বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

স্ত্রী মারা গেলে মোহরানার টাকার কী হবে?

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৩, ০৫:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

স্ত্রী মারা গেলে মোহরানার টাকার কী হবে?

মোহরানা নারীর শরিয়তপ্রদত্ত আর্থিক অধিকার। বিয়ের মাধ্যমে এটি স্ত্রীর প্রাপ্য হিসেবে স্বামীর ওপর অপরিহার্যভাবে নির্ধারিত হয়। তাই কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সন্তুষ্টচিত্তে তা আদায় করতে হয়। কোরআনুল কারিমের বর্ণনায়- ‘আর তোমরা নারীদের তাদের মোহরানা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে প্রদান করো...।’ (সুরা নিসা: ৪) সর্বনিম্ন মোহরানা কত

আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘...সুতরাং তাদের অভিভাবকের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে করবে এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের প্রতিমূল্য (মোহরানা) আদায় করবে...।’ (সুরা নিসা: ২৫) 

এ আয়াতের শব্দচয়ন থেকে বোঝা যায়, মোহরানা নারীর প্রাপ্য ও অধিকার। ছলে-বলে-কৌশলে নারীকে সে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অতি ভালোবাসার ছল করে ‘মোহর মাফ’ করা বা মাফ করিয়ে নেওয়ার সংস্কৃতি চালু হয়েছে আমাদের সমাজে। যা ইসলাম সমর্থন করে না। যে স্বামীর মনে স্ত্রীর মোহর আদায়ের ইচ্ছাটুকুও নেই, হাদিস শরিফে তাঁকে বলা হয়েছে ‘ব্যভিচারী’। (দেখুন- মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৪/৫২২-৫২৩)

আরও পড়ুন: স্ত্রী মাফ করে দিলে কি মোহর মাফ হয়? মোহরানা কি মাফ হয়

মোহরানা আদায়ের আগেই যদি স্ত্রীর মৃত্যু হয়, তাহলে অনাদায়কৃত মোহরানা স্বামীর ওপর ঋণ হিসেবে বহাল থাকে। স্ত্রীর মৃত্যুর পর এই পাওনা তার সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টিত হবে। তবে স্বামী নিজেও উত্তরাধিকারী হওয়ায় তিনি যে অংশ পাবেন, তা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট মোহরানা অন্য ওয়ারিসদের মধ্যে বণ্টন করবেন। (ফাতহুল কাদির: ৩/৩৭৮)

আরও পড়ুন: ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি মোহরানা যার

উল্লেখ্য, মোহর তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না হলেও বিয়ে শুদ্ধ হয়। তবে পরিশোধের সময় নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত। সময় নির্ধারণ না হলে মোহর আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী চাইলে স্বামীর সংসারে যেতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন। এ অবস্থায়ও স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপরই থাকবে। কারণ মোহরানা ও ভরণ-পোষণ দুটি পৃথক অধিকার। (দুররে মুখতার: ৪/২৯০)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মোহরানার টাকার ব্যাপারে এবং নারীর সকল অধিকারের ব্যাপারে সচেতনতা দান করুন। আমিন।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর