শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে এল নিনো, বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ-খরা-বন্যার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

শেয়ার করুন:

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে এল নিনো, বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ-খরা-বন্যার শঙ্কা
এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যাসহ নানা ধরনের চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি বলছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব মিলিত হয়ে ইতোমধ্যেই উত্তপ্ত পৃথিবীকে আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।

এমন সময়ে জাতিসংঘের সংস্থাটির এই প্রতিবেদন প্রকাশ করল, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়ছে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বৃষ্টিতে ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার সংস্থাটির প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ক্রমিক জলবায়ুগত ঘটনা বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনো শুধু আমাদের দোরগোড়ায় নয়, এটি ইতোমধ্যেই ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল শুরু। এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই জ্বলতে থাকা পৃথিবীতে যেন আরও জ্বালানি যোগ করছে।’

পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫ দশমিক ২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বেশি হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত করবে এবং বিশ্বের গড় তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেবে।

temparature
এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট শুষ্ক মৌসুম এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দাবানলের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।

গুতেরেস দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব একত্রিত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।

বিশেষভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির সম্প্রসারণকে এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় সব স্থলভাগেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা যাবে। এর মধ্যে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো বলেন, এল নিনোকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হলেও শুধু আগাম সতর্কবার্তা যথেষ্ট নয়। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘শুধু পূর্বাভাস দুর্যোগ ঠেকাতে পারে না, পারে মানুষ। আমরা আজ যে সিদ্ধান্ত নেব, আগামীকাল তার প্রভাবই আমরা অনুভব করব।’

বিজ্ঞানীদের সতর্কতা অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে এটি রেকর্ড মাত্রার তীব্রতা অর্জন করতে পারে। তবে এ বিষয়ে কম্পিউটারভিত্তিক পূর্বাভাসে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সূত্র: আল জাজিরা।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর