নারীদের পোশাক শালীন ও পর্দাশীল হওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তাই অনেক নারী এমন পোশাক পরেন, যার নিচের অংশ পায়ের গিরার নিচে থাকে। হাঁটার সময় সেই অংশ মাটিতে লেগে যায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে- এতে কি পোশাক নাপাক হয়ে গেল? নামাজের আগে কি তা ধুতে হবে?
এ বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি বুঝতে হলে নারীদের পোশাক লম্বা রাখার বিধান এবং পথে মাটিতে লাগার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নির্দেশনা দুটোই জানা দরকার।
নারীদের পোশাক লম্বা রাখার বিধান
উম্মে সালামা (রা.) রাসুলুল্লাহ (স.)-কে নারীদের পোশাকের নিচের অংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি এক বিঘত পরিমাণ নিচে রাখার কথা বললে উম্মে সালামা (রা.) বলেন, এতে পা অনাবৃত হয়ে যেতে পারে। তখন রাসুলুল্লাহ (স.) এক হাত পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দেন। (জামে তিরমিজি: ১৭৩১)
এ থেকে বোঝা যায়, নারীদের পোশাকের নিচের অংশ লম্বা রাখার অনুমতি ও নির্দেশনার সঙ্গে পর্দার বিষয়টি জড়িত। তাই পোশাকের নিচের অংশ মাটিতে লাগতে পারে-এই আশঙ্কায় তা ছোট করে ফেলার প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন: শালীন পোশাক নিয়ে যা বলেছেন নবীজি
পথে পোশাক মাটিতে লাগলে
এ বিষয়ে উম্মে সালামা (রা.)-এর আরেকটি বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একজন নারী, যার পোশাকের নিচের অংশ লম্বা থাকে এবং আমি নোংরা জায়গায় চলাফেরা করি।’ রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁকে বলেন, ‘তারপরের রাস্তা তাকে পবিত্র করে দেয়।’ (সুনান আবু দাউদ: ৩৮৩; জামে তিরমিজি: ১৪৩)
হাদিসটি নারীদের দীর্ঘ পোশাকের নিচের অংশ মাটিতে লাগার বাস্তব পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বলা হয়েছে। তাই রাস্তায় পোশাকের নিচের অংশ মাটিতে লাগলেই সেটিকে নাপাক মনে করার প্রয়োজন নেই।
তবে কোনো নাপাকি লেগেছে বলে নিশ্চিত হলে তা পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
মাটি বা কাদা দেখলেই নাপাক নয়
রাস্তার মাটি, ধুলা কিংবা কাদা দেখলেই তাকে নাপাক মনে করা ঠিক নয়। কোনো জায়গায় নাপাকি আছে কি না, তা নিশ্চিত না হলে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে পোশাক নাপাক হয়ে গেছে বলা যাবে না।
বিশেষ করে শুকনো মাটি বা ধুলা পোশাকে লাগার পর নাপাকি স্থানান্তরিত হয়েছে-এমন নিশ্চয়তা না থাকলে পোশাক আগের অবস্থাতেই পবিত্র হিসেবে গণ্য হবে। এতে অযথা সন্দেহ ও ওয়াসওয়াসা থেকেও বাঁচা যায়।
আরও পড়ুন: বিধবা নারীর সাদা পোশাক পরা কি ইসলামি নির্দেশনা?
নাপাকি লাগলে পুরো পোশাক ধুতে হবে?
পুরো পোশাক ধোয়ার প্রয়োজন নেই। যে অংশে নাপাকি লেগেছে, সেটি পানি দিয়ে পরিষ্কার করলেই যথেষ্ট।
ঋতুস্রাবের রক্ত কাপড়ে লাগার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সে তা ঘষে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবে।’ (সহিহ বুখারি: ২২৭)
নাপাকি দূর করার মূল উদ্দেশ্য হলো তার বস্তু ও প্রভাব সরিয়ে ফেলা। তাই সবক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যকবার ধোয়া জরুরি নয়। হানাফি ফিকহে অদৃশ্য নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে কিছু বিস্তারিত বিধান রয়েছে। আধুনিক ওয়াশিং মেশিনে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে কাপড় ভালোভাবে ধুয়ে নিলেও পবিত্রতা অর্জিত হয়।
কাপড়ে নাপাকি লাগলে অজু ভাঙে না
কাপড়ে নাপাকি লাগার কারণে অজু ভেঙে যায় না। অজু ভাঙার জন্য শরিয়তে নির্ধারিত অন্যকোনো কারণ ঘটতে হয়।
তাই কাপড়ে নাপাকি লেগে গেলে শুধু আক্রান্ত স্থানটি পরিষ্কার করলেই হবে। অজু বহাল থাকলে নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই।
সন্দেহ হলে কী করবেন?
হাঁটার পর পোশাকের নিচে কাদা বা ময়লা দেখা গেল, কিন্তু সেটি নাপাকি কি না জানা গেল না। এমন অবস্থায় শুধু সন্দেহের কারণে পোশাক নাপাক ধরে নেওয়া যাবে না।
শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো- নিশ্চিত বিষয় শুধু সন্দেহের কারণে পরিবর্তিত হয় না। তাই নাপাকি নিশ্চিত হলে তা পরিষ্কার করতে হবে। আর নিশ্চিত না হলে অযথা দুশ্চিন্তা প্রয়োজন নেই।
পবিত্রতার প্রতি যত্ন থাকবে, তবে অযথা সন্দেহে নিজেকে ভারাক্রান্ত করা নয়-এটাই ইসলামের শিক্ষা।
তথ্যসূত্র: সুরা মুদ্দাসসির: ৪; সুরা বাকারা: ২২২; সহিহ বুখারি: ২২৭; সুনান আবু দাউদ: ৩৮৩; জামে তিরমিজি: ১৪৩, ১৭৩১



