আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি৩এস) জানিয়েছে, ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে উষ্ণতম মাসের নতুন রেকর্ড গড়েছে গত আগস্ট মাস। শুধু স্থলভাগ নয়, সমুদ্রের তাপমাত্রাও উঠেছে রেকর্ড উচ্চতায়। এমন পরিস্থিতিতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
১৯৪০ সাল থেকে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কোপার্নিকাসের তথ্য বলছে, গত আগস্টে বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এরআগে গত বছরের নভেম্বরে প্রথম কোনো মাস হিসেবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে ছিল।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শুধু স্থলভাগ নয়, উত্তপ্ত হয়েছে সমুদ্রও। আগস্টে মেরু অঞ্চল বাদ দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রগুলোর গড় পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা পৌঁছায় ২১ দশমিক ০৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা আগস্ট মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ২৪ ও ২৫ আগস্ট দৈনিক সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা আরও বেড়ে ২১ দশমিক ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে—এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দৈনিক রেকর্ড।
বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর পেছনে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো পরিস্থিতিরও ভূমিকা রয়েছে।
ইউরোপেও পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসে পশ্চিম ইউরোপের গড় তাপমাত্রা ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ। অঞ্চলটির গড় তাপমাত্রা ২১ দশমিক ৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৯৯১–২০২০ সালের গড়ের চেয়ে ২ দশমিক ৫৪ ডিগ্রি বেশি। ২০০৩ সালের আগের রেকর্ডও এবার ছাড়িয়ে গেছে।
কোপার্নিকাসের তত্ত্বাবধানকারী ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফরকাস্টসের সামান্থা বার্গেস এএফপি-কে বলেন, ‘মানুষ আজকের মতো এতো উষ্ণ তাপমাত্রা দেখেনি। যুক্তিসঙ্গতভাবে বলা যায়, অন্তত গত ১ লাখ বছরে এমনটা ঘটেনি।’
বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন চরম পরিস্থিতি এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ক্রমেই তা স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে। নেপাল ও চীনের তিব্বতে সাম্প্রতিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষের মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা থাকতে পারে, যদিও এর সুনির্দিষ্ট কারণগুলো এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে কোপার্নিকাসের এই নতুন তথ্যের পর জাতিসংঘও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
বৈশ্বিক সংস্থাটি সতর্ক করেছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত হ্রাস করা না গেলে ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা, দাবানল ও সমুদ্রের উষ্ণতা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, ফ্রান্স২৪
এমএইচআর