নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
দেশি-বিদেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে বায়তুল মোকাররমে চলছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা। ১৪৪টি স্টলে সাজানো হয়েছে কোরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিস, সিরাত, ফিকহ, ইসলামী ইতিহাস, গবেষণা ও সাহিত্যসহ নানা ধরনের বই। তবে মেলায় বইয়ের বৈচিত্র্য থাকলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। প্রচার কম হওয়া এবং দেরিতে মেলা শুরু হওয়াকে বেচাকেনা কম হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব গেট সংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
বিভিন্ন স্টলে বই সাজানো থাকলেও অনেক স্টলেই ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বিকেলের দিকে কিছু দর্শনার্থী এলেও তাদের বড় একটি অংশ বই দেখেই চলে যাচ্ছেন বলে জানান কয়েকজন বিক্রেতা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পুস্তক বিপণন বিভাগের কর্মী রুহুল আমিন ঢাকা মেইলকে বলেন, এ বছর বইমেলায় বেচাকেনা খুবই কম। এর একটি কারণ হলো ফাউন্ডেশন এ বছর মেলাটি একটু দেরিতে শুরু করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে যখন মাহফিল ও আলোচনা সভা হচ্ছিল, তখন মেলা চালু থাকলে কেনাবেচা আরও বেশি হতো।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ গেটের দিকে মসজিদে আসা-যাওয়ার কারণে কিছুটা ক্রেতা পাওয়া যায়। তবে পূর্ব গেটের দিকে বেচাকেনা খুবই কম।
মেলার স্টল পরিচালনায় ব্যয়ের বিষয়টিও তুলে ধরে রুহুল আমিন বলেন, প্রতিটি দোকানের ভাড়া ১০ হাজার টাকা। মেলা আগামী ১০ অক্টোবর শেষ হবে। স্টল ডেকোরেশনে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একজন কর্মচারীর পেছনেও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। সবকিছু মিলিয়ে কোনো কোনো স্টলের মোট ব্যয় প্রায় ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
পড় প্রকাশনীর নাফিস বলেন, বেচাকেনা টুকটাক হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কতটুকু লাভ হবে, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।
আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২০৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে রয়েছে ১৪৪টি স্টল। বাংলাদেশের পাশাপাশি মিসর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারত থেকে সাতটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
মেলায় বাংলা ভাষার বইয়ের পাশাপাশি আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন ইসলামী বইও পাওয়া যাচ্ছে। তাফসির, হাদিস, ফিকহ, সিরাত, ইসলামী ইতিহাস, গবেষণা, সাহিত্য ও চিন্তাচর্চার বইয়ের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে নৈতিক ও ইসলামী শিক্ষামূলক বই।
এবারের মেলায় বইয়ের স্টলের পাশাপাশি রয়েছে ফিমেল কর্নার, লেখক কর্নার, মিডিয়া কর্নার, ইসলামিক ম্যাগাজিন কর্নার, শিশু কর্নার ও বিশেষ সিরাত এক্সিবিশন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে মেলাকে পাঠক ও পরিবারবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে এই বইমেলার কার্যক্রম শুরু হয়। ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা ২০২৬-এর। মেলা চলবে আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকছে। তবে বিকেল থেকে সন্ধ্যা ও রাতের দিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বাড়ে বলে জানিয়েছেন স্টলকর্মীরা।
এমআর/এফএ