোমার এত দেখায় বিরক্ত হবে। 

সেখান থেকে সিংহের খাঁচায় গিয়েও একই দৃশ্য চোখে পড়ল। সেখানেও শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও সিংহের সঙ্গে ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন। সিংহের খাঁচার পাশে দাড়িয়ে সুন্দর মুহুর্তটুকু ভিডিও করতেও ভুলছিল না।

imrul-4

পুরো চিড়িয়াখানায় ছোটদের আধিক্যই ছিল বেশি। আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে সাত বছরের ছেলেকে নিয়ে এসেছেন জাকির হোসেন। সঙ্গে ছিল স্ত্রী ও ছোট শ্যালক। পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরে জলহস্তির খাঁচার পাশে কিছুটা দাঁড়ালেন। ছেলে বলছিল, বাবা সব তো দেখলাম। বাঘ মামা কোথায়। তার কথা দেখিয়ে দিলাম বাঘের খাঁচার দিক। যাওয়ার সময় জানালেন, তিনি অনেকবার এসেছেন কিন্তু ছেলেকে বাঘ, ভাল্লুক, অজগর, সিংক, গন্ডার, কুমির বাস্তবে দেখাতে সাত সকালে নামাজ পড়ে বেরিয়েছেন। তার চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল ছেলেকে পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরিয়ে তিনি বেশ স্বস্তিতে আজ বাড়ি যেতে পারবেন।

ফেরার পথে সেখানে থাকা তথ্য অফিসের সংশ্লিষ্টরা জানালেন, এবার ঈদে তুলনামূলক দর্শনার্থী কম। তবে শিশুরাই আজ বেশি এসেছে।

চিড়িয়াখানায় আগতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার এসে তারা নতুন কিছু পাননি। পুরান পশু পাখি দেখেই আনন্দ করেছেন।

এমআইকে/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর