হজ ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এনে একে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করছে সৌদি আরব। ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নিজ দেশে ফেরা পর্যন্ত পুরো ‘হজ অভিজ্ঞতা’ (পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স) সুশৃঙ্খল করতে কাজ করছে দেশটি।
সম্প্রতি মক্কায় অনুষ্ঠিত ‘গ্র্যান্ড হজ সিম্পোজিয়াম’-এর ৫০তম অধিবেশনে সৌদির উপ-হজমন্ত্রী ড. আবদুফাত্তাহ বিন সুলাইমান মাশাত বলেন, ‘অতীতে ভাবনা ছিল হাজিরা পৌঁছানোর পর কে সেবা দেবে। এখন লক্ষ্য হলো- হাজিরা আসার আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।’ তিনি জানান, বর্তমানে ৬০টিরও বেশি সরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: বিমানে হজযাত্রীদের জন্য যেসব প্রস্তুতি থাকে
সৌদি পাবলিক সিকিউরিটির পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-বাসসামি জানান, প্রায় ৬০০টির বেশি সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে হজ তদারকি করা হচ্ছে। সৌদি আরব এখন শুধু ‘পথ নিরাপদ রাখা’ নয়, বরং ‘জনসমাগমকে বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার মডেলে কাজ করছে। তথ্যবিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সম্ভাব্য ঝুঁকি হাজিরা টের পাওয়ার আগেই নিরসন করা হচ্ছে।
মক্কার মেয়র মুসায়েদ আল-দাউদ জানান, হজ মৌসুমে মক্কার জনসংখ্যা ২৫ লাখ থেকে বেড়ে ৪৫ লাখে উন্নীত হয়। এই চাপ সামলাতে ৬২টি টানেলসহ আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা ও নিশ্ছিদ্র খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: হজ পারমিট ছাড়া প্রবেশ নয়: ভুয়া অফার নিয়ে সৌদি আরবের সতর্কতা
বিজ্ঞাপন
রয়্যাল কমিশনের তথ্যমতে, গত বছর ওমরা পালনকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখে পৌঁছেছে এবং হাজিদের সেবায় সন্তুষ্টির হার এখন ৯১ শতাংশ।
প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গ্র্যান্ড মসজিদের উপদেষ্টা ড. ওসামা আল-জামিল জানান, আরাফাতের খুতবা এখন পাঁচটি আন্তর্জাতিক ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া হাজিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে রোবট প্রযুক্তি।
সৌদি কর্মকর্তাদের মতে, আগামীতে এআই-এর ব্যবহার আরও বাড়বে, তবে হাজিদের সচেতনতাই হবে সফল ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: আল আওসাত, গালফ নিউজ




