শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ভুয়া ফটোকার্ড যে কারণে কবিরা গুনাহ

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

ভুয়া ফটোকার্ড যে কারণে কবিরা গুনাহ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে জনপ্রিয়তা ও প্রচারের প্রতিযোগিতায় অনেক সময় ভুয়া ফটোকার্ড, মনগড়া উক্তি, বিকৃত তথ্য ও যাচাইবিহীন সংবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আবার অনেকে এসব পোস্টে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করে অজান্তেই মিথ্যা প্রচারে অংশ নেন। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এসব কাজের বিধান কী?

মিথ্যা প্রচার ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

ইসলাম সত্যবাদিতার শিক্ষা দেয় এবং মিথ্যাকে বড় গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মিথ্যা রচনা করে তারাই, যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস করে না; আর তারাই হলো প্রকৃত মিথ্যাবাদী।’ (সুরা নাহল: ১০৫)
ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করা, কারও নামে মনগড়া উক্তি প্রচার করা কিংবা সত্যের সঙ্গে অসত্য মিশিয়ে উপস্থাপন করা এ আয়াতের সতর্কবার্তার অন্তর্ভুক্ত।

ভুয়া ফটোকার্ড কেন প্রতারণার শামিল

বর্তমানে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো আলেম, বক্তা, লেখক বা জনপরিচিত ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে তাঁর নামে এমন বক্তব্য প্রচার করা হয়, যা তিনি কখনো বলেননি। আবার কখনো ছবি সম্পাদনা বা তথ্য বিকৃত করে বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এসব কাজ প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির অন্তর্ভুক্ত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১০১)
এমন কাজ মুনাফিকির লক্ষণও বটে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৩)

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ইসলামি নিয়ম-কানুন যা সবার জানা দরকার


বিজ্ঞাপন


লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার কি দায়মুক্ত?

অনেকে মনে করেন, ভুয়া পোস্ট তৈরি না করলে শুধু লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার দেওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে মিথ্যা বা গুনাহের কাজে সহযোগিতাও নিন্দনীয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা করো। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে পরস্পরের সহযোগিতা করো না।’ (সুরা মায়িদা: ২)
এ ছাড়া কোরআনে সাবধান করে বলা হয়েছে, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।’ (সুরা বাকারা: ৪২)
কাজেই কোনো পোস্ট মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর হলে সেটি শেয়ার করা বা তার প্রসারে ভূমিকা রাখা গুনাহের কাজে সহযোগিতার শামিল।

যাচাই ছাড়া শেয়ার করার বিপদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য খবর, উক্তি ও ছবি ছড়িয়ে পড়ে; কিন্তু সব তথ্য সত্য নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তাহলে তোমরা তা যাচাই করে নাও।’ (সুরা হুজরাত: ৬)
রাসুলুল্লাহ (স.) এ বিষয়ে আরও স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বলে বেড়ায়।’ (সহিহ মুসলিম: ৫)
অর্থাৎ সরাসরি মিথ্যা না বললেও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার করলে একজন ব্যক্তি মিথ্যার বাহক হয়ে যেতে পারেন।

আরও পড়ুন: অনুমান করে কথা বলা: ইসলাম কী বলে

জনপ্রিয়তার জন্য মিথ্যার আশ্রয়

লাইক, শেয়ার বা ফলোয়ার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বানানো ঘটনা, বিকৃত তথ্য বা আবেগনির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচার করা ইসলামের নৈতিক শিক্ষার সরাসরি পরিপন্থী। একজন মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য ও কল্যাণ প্রচার করা, কেবল ভাইরাল হওয়া নয়।

মিথ্যার ভয়াবহ পরিণতি

মিথ্যা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন, ‘মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ জাহান্নামে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মহামিথ্যাচারী প্রতিপন্ন হয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি: ৬০৯৪) মিথ্যাবাদীদের প্রতি আল্লাহর সতর্কবার্তাও সুস্পষ্ট, ‘এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত, যারা মিথ্যাবাদী।’ (সুরা আলে ইমরান: ৬১)

মোটকথা, ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং যাচাই ছাড়া লাইক-কমেন্ট-শেয়ার করা ইসলামের সত্যবাদিতা ও আমানতদারির শিক্ষার পরিপন্থী। যা মারাত্মক গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। তাই কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করা এবং মিথ্যা বা বিভ্রান্তি ছড়ায় এমন কোনো কাজে অংশ না নেওয়া একজন মুমিনের দায়িত্ব। বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও মানুষের প্রতিটি কথা ও কাজের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর