স্ত্রী থাকা অবস্থায় তার আপন বোনকে বিয়ে করা কি জায়েজ? স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর বা স্ত্রী মারা গেলে শ্যালিকাকে বিয়ে করতে বাধা আছে কি? এ বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। তবে তালাকের ধরন ও ইদ্দতের বিধান অনুযায়ী কিছু পার্থক্য রয়েছে।
স্ত্রী থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করা হারাম
একই সময়ে দুই বোনকে বিয়ে করা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর দুই বোনকে একত্রে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করাও (তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে)। তবে অতীতে যা হয়ে গেছে, তা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা নিসা: ২৩)
উম্মু হাবিবা (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (স.)-কে তার বোনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘এটা আমার জন্য হালাল নয়।’ (সহিহ বুখারি: ৫১০৭)
স্ত্রী বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিয়ে করা হারাম। এ অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়েটি বৈধ হবে না এবং তা থেকে বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। তবে দ্বিতীয় বিয়ের কারণে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ ভেঙে যাবে না। জেনেশুনে এমন নিষিদ্ধ কাজ করলে স্বামী গুনাহগার হবেন। (বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬৩)
একইভাবে কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সঙ্গে একসঙ্গে বিবাহবন্ধনে রাখাও নিষিদ্ধ। (সহিহ বুখারি: ৫১০৮)
আরও পড়ুন: স্ত্রী মারা গেলে মোহরানার টাকার কী হবে?
স্ত্রী মারা গেলে
স্ত্রী মারা গেলে তার বোনকে বিয়ে করা জায়েজ। এ ক্ষেত্রে স্বামীর ইদ্দত নেই। তবে শ্যালিকা অবিবাহিত হতে হবে, তার ইদ্দত চলমান থাকা যাবে না এবং বিয়ের অন্যান্য শরয়ি শর্ত পূরণ করতে হবে।
স্ত্রীকে তালাক দিলে
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর তার ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শ্যালিকাকে বিয়ে করা যাবে না। ইদ্দত শেষ হলে এবং অন্য কোনো শরয়ি বাধা না থাকলে বিয়ে করা জায়েজ।
তবে বায়েন তালাকের ইদ্দতকালে শ্যালিকাকে বিয়ে করার বিধান নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে নির্ভরযোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শ্যালিকা নিজে বিবাহিত হলে
শ্যালিকা অন্য কারও স্ত্রী হলে তাকে বিয়ে করা যাবে না। তার আগের বিয়ে বৈধভাবে শেষ হওয়ার পর এবং প্রযোজ্য ইদ্দত পূর্ণ হলে অন্য কোনো শরয়ি বাধা না থাকলে বিয়ে করা যেতে পারে।
ইসলাম গ্রহণের সময় দুই বোন স্ত্রী থাকলে
আরও পড়ুন: স্বামী-স্ত্রী কে কোন পাশে ঘুমানো সুন্নত?
ফাইরোজ আদ-দাইলামি (রা.) রাসুলুল্লাহ (স.)-কে জানান, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন, অথচ তার বিবাহে দুই বোন রয়েছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে বলেন, ‘তাদের যেকোনো একজনকে তালাক দিয়ে দাও।’ (সুনান ইবনে মাজাহ: ১৯৫১)
শ্যালিকা কি মাহরাম?
না, শ্যালিকা মাহরাম নন। মাহরাম হলেন এমন ব্যক্তি, যার সঙ্গে বিয়ে চিরতরে নিষিদ্ধ। শ্যালিকার সঙ্গে বিয়ের নিষেধাজ্ঞা সাময়িক। স্ত্রী বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিয়ে করা হারাম। স্ত্রীকে তালাক দিলে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী তার ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। স্ত্রী মারা গেলে বা ইদ্দত শেষ হলে অন্য কোনো শরয়ি বাধা না থাকলে শ্যালিকাকে বিয়ে করা জায়েজ।
শ্যালিকা গায়রে মাহরাম হওয়ায় তার সঙ্গে পর্দার বিধান মেনে চলা জরুরি।
মোটকথা, স্ত্রী বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ে করা হারাম। স্ত্রী মারা গেলে বা তালাকের পর ইদ্দত শেষ হলে, অন্য কোনো শরয়ি বাধা না থাকলে শ্যালিকাকে বিয়ে করা জায়েজ।
তথ্যসূত্র: সুরা নিসা: ২৩; সহিহ বুখারি: ৫১০৭-০৮; সুনান ইবনে মাজাহ: ১৯৫১; বাদায়েউস সানায়ে: বাদায়েউস সানায়ে: ২/২৬৩




