হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো মুসল্লি সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ত্যাগ করতে শুরু করেছেন।
এ বছর বিশ্বের ১৬৫টি দেশের ১৭ লাখেরও বেশি মুসলমান হজ পালনে অংশ নেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত।
বিজ্ঞাপন
হজ সম্পন্ন করার পর অনেক মুসল্লির মধ্যে আবেগঘন অনুভূতি দেখা গেছে।
মিসরের ৩৭ বছর বয়সী হাজি আহমেদ মামদুহ বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে আমি হজ সম্পন্ন করেছি। খুব আনন্দিত যে নিরাপদে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পেরেছি। প্রচণ্ড গরমে হজ সত্যিই খুব কষ্টকর।’
আরও পড়ুন: হজের খুতবায় ঐক্য ও শরিয়াভিত্তিক জীবন গড়ার আহ্বান
অন্যদিকে আলজেরিয়ার ৭৪ বছর বয়সী এক হাজি বলেন, ‘আমরা ৫০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর একসঙ্গে হজ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম, আল্লাহ সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।’
বিজ্ঞাপন
মক্কার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উপত্যকায় হাজিরা রমি জামারাতের (প্রতীকী শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ) তৃতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এরপর তারা মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে ফিরে বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফুল বিদা) সম্পন্ন করেন।
তাওয়াফে হাজিরা কাবার চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন, যা হজের শেষ আনুষ্ঠানিকতার অংশ।
আরও পড়ুন: তাকবিরে তাশরিক ভুলে না পড়লে করণীয় কী
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার পালন করা ফরজ। কয়েক দিনের এই ইবাদত মূলত বিভিন্ন শারীরিক ও আধ্যাত্মিক আনুষ্ঠানিকতার সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়।
গত কয়েক বছরে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীদের জন্য তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ছায়াযুক্ত এলাকা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ নানা উদ্যোগ।
সৌদি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হজ মৌসুম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৮৩ হাজারের বেশি মানুষকে জরুরি চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।
হজ শেষ করে এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসল্লিরা ধীরে ধীরে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন, সাথে নিয়ে যাচ্ছেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা ও আবেগঘন স্মৃতি।
সূত্র: আল আরাবিয়া




