images

জাতীয়

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা শহরে চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত পুলিশ

আব্দুল কাইয়ুম

১৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

‎* চিহ্নিত এলাকায় সাদা পোশাকে থাকবে গোয়েন্দা পুলিশ 
‎* গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মার্কেটগুলোতে বিশেষ টহল ও চেকপোস্ট  
* প্রতিবেশীর সহায়তা নেওয়া ও সিসিটিভি সক্রিয় রাখার পরামর্শ   

‎আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা থাকবে রাজধানী ঢাকা। এই লম্বা ছুটিতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে ছুটে যাবেন অনেকে। এতে রাজধানী প্রায় ফাঁকা হয়ে যাবে। বিগত সময়ে দেখা গেছে, ঈদের ছুটির পর এসে অনেকে দেখেন তাদের বাসার তালা ভেঙে, গ্রিল কেটে ছুরির ঘটনা ঘটে। এবার লম্বা ছুটিতেও এমন আশঙ্কা রয়েছে বাসিন্দাদের। তাই এই সময়ে নগরীর বাসিন্দা ও ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তায় কতোটা প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী— এমন প্রশ্ন বাসিন্দাদের।
 
‎এদিকে ঈদের লম্বা ছুটিতে নগরীর বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফাঁকা ঢাকায় চুরি, ছিনতাই, খুন, ডাকাতি বেড়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তা জোরদার করার ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘ঢাকায় প্রধান প্রধান মার্কেটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাসাবাড়িতে চুরি, ছিনতাই রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

theft_iii
চলতি যানবাহনে ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায়ই সংঘটিত হয় (সংগৃহীত প্রতীকী ছবি)


‎গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার আটটি অপরাধপ্রবণ এলাকায় ৪৩২টি ছিনতাইপ্রবণ এলাকা রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৯৭৯ জন ছিনতাইকারী সক্রিয়। এর মধ্যে মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে ৩৮৬, মতিঝিল ও ওয়ারী বিভাগে ২১২, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২১৭ এবং উত্তরা ও গুলশান বিভাগে ১৫৪ ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। এদিকে পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ ছিনতাই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সংঘটিত হয়। প্রায় ২০ শতাংশ সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এবং বাকি ১৫ শতাংশ কথার ছলে পথচারীদের আটক করে সংঘটিত হয়। 

 

‎পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকায় রাত-দিন পালাক্রমে মোবাইল টহল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের মাঠে রাখা হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরদারিতে রাখা যায়। বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি, ঈদের সময় রাজধানীর কিছু চিহ্নিত সড়ক, মার্কেট ও শপিংমলে ছিনতাই, ডাকতি ও চুরির মতো ঘটনা ঘটে। সেগুলো চিহ্নিত করে দিনে ও রাতে র‌্যাবের বিশেষ টহলে দল থাকবে। বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তাকর্মী ও দারোয়ানদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
 
‎ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার জানান, নগরবাসী ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে প্রতিবেশী বা স্বজনদের বাসার খোঁজ রাখার দায়িত্ব দিলে চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। একইসঙ্গে তিনি বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার সময় মূল্যবান জিনিস নিরাপদে সংরক্ষণ ও বাসাবাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।   

theft_ii
মোটরসাইকেলকে সুবিধাজনক বাহন হিসেবে ব্যবহার করে ছিনতাইকারীরা। ছবি: প্রতীকী 

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার সময় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান জিনিসপত্র সম্ভব হলে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় রেখে যান। যদি কারও ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন না থাকে তাহলে পুলিশের সহায়তা নেওয়া যাবে। চাইলে থানায় স্বর্ণালঙ্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী রাখা যাবে।
 
মো. সরওয়ার বলেন, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। ঈদের ছুটিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। 
 
‎ঈদের ছুটিতে নিরাপত্তা তৎপরতার বিষয়ে র‌্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তিন ভাগে রেখেছি। প্রথমত, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ কার্যক্রম চালাব। এরপর রাজধানীতে ঈদের আগে ও পরে যে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়, সেই স্থান চিহ্নিত করে টহল পরিচালনা করা এবং চাঁদাবাজি ও বাড়তি ভাড়া রুখতে কাজ করা। সব অপরাধ দমনে সারা দেশে র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন কাজ করবে।
 
‎একেএস/ক.ম