আজ ৭ মে একুশে পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী প্রয়াত সুবীর নন্দীর জন্মদিন। ১৯৫৩ সালে সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার এক সংগীত পরিবারে জন্ম তাঁর। শৈশবে মায়ের কাছে সংগীতের হাতেখড়ি। সত্তর দশকে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন তিনি। এরপর চার দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে কণ্ঠ দিয়েছেন আড়াই হাজারের বেশি গানে।
দীর্ঘ সংগীত জীবনে দেশের বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন এই শিল্পী। মৃত্যুর আগে এক সাক্ষাৎকারে ১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আমাদের সংসার’ ছবির ‘তোমারি পরশে জীবন আমার ওগো ধন্য হলো’ গানের পেছনের গল্প প্রকাশ করেন সুবীর নন্দী।
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে গায়ক জানিয়েছিলেন, রেকর্ডিংয়ের সময় গানের কথায় ‘র’ বর্ণটির উচ্চারণ বারবার আটকে যাচ্ছিল। যার জন্য বরেণ্য সুরকার সত্য সাহা বকেছিলেনও।
শিল্পী জানান, সেই সময়ে তাঁর পান খাওয়ার অভ্যাস ছিল। ফলে জিহ্বা কিছুটা ভারি হয়ে গিয়েছিল। যার কারণে ‘র’ শব্দের উচ্চারণ ঠিকমতো আসছিল না। একপর্যায়ে সংগীত পরিচালক সত্য সাহা বিরক্ত হয়ে পাঁচ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন। শিল্পী তখন স্টুডিওর ভেতরে কানে হেডফোন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং সত্য সাহা বাইরে প্যানেলে বসে ছিলেন।
কথায় কথায় সুবীর নন্দী বলেন, সত্য সাহার হাতের কনুইয়ের চাপে রেকর্ডিং প্যানেলের সুইচ চালু হয়ে গিয়েছিল। ফলে বাইরে থেকে সত্য সাহা যখন রাগে-ক্ষোভে আমাকে বের করে দেওয়ার কথা বলছিলেন, তা ভেতরে দাঁড়িয়ে শুনতে পাই। এরপর বাইরে এসে দাদাকে অনুরোধ করে দশ মিনিট সময় চেয়ে নিলাম। তখন সত্য সাহা আমাকে বললেন, তুমি সারাদিন সময় নাও কিন্তু ‘র’ উচ্চারণ ঠিকমতো করো।

সত্য সাহার অনুমতি নিয়ে সুবীর বাইরে এসে স্টুডিওতে থাকা আইয়ুব আলী নামের এক সহকারীকে দিয়ে ব্রাশ ও পেস্ট আনিয়ে খুব ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নেন। এরপর দ্বিতীয়বার যখন রেকর্ডিং শুরু করেন তখন কোনো বাধা ছাড়াই গানটি শেষ করতে পেরেছিলেন। সেই যে ১৯৮৬ সালে পান খাওয়া ছাড়লেন আর কোনোদিন পান খাননি তিনি।
উল্লেখ্য, গানের গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। সুরকার সত্য সাহা। সুবীর নন্দীর সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠ দেন সাবিনা ইয়াসমিন।
ইএইচ/ আরআর




