জেলা প্রতিনিধি
১১ মে ২০২৬, ০১:০৩ এএম
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশব্যাপী উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভা মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। দলের কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশের ১০০ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। ঘোষিত তালিকায় নীলফামারী জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এনসিপির জেলা সদস্য সচিব ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ। অপরদিকে, জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনীত হয়েছেন দলের উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিওন।
মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই মনোনয়নকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে আনার মাধ্যমে এনসিপি নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মহসিন আলী বলেন, “দল যোগ্য ও জনবান্ধব ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়েছে। আমরা আশা করি, তারা নির্বাচিত হলে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।”
কুন্দপুকুর ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বাবু ও ইলিয়াস আহমেদ বলেন, “বর্তমান সময়ে মানুষ উন্নয়নমুখী ও সৎ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। নতুন প্রার্থীরা সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাদিকুল ইসলাম বলেন, “তরুণ নেতৃত্ব স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা চাই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটুক।”
এ ছাড়া প্রবীণ রাজনীতিবিদ এ কে এম হামিদুল ইসলাম কিরণ ও সমাজসেবক মোহাম্মদ সিদ্দিক আলীও এই মনোনয়নকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
মনোনয়ন প্রসঙ্গে ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, সারা বাংলাদেশে এনসিপি ঘোষিত ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীর তালিকায় নীলফামারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমাকে মনোনীত করায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা নিয়ে একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব উপজেলা গঠনে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে থেকে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করেছি। নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যুব উন্নয়ন ও ডিজিটাল সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করব।”
অন্যদিকে, জলঢাকার মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ লিওন বলেন, “জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা মাঠে কাজ করছি। দল যে আস্থা রেখেছে, তা জনগণের সেবার মাধ্যমে প্রতিফলিত করতে চাই।”