মাহফুজ উল্লাহ হিমু
২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
দেশের মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ উৎপাদিত হয় দেশেই। কিন্তু সেই ওষুধ তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল এপিআইয়ের (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েনন্ট) প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। আমদানিনির্ভরতা কমাতে প্রায় দুই দশক আগে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয় এপিআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। প্রায় ২০০ একর জমিতে তৈরি করা হয় ৪২টি শিল্প প্লট। ২৭টি শিল্প ইউনিটকে বরাদ্দ দেওয়া হয় জায়গা। কিন্তু এত বছর পরও পার্কটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়নি। এখনো সব প্লটে উৎপাদন শুরু হয়নি, আর যারা উৎপাদনে যেতে চাচ্ছেন, তারাও গ্যাস, জ্বালানি, অনুমোদন ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে আটকে আছেন।
নথি অনুযায়ী, এপিআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের পরিকল্পনা শুরু হয় ২০০৪-০৫ সালের দিকে। প্রকল্পের ধারণাপত্র ও ডিপিপি প্রণয়নসহ বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয় ২০১১-১২ অর্থবছরে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রায় দুই দশক পরও প্রকল্পটির পূর্ণ শিল্প সক্ষমতা অর্জিত হয়নি।
প্রকল্পের প্রধান অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ, কমন ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নথিতে বলা হয়েছে, অবকাঠামোর প্রধান অংশের কাজ সম্পন্ন হলেও সব প্লটে উৎপাদন শুরু হয়নি। ২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে প্লট বিক্রি করে দিয়েছে। বাকি ২৫টির মধ্যে উৎপাদনে গেছে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো: ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস, হেলথ কেয়ার ক্যামিকেলস, একমি ল্যাবরেটরিজ এবং ইউনিমেড ইউনি হেলথ ফাইন ক্যামিকেলস।
প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, সময় ও ব্যয় একাধিকবার সংশোধন, গ্যাস সংযোগ পেতে দেরি, ইউটিলিটি সুবিধা চালু করতে সময় লাগা এবং কিছু প্লটে শিল্প স্থাপনে দীর্ঘসূত্রতার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রণোদনা নয়, শিল্প উদ্যোক্তারা চান প্রক্রিয়াগুলোর সহজীকরণ
শিল্প উদ্যোক্তাদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে প্রকল্পটির বাস্তব চিত্র। এপিআই পার্কে কারখানা স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের উপ-পরিচালক বরকত আলী ঢাকা মেইলকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ বছর ধরে কাজ করছে। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে চীন ও ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছ থেকে কোনো বিশেষ প্রণোদনা চাইছি না। আমরা শুধু চাই, প্রক্রিয়াগুলো সহজ করা হোক এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।’
বরকত আলী বলেন, ‘এপিআই উৎপাদনের জন্য তাদের প্রায় ২০ কোটি টাকার কাঁচামাল প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে গ্যাস সংকট।’
এই শিল্প উদ্যোক্তা জানান, গ্যাসের সংযোগ পাওয়ার আশায় প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে জেনারেটর কিনে রেখেছিল। গ্যাস সংযোগের পর মিটার ও বিতরণব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও তৈরি করা হয়েছিল। একসময় যেকোনো দিন গ্যাস সংযোগ পাওয়ার আশা থাকলেও পরে জানানো হয়, গ্যাস দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। এখন আবার গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে শোনা গেলেও বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
গ্যাসের সংযোগ পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, গ্যাসের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন চালালে আন্তর্জাতিক বাজারে চীন ও ভারতের সঙ্গে দামে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এপিআই উৎপাদনে শুধু জ্বালানি সংকটই নয়, পরিবেশগত অবকাঠামো নিয়েও সমস্যার কথা জানিয়েছেন এই উদ্যোক্তা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কারখানার ইটিপি থাকলেও সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া বিপজ্জনক রাসায়নিক কাঁচামাল আমদানির জন্য একাধিক সরকারি সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়। সালফিউরিক অ্যাসিডের মতো রাসায়নিকের ক্ষেত্রে বিস্ফোরক অধিদফতরের অনুমোদন এবং টলুইনের মতো উপাদানের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এসব লাইসেন্স প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়। সব মিলিয়ে একটি কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১১টি সরকারি দফতর বা কর্মকর্তার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় বলে জানান তিনি।
বরকত আলী বলেন, ‘এভাবে চললে আমরা কি চীন বা ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারব? কখনোই পারব না।’তার মতে, অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে, উৎপাদন ব্যয় কমানো গেলে এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের এপিআই শিল্প অনেক দূর এগোতে পারে।
ওষুধ শিল্পের জন্য বড় সম্ভাবনা
বাংলাদেশের ওষুধশিল্পে এপিআই উৎপাদনের সম্ভাবনা বিশাল। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের এপিআই বাজারের আকার প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। এর মাত্র ৫ শতাংশ বাজারও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করতে পারলে তা বড় অর্জন হবে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা।

এপিআই শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের বিষয়টিও। পেটেন্ট-সংক্রান্ত সুবিধা কমে গেলে বা পরিবর্তিত হলে দেশীয় ওষুধশিল্পকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। ফলে দেশীয়ভাবে কাঁচামাল উৎপাদন এবং বিকল্প উৎপাদন পদ্ধতির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বরকত আলী বলেন, কোভিড মহামারির সময় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি কঠিন হয়ে পড়লে দেশীয় এপিআই শিল্পের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন ওষুধের প্রয়োজনীয় উপাদান দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ করেছে। এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওষুধের কাঁচামালে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা থাকা দরকার।
তার মতে, পুরোপুরি উৎপাদন সক্ষমতায় যেতে পারলে এপিআই পার্ক দেশের চাহিদার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোই লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তবে এপিআই শিল্পকে কেবল একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা হিসেবে দেখলে চলবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একটি ওষুধের মূল এপিআইয়ের পাশাপাশি সলভেন্ট, এক্সিপিয়েন্ট, বিভিন্ন অ্যাসিড এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান প্রয়োজন হয়। ফলে এ শিল্পের সঙ্গে রাসায়নিক উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি বড় সরবরাহব্যবস্থা যুক্ত।
এদিকে এপিআই পার্কে বরাদ্দ পাওয়া সব প্রতিষ্ঠান এখনো উৎপাদনে যায়নি। কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বন্ধ করেছে বা অন্যত্র চলে গেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতে এসব প্লটে আবার উৎপাদন শুরু হতে পারে কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর হতে পারে। সব মিলিয়ে পার্কে ভবিষ্যতে সাত থেকে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পার্কটি চালু হতে বাধা কোথায়?
তবে সেই সম্ভাবনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সংযোগ না থাকায় ডিজেল বা অন্য বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন চালানো গেলেও পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখা যাচ্ছে না।
এপিআই পার্কের উদ্যোক্তারা বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার কথাও ভাবছেন। কয়লাবিহীন একটি জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য পাশের এলাকায় প্রায় ৬০ বিঘা জমির প্রয়োজনের কথা সরকারকে জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত দল এ নিয়ে কাজও করছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের অনুমোদন এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে।
অন্যদিকে এপিআই পার্কের আরেকটি বড় সমস্যা অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাসায়নিক ও কাঁচামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক সংস্থার অনুমোদন ও নিয়মিত লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এতে উৎপাদন পরিকল্পনা ও সরবরাহব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
এ বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটিও কাজ করেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে শিল্প খাতের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সেখানে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সুপারিশ ও প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ শিল্পাঞ্চলে রাসায়নিক ও কাঁচামাল ব্যবস্থাপনার জন্য কেন্দ্রীয় গুদাম ও ডিজিটাল যাচাইব্যবস্থা রয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা গেলে প্রতিটি কাঁচামালের জন্য আলাদা আলাদা পরিদর্শন ও অনুমোদনের সময় কমানো সম্ভব।
এপিআই শিল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো বাজার। দেশীয় বাজারে উৎপাদিত পণ্যের দাম আমদানিকৃত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক না হলে উদ্যোক্তারা উৎপাদনে আগ্রহ হারাতে পারেন। ফলে শিল্পের জন্য শুধু অবকাঠামো তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে সহায়ক পরিবেশও প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প মালিক সমিতির নেতা সাইফুল আলম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে সরকারের লজিস্টিক সহায়তা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় ডিজেল ব্যবহার করে উৎপাদন করতে হচ্ছে। এতে মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতা করা গেলেও দামের দিক থেকে চীন ও ভারতের সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।’

সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা এখানে গ্যাসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট পেলে মানসম্মত পণ্য প্রতিযোগিতামূলক দামে উৎপাদন করতে পারব।’
সাইফুল আলমের দাবি, এপিআই পার্কের উৎপাদন সুবিধা, কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগ, ইটিপি ও রক্ষণাবেক্ষণব্যবস্থা বিশ্বমানের। ইউরোপীয় মান অনুসরণ করে কারখানা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি ও অন্যান্য লজিস্টিক সুবিধার অভাবে সেই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
এপিআই পার্কের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, সরকার যদি গ্যাস বা বিকল্প জ্বালানি, দ্রুত অনুমোদন, আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মান অর্জনে সহযোগিতা করে, তাহলে বাংলাদেশ এপিআই উৎপাদনে বড় বাজার তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর ওষুধশিল্পের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় দেশীয় কাঁচামাল উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।
প্রায় দুই দশক আগে যে প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দেশের ওষুধশিল্পকে কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা থেকে বের করে আনা, সেটি এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে পারেনি। প্রায় ২০০ একর জমি, ৪২টি শিল্প প্লট এবং ২৭টি বরাদ্দের পরও উৎপাদন শুরু হয়নি সব প্লটে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—অবকাঠামো তৈরি হওয়ার পরও গ্যাস, অনুমোদন, বিনিয়োগ ও বাজারের সমস্যার সমাধান না হলে এপিআই পার্ক কবে সত্যিকার অর্থে দেশের ওষুধশিল্পের কাঁচামাল ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে?
দেশের ওষুধশিল্পের কাঁচামালে আমদানিনির্ভরতা কমাতে ২০০৮ সালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রায় ২০০ একর জমিতে ৪২টি শিল্প প্লট নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় বিসিক। প্রাথমিকভাবে ২০১০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় একাধিকবার বাড়ানো হয়।
২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর, নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এপিআই শিল্পপার্কটি উদ্বোধন করেন। পরে চার দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শেষ হয়।
তবে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও শিল্প উৎপাদন শুরু করতে গিয়ে নতুন সংকটে পড়ে প্রকল্পটি। গ্যাস-সংযোগ না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পারেনি। ২০২১ সালে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কারখানা নির্মাণ শুরু করলেও সংশ্লিষ্টরা আশা করেছিলেন, ধীরে ধীরে সব প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাবে। কিন্তু ২০২৬ সালেও পার্কটির সব প্লটে উৎপাদন শুরু হয়নি। ফলে ২০০৮ সালে অনুমোদন, ২০১০ সালে শেষ হওয়ার লক্ষ্য, ২০১৮ সালে উদ্বোধন এবং ২০২১ সালে নির্মাণকাজ শেষ—তবু প্রায় দুই দশক পরও পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারেনি এপিআই শিল্পপার্ক।
এমএইচ/জেবি