গুগলের অধীন বিশ্বের জনপ্রিয় ই-মেইল পরিষেবা জিমেইল। যার ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েক কোটি। এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর। প্রতিষ্ঠানটি নতুন ফিচার আসছে।
গুগলের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বিষয়ক জনসংযোগ প্রধান রস রিচেনড্রেফার নিশ্চিত করেছেন যে গুগল ফোন নম্বরের পরিবর্তে কিউআর কোডের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন চালু করতে চলেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ভয়েস মেসেজ ট্রান্সক্রিপশন ফিচার আনল হোয়াটসঅ্যাপ
টেক জায়ান্ট সংস্থার সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ফোবসের একটি প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে জিমেইলে এসএমএস ভিত্তিক লগইন ভেরিফিকেশন পদ্ধতি বাতিল করা হতে পারে। বদলে চালু হতে পারে কিউআর কোড।
নতুন পদ্ধতিতে ইউজাররা মোবাইল নম্বরে ওটিপি পাওয়ার বদলে স্ক্রিনে একটি কিউআর কোড দেখতে পাবেন। সেটা স্ক্যান করলেই ভেরিফিকেশন হয়ে যাবে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে জিমেইলে ‘টু ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ পদ্ধতি চালু রয়েছে। কিন্তু এই ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। কারণ এসএমএসের মাধ্যমে যে ৬ সংখ্যার কোড ইউজারের কাছে পাঠানো হয়, তা যেকোনো সময় হ্যাক হতে পারে। ফিশিং হামলা ও সিম-স্ব্যাপিং-এর শিকার হতে পারেন ইউজাররা। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই কিআর কোড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
কিউআর কোড ভিত্তিক অথেনটিকেশন পদ্ধতিতে প্রতারণার সম্ভাবনা কমবে বলে দাবি টেক জায়ান্ট সংস্থার। কারণ ইউজার সরাসরি গুগলের সঙ্গে সংযোগ করবেন। মাঝে আর নেটওয়ার্ক অপারেটররা থাকবে না। প্রতারণার ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি এতে যেহেতু কোনও কোড টাইপ বা শেয়ার করতে হবে না, তাই কোড চুরির আশঙ্কার থাকবে না। গুগল স্পষ্ট জানিয়েছে, এসএমএস ভিত্তিক অথেনটিকেশন নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ইউজারকে সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করতেই নতুন ব্যবস্থা আনা হচ্ছে।
কিউআর কোড ভিত্তিক নতুন অথেনটিকেশন পদ্ধতি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি গুগল। খুব শিগগিরই এই বিষয়ে জানানো হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফোবসের প্রতিবেদনে চলতি বছরের শেষ দিকে এই পদ্ধতি চালু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তবে গুগলই প্রথম নয়। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (আগে ট্যুইটার), সিগন্যাল, অ্যাপল, মাইক্রোসফট-ও এসএমএসের পরিবর্তে আরও নিরাপদ অথেন্টিকেশন পদ্ধতি চালু করেছে। যেমন অথেনটিকেটর অ্যাপে তৈরি এককালীন কোড (ওয়ান টাইম কোডস)। গুগলও এবার সেই পথেই হাঁটছে। এসএমএসের ঝুঁকি এড়িয়ে চালু করতে চলেছে আরও নিরাপদ অথেনটিকেশন ব্যবস্থা।
এজেড