Dhaka Mail Logo

বিনোদন

জেলে যাওয়ায় প্রেম ভেঙেছে ফারিয়ার, জামিনের পর সামনে আসেননি প্রেমিক  

বিনোদন ডেস্ক

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২২ পিএম

গত বছরের ১৮ মে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে ভাটারা থানার জুলাইয়ে হওয়া একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। 

গ্রেফতারের দুইদিন পর অথাৎ ২০ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন প্রদান করলেন সেদিন তিনটা দিকে কারামুক্ত হন তিনি। এরমধ্যে কেটে গেছে অর্ধ বছরের বেশি সময়। এবার হত্যা মামলায় গ্রেফতার ইস্যুতে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। 

488885722_1212068070279037_8386750579621472168_n_20250519_133331524

সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশনের এক পডকাস্টে ফারিয়া জানান, মামলার বিষয়টি সে সময় অত গুরুত্ব দেননি। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন কানাডায়। অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘আমি শুনেছিলাম আমার নামে একটা মামলা হয়েছে। কিন্তু আমি যেহেতু সে সময় দেশে ছিলাম না, তাই এটা নিয়ে সিরিয়াস ছিলাম না। সেদিন থাইল্যান্ডে যাচ্ছিলাম আমার গানের শুটিংয়ে। এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগেও ভাবিনি, এ রকম কিছু হতে পারে। ইমিগ্রেশন শেষ করে লাউঞ্জে বসে আলু ভাজি আর রুটি খাচ্ছিলাম। এরপর কী হয়ে গেল বুঝতে পারছিলাম না। তাৎক্ষণিক আমার মা ও শিক্ষককে ফোন করি। আটকের পর আমাকে অনেক প্রশ্ন করা হয়। একসময় তাঁরা বুঝতে পারেন, আমি এর সঙ্গে জড়িত নই। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। পরদিন সকালে প্রথমবারের মতো আমি এজলাসে দাঁড়াই; যেটা এত দিন শুধু সিনেমায় দেখে এসেছি।’ 

জেলে থাকার সময়ের কথা উল্লেখ করে ফারিয়া বলেন, ‘জেলার থেকে শুরু করে সেখানকার সবাই এত সহানুভূতি ও ভালোবাসার সঙ্গে ব্যবহার করেছে, যেটা ভাবতে পারিনি। সবাই আমাকে যথেষ্ট সম্মান দিয়েছে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা না খেয়েই ছিলাম। আমি দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে, সকালে দেখেছি রুটি ছিঁড়ে মিষ্টিকুমড়া দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে। আমার যতটুকু মনে আছে, আমার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। তাদের আমি চিনিও না। জীবনে আর কখনও তাদের সঙ্গে দেখা হবে কি না, তা-ও জানি না।’

image

গ্রেফতারের ঘটনা অভিনেত্রীকে অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছে। নিজের জীবন নিয়ে ফারিয়া বলেন, ‘এটা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সবাইকে বদলে যেতে দেখেছি। ওই সময়ে একজনের সঙ্গে আমি সম্পর্কে ছিলাম। জেল থেকে বের হওয়ার পর তার চেহারাও আর দেখিনি। সে আমার সঙ্গে আর কখনো যোগাযোগ করেনি। মানুষের ওপর থেকে আস্থা-ভালোবাসা উঠে গেছে এর পর থেকে। কাছের বন্ধুরা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আমার সঙ্গে তোলা ছবি মুছে দিয়েছে। আমি বিপদে পড়েছি বুঝতে পেরে অনেকে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ওই ৪৮ ঘণ্টায় আমি বুঝে গেছি, কে আমার আপন, আর কে নয়।’ 

হত্যা মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। প্রতি মাসে আদালতে হাজিরা দিতে যান তিনি। এ ঘটনার পর অনেকে তাঁকে নিয়ে কাজ করতে সাহস পান না বলেও জানান ফারিয়া।