Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

টেকসই উদ্ভাবনে পোশাকশিল্পের ১২ উদ্যোক্তাকে পুরস্কার দেবে বিজিএমইএ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমিককল্যাণ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে অবদান রাখা ১২টি উদ্যোগকে সম্মাননা দেবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠিতব্য বাটেক্সপো ২০২৬-এর রজতজয়ন্তী আয়োজনে ‘সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ (টিএসএল) অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, চারটি প্রধান ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। এতে শ্রমিককল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন, জ্বালানি ও পানির সাশ্রয়, পুনর্ব্যবহার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার টেকসই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিজয়ীদের প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার— এই তিন স্তরে সম্মাননা দেওয়া হবে। এবারের বাটেক্সপোর টাইটেল স্পন্সর পিডিএস লিমিটেড।

বিজিএমইএ, জার্মানির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের ‘স্টাইল-২’ (STILE II) প্রকল্প এবং জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) ও বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

পুরস্কারের চারটি ক্যাটাগরি হলো— পিপল ফার্স্ট, প্ল্যানেট পজিটিভ, নেক্সট ফ্রন্টিয়ার ও রাইজিং স্ট্রেন্থ। পিপল ফার্স্ট ক্যাটাগরিতে শ্রমিককল্যাণ, মডেল কারখানা, নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটিতে অবদান রাখা উদ্যোগগুলো বিবেচিত হবে। প্ল্যানেট পজিটিভ ক্যাটাগরিতে পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, পানিসম্পদ সংরক্ষণ ও সার্কুলার টেক্সটাইলের উদ্যোগসমূহকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

নেক্সট ফ্রন্টিয়ার ক্যাটাগরিতে ব্যবসায়িক উদ্ভাবন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং শ্রমিককেন্দ্রিক উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, রাইজিং স্ট্রেন্থ ক্যাটাগরিতে ক্ষুদ্র কারখানার বড় অর্জন, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগকে পুরস্কৃত করা হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বৈশ্বিক পোশাকশিল্পের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের কারখানাগুলো সবুজায়ন ও উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড দূরদর্শী উদ্যোক্তা ও কারখানাগুলোর অবদান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরবে। এর মাধ্যমে পুরো পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

জার্মানির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশের ‘সাসটেইনেবিলিটি ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ’ (STILE/STILE II) প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. মাইকেল ক্লোড বলেন, বিজিএমইএর সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের ধারাবাহিকতায় বাটেক্সপো ২০২৬-এর টিএসএল অ্যাওয়ার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে জিআইজেড আনন্দিত। ২০১২ ও ২০১৪ সালের সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২২ সালের টিএসএল অ্যাওয়ার্ডের সহযোগিতার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবারের আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ, সমাজ ও সুশাসন (ইএসজি) চর্চায় নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনের পরিচয় দেওয়া কারখানাগুলোকে এ পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এ উদ্যোগ বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে টেকসই চর্চার বিস্তার ঘটানোর পাশাপাশি খাতটিকে আরও দায়িত্বশীল, সহনশীল ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, টেকসই উন্নয়ন কোনো বিলাসিতা বা সাময়িক প্রবণতা নয়; বরং শিল্পের টিকে থাকার শর্ত। কোটি শ্রমিকের, বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতায় টিএসএল অ্যাওয়ার্ড এমন কারখানাগুলোকে সম্মানিত করছে, যারা মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বকে জাতীয় গৌরবের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

তিনি আরও বলেন, এসব কারখানা টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্ব দিলে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ শুধু পণ্যের পরিচিতি হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীল উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে।

টিএই/এফএ