সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

আরব ভূমিতে কেয়ামতের ৬ আলামত

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

আরব ভূমিতে কেয়ামতের ৬ আলামত

কেয়ামত কখন হবে, তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। তবে কোরআন ও হাদিসে কেয়ামতের আগে ঘটবে এমন কিছু আলামতের কথা এসেছে। এর কয়েকটি আরব উপদ্বীপ, মক্কা ও মদিনার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোথাও আরব ভূমি সবুজ হয়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে, কোথাও এসেছে মক্কা-মদিনার বিশেষ ঘটনা এবং কাবা ধ্বংসের বিবরণ।

এখানে ‘আরব ভূমি’ বলতে আরব উপদ্বীপকে বোঝানো হয়েছে। এর অন্তর্ভুক্ত সৌদি আরব, ইয়েমেন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত। হাদিসে বর্ণিত ছয়টি আলামত তুলে ধরা হলো।

১. আরব ভূমি আবার সবুজ ও নদীনালায় ভরে উঠবে

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, কেয়ামত হবে না, যতক্ষণ না সম্পদ প্রচুর বেড়ে যাবে। এমন সময় আসবে, যখন একজন ব্যক্তি জাকাত নিয়ে ঘুরেও তা গ্রহণ করার মতো কাউকে পাবেন না। আরবের মাঠ ঘাট তখন চারণভূমি ও নদী-নালায় পরিণত হবে।

হাদিসে আরব ভূমির প্রাকৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি সম্পদের প্রাচুর্যের কথাও এসেছে। তাই কোনো এলাকায় সাময়িক বৃষ্টিপাত বা সবুজায়ন দেখা গেলেই এই আলামত পূর্ণ হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে না। (তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম: ২২২৯)

আরও পড়ুন: আরবের মরুভূমিতে বন্যা সম্পর্কে হাদিসে যা আছে

২. উঁচু ভবন নির্মাণে প্রতিযোগিতা

জিবরাইল (আ.)-এর বিখ্যাত হাদিসে কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, খালি পা, অপ্রতুল পোশাক পরা দরিদ্র মেষপালকদের উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে দেখা যাবে।

আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন শহরে আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের কারণে হাদিসটি প্রায়ই আলোচনায় আসে। তবে হাদিসে কোনো নির্দিষ্ট দেশ, ভবন বা প্রকল্পের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাই বর্তমানের কোনো স্থাপনাকে এই আলামতের চূড়ান্ত রূপ বলা উচিত নয়। (তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৫০; সহিহ মুসলিম: ৮)

৩. হিজাজ থেকে আগুন বের হবে

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, হিজাজের ভূমি থেকে এমন আগুন বের হবে, যার আলো সিরিয়ার বুসরা এলাকার উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত করে দেবে। (তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ৭১১৮; সহিহ মুসলিম: ৭১৮১)

আরও পড়ুন: সময় সংকোচন: কেয়ামতের নিঃশব্দ আলামত ও আমাদের করণীয় 

৪. মক্কার দিকে অগ্রসর বাহিনী ভূমিতে ধসে যাবে

উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, এক ব্যক্তি পবিত্র কাবায় আশ্রয় নিলে তাকে আক্রমণ করার জন্য একটি বাহিনী পাঠানো হবে। বাহিনীটি একটি প্রান্তরে (নাম: বাইদা) পৌঁছালে তাদের ভূমিতে ধসিয়ে দেওয়া হবে।

উম্মে সালামা (রা.) জানতে চাইলেন, বাহিনীতে অনিচ্ছায় যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের কী হবে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, তাদেরও ধসিয়ে দেওয়া হবে, তবে কেয়ামতের দিন তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত করা হবে। (তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম: ৭১৩২/৩৩)

৫. দাজ্জাল মদিনার কাছে এলে নগরী কেঁপে উঠবে

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, মক্কা ও মদিনা ছাড়া এমন কোনো শহর নেই, যেখানে দাজ্জাল প্রবেশ করবে না। এ দুই শহরের প্রতিটি প্রবেশপথে ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে পাহারা দেবেন। দাজ্জাল মদিনার কাছে এলে নগরীটি তার অধিবাসীদের নিয়ে তিনবার কেঁপে উঠবে। এরপর আল্লাহ সেখান থেকে সব কাফের ও মুনাফিককে বের করে দেবেন। (তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ১৮৮১)

৬. হাবশিরা কাবা ধ্বংস করবে

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, হাবশার অধিবাসী পায়ের সরু নলা বিশিষ্ট লোকেরা কাবা ধ্বংস করবে। হাদিসে তাদের ‘যুস-সুওয়াইকাতাইন’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের সরু পায়ের কথা বর্ণনায় এসেছে। (তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি: ১৫৯৬)

কেয়ামতের সময় জানেন একমাত্র আল্লাহ

হাদিসে বর্ণিত এসব আলামত মুসলমানদের আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে কোনো প্রাকৃতিক পরিবর্তন, ভবন নির্মাণ বা সমসাময়িক ঘটনাকে যাচাই ছাড়া কেয়ামতের নিশ্চিত আলামত বলে প্রচার করা উচিত নয়। এসব ঘটনা দেখে কেয়ামত কত দূরে, তা নির্ধারণ করারও সুযোগ নেই।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, কেয়ামতের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে। তাই আলামত সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ঈমান, সৎকাজ, তাওবা ও মানুষের হক আদায়ের প্রতি মনোযোগী হওয়া জরুরি।

তথ্যসূত্র: সুরা লুকমান: ৩৪; সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর