সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

‘ডিজিটাল প্রতারণা পুঁজিবাজারের আস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

‘ডিজিটাল প্রতারণা পুঁজিবাজারের আস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ’
গ্রাফিক্স: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিনিয়োগের প্রলোভন, মিথ্যা তথ্য প্রচার ও অল্প সময়ে দ্বিগুণ মুনাফার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। স্টক এক্সচেঞ্জ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে চালানো এসব প্রতারণায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পুঁজিবাজারের প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক নজরদারি, আইন প্রয়োগ, বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে ‘ডিজিটাল ডেসেপশন অ্যান্ড স্ক্যাম অ্যালার্ট’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে কার্যকর তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার মৌলিক শর্ত হলো বিনিয়োগকারীদের কাছে সময়মতো নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে ডিজিটাল প্রতারণা নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে অনেকে নিজেদের নিবন্ধিত বা লাইসেন্সধারী আর্থিক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দুই সপ্তাহের মধ্যে দুই লাখ টাকা পাওয়ার মতো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। দ্রুত ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা পনজি স্কিমসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা চালাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এসব প্রতারণার বিস্তার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারের মৌলিক তথ্যের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো কোনো ব্যক্তি কারিগরি বিশ্লেষণের নামে বাজার সম্পর্কে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, যার সঙ্গে বাজারের মৌলিক অবস্থার সম্পর্ক নেই। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। এতে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএসইর নজরদারি ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী সচেতনতা কার্যক্রম আরও কার্যকর করার কাজ চলছে।

DSE

মমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডিজিটাল প্রতারণার সমাধান সম্ভব নয়। প্রতারণামূলক প্রচারণার বিপরীতে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও ইতিবাচক বার্তাও তুলে ধরতে হবে। পুঁজিবাজারে শক্তিশালী ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুশাসন বাড়ানোর পাশাপাশি জনআস্থা তৈরিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

 

পুঁজিবাজারকে দেশের অর্থনীতির কার্যকর ও শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ডিজিটাল প্রতারণা মোকাবিলা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর নজরদারি, সচেতনতা ও যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক ও হোসাইন সাদাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

এমআর/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর