images

বিনোদন

যে কারণে নজরুল গীতি ছেড়ে অধুনিক গান বেছে নিয়েছিলেন সুবীর নন্দী? 

বিনোদন ডেস্ক

০৭ মে ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

বাংলা গানের জগতে সুবীর নন্দী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার সংগীত জীবনের শুরুটা হয়েছিল নজরুল গীতি দিয়ে। কিন্তু এক সময় সেই ধারা থেকে নিজেকে সরিয়ে পা বাড়ান আধুনিক গানের পথে। কেন তিনি আধুনিক গানে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। আজ কিংবদন্তির মৃত্যুবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক তাঁর সুর বদলের অজানা অধ্যায়ে।

ঢাকা বেতারে সুবীর নন্দী  তালিকাভূক্ত হয়েছিলেন নজরুল গীতির শিল্পী হিসেবে। তবে খুব যত্নসহকারে নজরুল পরিবেশন করেও বোদ্ধাগোষ্ঠীর মন পেতেন না। কেউ তালে ভুল ধরতেন কেউ কথা বিচ্যুতির অভিযোগ আনতেন। সে যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে সিদ্ধান্ত নেন আধুনিক গান করার। মনের কথা খুলে বলেন মোজাকখের আহমেদকে। শুনে মোজাকখের জানান আধুনিক গানের পথ আরও কঠিন। নিজের রাস্তা নিজেকেই তৈরি করতে হবে। তবেই সফলতা সম্ভব। কিন্তু সুবীর ছিলেন অটল। সেদিনের সেই সিদ্ধান্তেই নজরুল সংগীত শিল্পী থেকে আধুনিক গানের গায়ক হন সুবীর নন্দী। 

subir_nondi_20260507_100730958

দেশের আানাচে কানাচে সুবীরের নাম ছড়িয়ে পড়েছিল চলচ্চিত্রের গান দিয়ে। সে ১৯৭৬ সালের কথা। রাজা হোসেন পরিচালিত সূর্য গ্রহণ চলচ্চিত্রে সুজেয় শ্যামের সুরে ‘দোষী হইলাম রে দয়াল’ শিরোনামের একটি লোকগানে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে অভিষেক ঘটে তার। 

পরের বছর কণ্ঠ দেন অশিক্ষিত সিনেমায়। নায়করাজের ঠোঁটে তার ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ শ্রোতারা লুফে নেয়। পরের বছর ১৯৭৭ সালে সুবীর নন্দীকে ডেকে পাঠান প্রখ্যাত গীতিকার ও নির্মাতা খান আতাউর রহমান। তার ‘দিন যায় কথা থাকে’ সিনেমার সবকটা গানই গাওয়ান। এরপর তো ইতিহাস। সুবীর নন্দী হয়ে ওঠেন সংগীতাঙ্গনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী গায়ক। কাজ করতে থাকেন শেখ সাদী, সত্য সাহা, খান আতা, সুজেয় শ্যামের মতো বিখ্যাত সংগীতজ্ঞদের সঙ্গে। একের পর এক কণ্ঠ দিতে থাকেন সিনেমার গানে। 

image

অডিও অ্যালবামেও সফল ছিলেন সুবীর নন্দী। ১৯৮১ সালে ডিসকো রেকর্ড থেকে বাজারে আসা তার প্রথম অ্যালবাম সুবীর নন্দীর গান। পরে দুঃখের পরে সুখ’, প্রেম বলে কিছু নেই’, ভালবাসা কখনো মরে না’, সুরের ভুবনে’, ‘গানের সুরে আমায় পাবে’ অ্যালবামগুলো মুক্তি পায়। ‘প্রণামঞ্জলী’ নামে তার ভক্তিমূলক গানেরও অ্যালবাম রয়েছে।  

জীবদ্দশায় আড়াই হাজারের মতো গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য দিন যায় কথা থাকে, বন্ধু হতে চেয়ে তোমার, আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে, ও আমার উড়াল পঙ্খী, কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো, আমার এ দুটি চোখ, পাখি রে তুই দূরে থাকলে, প্রেমের নাম বেদনা, তোমারি পরশে জীবন, বন্ধু তোর বরাত নিয়া, হাবলঙ্গের বাজারে, আমি পথে পথে ঘুরি, নীড় ছোট ক্ষতি নেই, দিন যায় কথা থাকে, বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে, চাঁদে কলঙ্ক আছে, গানেরই খাতায়, একটা ছিল সোনার কন্যা প্রভৃতি।

২০১৯ সালের ৭ মে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। আজে গায়কের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী।