সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

এই ৫ বিষয়ে কখনো ঠাট্টা করবেন না

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

এই ৫ বিষয়ে কখনো ঠাট্টা করবেন না

মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। তিনি মানুষকে সম্মানিত করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি এবং স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। তাদের পবিত্র রিজিক দিয়েছি এবং আমার অনেক সৃষ্টির ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ৭০)

তাই কারও সম্মানহানি হয়, এমন আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে হাসি-ঠাট্টার নামে কাউকে অপমান করা ইসলামি শিষ্টাচারের সঙ্গে যায় না। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের একে অপরকে উপহাস করা, দোষারোপ করা এবং মন্দ নামে ডাকা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। (সুরা হুজরাত: ১১)

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও কাউকে নিয়ে হাসাহাসি খুবই সাধারণ হয়ে উঠেছে। অনেক সময় নিছক মজা করতে গিয়ে এমন কথা বলা হয়, যা অন্যের মনে গভীর কষ্ট দেয়। অথচ ইসলামে সব ধরনের ঠাট্টা-রসিকতা নিষিদ্ধ নয়। তবে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে ঠাট্টা করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত।

১. ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ঠাট্টা

আল্লাহ, কোরআন, রাসুল (স.) কিংবা ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে উপহাস করা ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এটি নিছক হাসি-তামাশা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলকে নিয়ে ঠাট্টা করছিলে?’ এরপর বলা হয়েছে, ‘তোমরা ঈমান আনার পর কুফরি করেছ।’ (সুরা তাওবা: ৬৫-৬৬)

ফিকহের আলেমরা বলেন, ইসলামের কোনো বিষয়কে হেয় বা উপহাস করার উদ্দেশ্যে ঠাট্টা করা কুফরির পর্যায়ে যেতে পারে। তাই নামাজ, রোজা, পর্দা কিংবা ইসলামের কোনো বিধানকে হাসির বিষয় বানানো থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকা জরুরি।

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ইসলামি নিয়ম-কানুন যা সবার জানা দরকার

২. কারও শারীরিক ত্রুটি নিয়ে ঠাট্টা

কারও উচ্চতা, গায়ের রঙ, শারীরিক গঠন কিংবা কোনো ত্রুটি নিয়ে মজা করা উচিত নয়। এতে মানুষটি কষ্ট পেতে পারেন।

একবার আয়েশা (রা.) হজরত সাফিয়্যা (রা.)-এর খাটো হওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন। তখন রাসুল (স.) তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘তুমি এমন একটি কথা বলেছ, যা সমুদ্রের পানিতে মিশিয়ে দিলেও তা দূষিত করে দিত।’ (জামে তিরমিজি: ২৫০২)

তাই কারও শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে হাসাহাসি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

৩. কারও দারিদ্র্য বা অভাব নিয়ে ঠাট্টা

কারও পুরোনো পোশাক, কম দামি জিনিস কিংবা আর্থিক দুরবস্থা নিয়ে মজা করা ঠিক নয়। এতে তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগতে পারে।

আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম।’ (সুরা হুজুরাত: ১১) রাসুল (স.) বলেছেন, প্রকৃত দরিদ্র এমন ব্যক্তিও হতে পারেন, যার অভাব অন্যরা বুঝতে পারে না এবং যিনি মানুষের কাছে হাত পাতেন না। (সহিহ বুখারি: ১৪৭৯)

তাই কারও অভাবকে হাসির বিষয় বানানো উচিত নয়। সম্পদ বা পোশাক দিয়ে মানুষের মর্যাদা বিচার করা মুমিনের কাজ নয়।

আরও পড়ুন: আত্মীয়ের দুঃসময়ে উদাসীন থাকা ইসলামি স্বভাব নয় 

৪. কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা পরিচয় নিয়ে ঠাট্টা

কারও ব্যক্তিগত দুর্বলতা, ভুল বা এমন কোনো বিষয় নিয়ে মজা করা উচিত নয়, যা তাকে বিব্রত করে। একইভাবে কারও নাম বিকৃত করে ডাকা বা অপমানজনক নামে পরিচিত করাও ঠিক নয়।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না।’ (সুরা হুজরাত: ১১)

বন্ধুদের মধ্যে মজা করে নাম বিকৃত করে ডাকার প্রবণতা দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কাউকে নিয়ে এমন ট্রল করা হয়। এসব থেকে বিরত থাকা উচিত।

৫. অন্যের ভুল, ব্যর্থতা বা বিপদ নিয়ে ঠাট্টা

কেউ ভুল করলে, কোনো কাজে ব্যর্থ হলে কিংবা বিপদে পড়লে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা উচিত নয়। আজ যে বিপদে পড়েছে, কাল একই বিপদ আমাদেরও হতে পারে।

রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তোমার কোনো ভাইয়ের বিপদে তুমি আনন্দ প্রকাশ করো না। এরকম করলে আল্লাহ তাকে দয়া করবেন এবং তোমাকে সেই বিপদে নিক্ষিপ্ত করবেন।’ (জামে তিরমিজি: ২৫০৬)

তাই কারও বিপদ দেখে মজা না করে তার পাশে দাঁড়ানো উচিত। কারও ভুল হলে তাকে অপমান না করে সংশোধনে সহযোগিতা করাই উত্তম।

হাসি-ঠাট্টারও সীমা আছে

মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলা যাবে না। রাসুল (স.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘ধ্বংস তার জন্য, যে মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯০)

মজার ছলে কাউকে ভয় দেখানো উচিত নয়। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের জন্য অন্য কোনো মুসলিমকে আতঙ্কিত করা বৈধ নয়।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫০০৪)

হাসি-ঠাট্টা মানুষের আনন্দের কারণ হতে পারে। তবে সেই আনন্দ যেন কারও অপমান বা কষ্টের কারণ না হয়। ‘আসুন, আমরা আমাদের কথা ও আচরণে সচেতন হই, আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমিন।’

তথ্যসূত্র: সুরা বনি ইসরাঈল: ৭০ সুরা হুজরাত: ১১, সুরা তাওবা: ৬৫-৬৬; জামে তিরমিজি: ২৫০২, ২৫০৬; সহিহ বুখারি: ১৪৭৯; সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯০, ৫০০৪

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর