সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মনে কারও প্রতি হিংসা জন্মালে ইসলাম কী করতে বলে

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

মনে কারও প্রতি হিংসা জন্মালে ইসলাম কী করতে বলে

অন্যের সাফল্য, সম্পদ, সৌন্দর্য বা কোনো নেয়ামত দেখে নিজের মনে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। সেই অনুভূতি যদি অন্যের নেয়ামত নষ্ট হয়ে যাক-এমন আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়, তখন তা হিংসা বা হাসাদ। ইসলাম এই প্রবণতা থেকে অন্তরকে মুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং হিংসা জন্মালে তা নিয়ন্ত্রণের পথও দেখিয়েছে।

হিংসা থেকে বাঁচার নির্দেশ

হিংসা মানুষের অন্তরের একটি ক্ষতিকর প্রবণতা। এটি অন্যের ভালো সহ্য করতে না পারা এবং তার ক্ষতি কামনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করো না, হিংসা করো না, একে অন্যের বিরুদ্ধাচরণ করো না। তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা; ভাই ভাই হয়ে যাও। ’ (সহিহ বুখারি: ৬০৬৫)

তাই মনে হিংসা জন্মালে সেটিকে প্রশ্রয় না দিয়ে নিজের অন্তর সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।

নিজের নেয়ামতের দিকে মনোযোগ দিন

অন্যের প্রাপ্তিকে নিজের বঞ্চনা হিসেবে দেখলে অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে। নিজের জীবনে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো স্মরণ করা এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: আল্লাহর নেয়ামত থেকে বঞ্চিত না হওয়ার দোয়া

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের চেয়ে নিচের অবস্থানে যারা আছে, তাদের দিকে তাকাও। তোমাদের চেয়ে যারা ওপরে আছে, তাদের দিকে তাকিয়ো না। আল্লাহর নেয়ামতকে তুচ্ছ না ভাবার এটাই উত্তম পন্থা।’ (সহিহ মুসলিম: ২৯৬৩)

অন্যের সম্পদ, সাফল্য বা সুযোগের সঙ্গে নিজের জীবনকে সবসময় তুলনা না করে নিজের প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা হিংসার অনুভূতি সামলাতে সহায়ক হতে পারে।

যার প্রতি হিংসা হচ্ছে, তার জন্য দোয়া করুন

কারও প্রতি হিংসা জন্মালে তার ক্ষতি কামনা না করে তার কল্যাণের জন্য দোয়া করা উত্তম। কোরআনে মুমিনদের এমন একটি দোয়া শেখানো হয়েছে-  رَبَّنَا ٱغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَٲنِنَا ٱلَّذِينَ سَبَقُونَا بِٱلْإِيمَـٰنِ وَلَا تَجْعَلْ فِى قُلُوبِنَا غِلاًّ لِّلَّذِينَ ءَامَنُواْ رَبَّنَآ إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ‘হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে। আর যারা ঈমান এনেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি পরম দয়ালু, পরম করুণাময়।’ (সুরা হাশর: ১০)

এই দোয়ায় ঈমানদারদের প্রতি অন্তরে বিদ্বেষ না রাখার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। হিংসা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকনির্দেশনা।

নিজের জন্য যা ভালোবাসেন, অন্যের জন্যও তা চান

হিংসার বিপরীত হলো অন্যের কল্যাণ কামনা করা। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই ভালোবাসে, যা সে নিজের জন্য ভালোবাসে।’ (সহিহ বুখারি: ১৩)

আরও পড়ুন: মানুষ চিনতে ইসলামের ৭ সতর্কবার্তা

কারও সাফল্য দেখে মনে হিংসা জাগলে নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে- আমি নিজের জন্য যে কল্যাণ চাই, এই ব্যক্তির জন্যও কি তা চাইতে পারি? নিজের মনকে এভাবে সংশোধনের চেষ্টা হিংসা দমনে সহায়ক হতে পারে।

হিংসা নেক আমলের ক্ষতি করে

হিংসার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (স.) সতর্ক করেছেন, ‘তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমল এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন কাঠখণ্ড বা ঘাস খেয়ে ফেলে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০৩)

তাই মনে হিংসা জন্মালে সেটিকে লালন না করে তাওবা, ইস্তেগফার এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত।

হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয়

কোরআনে হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর হিংসুক যখন হিংসা করে, তখন তার অনিষ্ট থেকে।’ (সুরা ফালাক: ৫)

এই আয়াত হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে শেখায়। একই সঙ্গে নিজের অন্তরেও যেন অন্যের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ বাসা না বাঁধে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

হিংসা জন্মালে কী করবেন?

মনে কারও প্রতি হিংসা জন্মালে প্রথমে সেই অনুভূতিকে লালন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যের ক্ষতি বা তার নেয়ামত নষ্ট হওয়ার কামনা করা যাবে না। নিজের প্রাপ্ত নেয়ামতগুলো স্মরণ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। যার প্রতি হিংসা হচ্ছে, তার জন্য কল্যাণের দোয়া করতে হবে এবং কোরআনের শেখানো দোয়ার মাধ্যমে অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করতে হবে।

তথ্যসূত্র: সুরা হাশর: ১০, সুরা ফালাক: ৫; সহিহ বুখারি: ১৩, ৬০৬৫; সহিহ মুসলিম: ২৯৬৩; সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০৩

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর