সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

মিনায় আজান ও ইকামতের বিধান

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

মিনায় আজান ও ইকামতের বিধান

হজের দিনগুলোতে মিনায় আজান ও ইকামত নিয়ে অনেক হাজির মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়। রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে বিষয়টি স্পষ্ট করা হলো।

মিনায় প্রতিটি নামাজের জন্য পৃথক আজান ও ইকামত

মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও ফজর নিজ নিজ সময়ে স্বতন্ত্রভাবে আদায় করা সুন্নত। আরাফা বা মুজদালিফার মতো এখানে নামাজ একত্র করা হয় না। তাই জামাতে নামাজ হলে প্রতিটি ফরজ নামাজের জন্য আজান ও ইকামত দেওয়া প্রচলিত সুন্নত ও আমল।

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) মিনায় এসে জোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও ফজর এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছেন। (সহিহ মুসলিম: ১২১৮; জাবের রা.-এর হজ বর্ণনা)

আরও পড়ুন: হজের পূর্ণাঙ্গ গাইড: নিয়ত থেকে বিদায়ী তাওয়াফ

আরাফা ও মুজদালিফার সঙ্গে পার্থক্য

আরাফাতে জোহর ও আছর একত্রে এবং মুজদালিফায় মাগরিব ও এশা একত্রে পড়া হয়। সেক্ষেত্রে একটি আজান ও দুটি ইকামত দেওয়া হয়। মিনায় এই বিধান প্রযোজ্য নয়; এখানে প্রতিটি নামাজের জন্য পৃথক আজান ও ইকামত দেওয়া হয়। এটি জুমহুর আলেমের অভিমত।

কেন্দ্রীয় আজান ও কাফেলার করণীয়

মিনায় সাধারণত মসজিদুল খাইফ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে আজান দেওয়া হয়। ফিকহবিদদের মতে, কেন্দ্রীয় আজান শোনা গেলে সেটিই যথেষ্ট; পুনরায় আজান দেওয়া মোস্তাহাব হলেও আবশ্যক নয়। তবে প্রতিটি কাফেলার জন্য ইকামত দেওয়া সুন্নত।

আরও পড়ুন: আরাফার দিন প্রবাসীরা কি হাজিদের সঙ্গে জোহর-আছর একসঙ্গে পড়তে পারবেন?

কসর নামাজে আজানের নিয়ম

মিনায় হাজিরা চার রাকাতের নামাজ দুই রাকাত (কসর) আদায় করেন। তবে নামাজ কসর হলেও আজান ও ইকামতের শব্দাবলিতে কোনো পরিবর্তন আসে না- পূর্ণাঙ্গ রূপেই দিতে হবে। 

সারসংক্ষেপ

মিনায় প্রতিটি নামাজের জন্য পৃথক আজান ও ইকামত দেওয়া প্রচলিত সুন্নত ও আমল। আরাফা ও মুজদালিফার বিধান এখানে প্রযোজ্য নয়। কেন্দ্রীয় আজান শোনা গেলে পুনরায় আজান মুস্তাহাব, তবে ইকামত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: মিনায় নামাজ কসর (সংক্ষিপ্ত) করে পড়া সুন্নত, তবে আজান ও ইকামত পূর্ণাঙ্গভাবে দেওয়াই নিয়ম।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর