সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

কিউরেটর মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দেয় হিংস্র বাঘও

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:০২ পিএম

শেয়ার করুন:

কিউরেটর মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দেয় হিংস্র বাঘও

ভালোবাসার বিশালতা আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. মুজিবুর রহমান যেন বাক্যটির উৎকৃষ্ট ‍উদাহরণ। তার দরদ মাখা ডাকে সাড়া দেয় চিড়িয়াখানার সব থেকে হিংস্র প্রাণীটিও। মো. মুজিবুর রহমানের মতে— প্রাণীদের এমন ছুটে আসা তার প্রতি ভালোবাসার বর্হিপ্রকাশ। কেউ যখন কোনো প্রাণীকে ভালোবাসবে, প্রাণীটিও তার ডাকে সাড়া দেবে। হিংস্র বাঘও কাছে এসে আদর চাইবে।  

কিউরেটর মো. মুজিবুর রহমান বলেন, মানুষ জন্ম নেয় অসীম ভালোবাসার ক্ষমতা নিয়ে। সবাই ভালোবাসা চায়। এর ব্যাতিক্রম নয় প্রাণীরাও। ভালোবেসে ডাকলে হিংস্র বাঘও সাড়া দেয়। কাছে এসে ভালোবাসা চায়। পরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে চলে যায়। যেমনটা আমার সাথে হয়েছে। এটা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা। 


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, আমরা যারা জাতীয় চিড়িয়াখানায় কাজ করি, সবসময় একটা আন্তরিক মনোভাব নিয়ে কাজ করি। আমাদের উদ্দেশ্য প্রাণীগুলোকে ভালো রাখা। যার জন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। প্রাণীদের সাথে অনবরত দেখা হতে হতে, একটা মায়ার সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সখ্যতা থেকেই তাদের প্রতি আন্তরিকতা তৈরি হয়ে যায়। ডাক দিলে সামনে চলে আসে।

চিড়িয়াখানার এই কর্মকর্তা বলেন, কর্মক্ষেত্রে অফিসাররা যথা সময়ে আসেন অফিসে। আমরা অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছি, সবসময় অফিসে না বসার। সিবিল ড্রেসে প্রাণীদের দেখাশোনা করেন তারা। অফিসে বসে থেকে প্রাণীদের দেখভাল করা সম্ভব নয়। এর আরও কিছু কারণ রয়েছে, প্রাণীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনো দর্শনার্থী যেন কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা। এছাড়াও পকেটমার, ছিনতাইকারীদের শনাক্তেও সিবিল ড্রেসে থাকেন তারা।


 
কিউরেটর মুজিবুর রহমান বলেন, নিশ্চিত করে বলতে পারি, দেশের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রের তুলনায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় হকার নেই। আমাদের অফিসাররা মনিটরিং করছেন। 


বিজ্ঞাপন


প্রাণীদের খাবার নিশ্চিতের বিষয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, চিড়িয়াখানার প্রাণীরা খাবার পাচ্ছে না কথাটি একদমই সঠিক নয়। আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি, চিড়িয়াখানার প্রাণীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পায়। এক ছটাক খাবারও কম দেওয়া হয় না। প্রাণীদের ঘাস এবং অন্যান্য জিনিসের কোয়ালিটি এর চেয়ে ভালো হতে পারে না। গুণগত মানসম্পন্ন খাবার প্রতিদিন প্রাণীদের দেওয়া হয়। 

এই কর্মকর্তা বলেন, মানুষ বাজার থেকে যে মাংস খায় আমাদের বাঘ-সিংহসহ মাংসাশী প্রাণীরা তার চেয়ে ভালো মাংস খায়। কারণ আমরা যে মাংস বাজার থেকে কিনে খাই, সেগুলো ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষিত নয়। কিন্তু চিড়িয়াখানায় একটা গরু এলে জবাই করার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় রোগমুক্ত প্রমাণ হলেই কেবল সেই মাংস প্রাণীদের দেওয়া হয়। 

কিউরেটর বলেন, চিড়িয়াখানায় বোবা বিরল প্রজাতীর যেসব প্রাণী রয়েছে, তারা অমার দৃষ্টিতে অবলা প্রাণী। তাদের খাদ্য যদি না পায়, তার রিজিকটা নষ্ট হয় এর জন্য আমি দায়বদ্ধ থাকব। পরকালে আমরা যারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ‘আল্লায়’ বিশ্বাসী তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আমি সেই বিশ্বাস নিয়েই চিড়িয়াখানার প্রাণীদের সকল কার্যক্রম নিশ্চিত করি।

ডিএইচডি/এইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর