শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ঢাকা

হজের আগে অসিয়তনামা লিখে যাওয়ার নিয়ম কী

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম

শেয়ার করুন:

হজের আগে অসিয়তনামা লিখে যাওয়ার নিয়ম কী

হজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। এই পবিত্র সফরকে বলা হয় ‘পরকালের সফরের মহড়া’। যেহেতু এটি একটি দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সফর এবং এতে পার্থিব জীবনের সমাপ্তির সম্ভাবনা থাকে, তাই হজে যাওয়ার আগে নিজের আধ্যাত্মিক ও বৈষয়িক দায়বদ্ধতাগুলো গুছিয়ে নেওয়া প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে হজে যাওয়ার আগে তওবা করা, অসিয়তনামা লিখে যাওয়া এবং পরিবারকে দ্বীনি নসিহত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।

রুহানি প্রস্তুতি: খাঁটি তওবা

হজের প্রধান শর্ত হলো অন্তরকে গুনাহমুক্ত করা। হজযাত্রীর উচিত জীবনের সব ভুলের জন্য লজ্জিত হয়ে আর কখনো তা না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে তওবা করা। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন- ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সকলেই আল্লাহর কাছে তওবা করো; সম্ভবত তোমরা কামিয়াব হবে।’ (সুরা নুর: ৩১) নিজে তওবা করার পাশাপাশি পরিবারকেও তওবার নসিহত করা পরকালীন সাফল্যের পথ সুগম করে।

অসিয়তনামা বা অসিয়ত করার গুরুত্ব

যেকোনো বড় সফরের আগে নিজের হক ও দায়-দেনা পরিষ্কার করার গুরুত্ব দিয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- ‘কোনো মুসলিম ব্যক্তির উচিত নয় যে, তার অসিয়তযোগ্য কিছু (সম্পদ) রয়েছে, সে দু’রাত কাটাবে অথচ তার নিকট অসিয়ত লিখিত থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি: ২৭৩৮)

আরও পড়ুন: হজের ওসিয়ত না করে মারা গেলে জীবিতদের করণীয় কী


বিজ্ঞাপন


অসিয়তনামায় যা থাকা প্রয়োজন

ক. আর্থিক লেনদেন ও ঋণ নিষ্পত্তি: হজে যাওয়ার আগে মানুষের পাওনা-দেনা পরিশোধ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমল। ঋণ নিয়ে রাসুল (স.) অত্যন্ত কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ঋণ ব্যতীত শহীদের সকল গুনাহই ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৭৭৭) তাই দেনা-পাওনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিষ্পত্তি করা অথবা লিখিতভাবে ওয়ারিসদের জানিয়ে যাওয়া জরুরি।
খ. পরিবারকে দ্বীনি নসিহত: হজযাত্রীর বিদায়বেলায় তার পরিবার ও সন্তানদের ‘তাকওয়া’ বা আল্লাহর ভয়ের উপদেশ দেওয়া সুন্নত। তারা যেন হজযাত্রীর অনুপস্থিতিতে শরিয়তসম্মত জীবন যাপন করে এবং নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে, সে বিষয়ে নসিহত করা নবী ইবরাহিম (আ.) ও ইয়াকুব (আ.)-এর আমল। (তথ্যসূত্র সুরা বাকারা: ১৩২)
গ. ইবাদতের ফিদিয়া ও অসিয়ত: যদি কারো জীবনে কাজা নামাজ বা রোজা অনাদায়ি থাকে, তবে কিছু আলেমের মতে- অনাদায়ী ইবাদতের ক্ষেত্রে ফিদিয়া প্রদানের অসিয়ত করা যেতে পারে। এছাড়া মোট সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে বা দান-সদকার অসিয়ত করা যায়।
ঘ. সাক্ষী রাখা: অসিয়তনামা লেখার সময় অন্তত দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখা একটি উত্তম ও নিরাপদ পদ্ধতি। এতে পরবর্তী সময়ে আইনি বা পারিবারিক যেকোনো জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। (তথ্যসূত্র সুরা মায়েদা: ১০৬)

আরও পড়ুন: স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো নবীজির ১৪ অসিয়ত

কেন এটি হজযাত্রীর জন্য জরুরি?

মানসিক প্রশান্তি: তওবা ও অসিয়তের মাধ্যমে হজযাত্রী ঋণের বোঝা ও দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে একাগ্রতার সঙ্গে হজের রুকনগুলো পালন করতে পারেন।
হুকুকুল ইবাদ: মানুষের হক আদায়ের বিষয়টি সুরাহা থাকলে হজ ‘মাবরুর’ বা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
উত্তরাধিকারীদের সুরক্ষা: অসিয়ত থাকলে হজযাত্রীর অনুপস্থিতিতে বা মৃত্যুতে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পদ বা দায়িত্ব নিয়ে বিবাদ সৃষ্টির পথ বন্ধ হয়।

নমুনা অসিয়তনামা

‘আমি (নাম), আল্লাহর নামে অসিয়ত করছি যে- আমার মৃত্যুর পর আমার সম্পদ থেকে সর্বপ্রথম কাফন-দাফন ও ঋণ পরিশোধ করবে। আমার অমুক ব্যক্তির কাছে দেনা/পাওনা আছে, তা যেন আদায় করা হয়। আমার অসিয়ত ও দায়-দেনাগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য অমুক ব্যক্তিকে ওয়াসি (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) নিযুক্ত করলাম। সন্তানদের নসিহত করছি যেন তারা নামাজ কায়েম করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে। আমার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ অমুক জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার অসিয়ত করলাম।’

শরিয়তের দৃষ্টিতে তওবা, নসিহত ও অসিয়ত- এই কাজগুলো হজযাত্রীর ইহকাল ও পরকালের সাফল্যের জন্য সেতুবন্ধন। দায়িত্বশীল হজযাত্রা শুরু হয় ঘর থেকেই- তওবা, হক আদায় এবং সুস্পষ্ট অসিয়তের মাধ্যমে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর