বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

হজের পথে উসফান উপত্যকা: নবীদের পদচারণায় ধন্য

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

শেয়ার করুন:

হজের পথে উসফান উপত্যকা: নবীদের পদচারণায় ধন্য

মক্কার উদ্দেশ্যে যখন হাজিরা যাত্রা করেন, তখন রাস্তার দুপাশে বিস্তৃত ধূসর মরুভূমি ও পাথুরে পাহাড়ের সারি চোখে পড়ে। এই নির্জন প্রান্তর শুধু বালু ও পাথরের সমাহার নয়; বরং এটি হাজার বছরের ইবাদত ও ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। মক্কা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এমনই একটি ঐতিহাসিক স্থান হলো উসফান উপত্যকা।

হাদিসের বর্ণনায় নবীদের স্মৃতি

হাদিসের বর্ণনায় এসেছে যে, এই উসফান উপত্যকার মধ্য দিয়েই অতীতে অনেক নবী-রাসুল হজের সফর করেছেন। সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় হজরত মুসা (আ.) এবং হজরত ইউনুস (আ.)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁরা উটের পিঠে সওয়ার হয়ে, সাধারণ পশমি পোশাক পরে বিনীতভাবে ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি দিতে দিতে এই মরুপথ পাড়ি দিয়ে কাবার দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন।
এছাড়া মুসনাদে আহমদের বর্ণনায় হজরত হুদ (আ.) এবং হজরত সালিহ (আ.)-এর পথচলার প্রসঙ্গও এসেছে। তাঁরা লাল রঙের উটে আরোহী হয়ে অত্যন্ত সাদাসিধে পোশাকে মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য নিয়ে এই উপত্যকা অতিক্রম করেছিলেন।

আরও পড়ুন: মক্কায় নবী-রাসুলদের স্মৃতিবিজড়িত কিছু পাহাড়-পর্বত

ইসলামের ইতিহাসে উসফানের গুরুত্ব

ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত আছে যে, প্রাচীনকাল থেকেই উসফান অঞ্চল মক্কা-মদিনাগামী কাফেলাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ ও বিশ্রামস্থল ছিল। এই জনপদটি ইসলামের ইতিহাস ও সামরিক ঘটনাপ্রবাহে বিশেষভাবে আলোচিত। কিছু সিরাত ও তাফসির গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায় যে, উসফান অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে সালাতুল খওফ (ভয়ের নামাজ)-এর বিধান সংক্রান্ত আলোচনার প্রসঙ্গ এসেছে।


বিজ্ঞাপন


বর্তমান উসফানের পরিচয়

মক্কা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক উপত্যকাটি বর্তমানে সৌদি আরবের একটি আধুনিক প্রশাসনিক এলাকা। এই জনপদটি আজও ‘উসফান’ নামেই পরিচিত। এখানকার পাহাড়, প্রাচীন দুর্গ এবং পানির কূপগুলো ইসলামের ইতিহাসে আলোচিত এই অঞ্চলের অতীত কাফেলা পথের স্মৃতি বহন করে।

আরও পড়ুন: ৭০ নবীর স্মৃতিধন্য 'মসজিদ আল-খাইফ'

মরুভূমির নীরব শিক্ষা

আজকের দিনে হাজিরা যখন আধুনিক যানবাহনে করে মক্কার পথে যাত্রা করেন, তখন তাঁরা অজান্তেই সেই প্রাচীন পথগুলোর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, যেগুলো একসময় নবী ও নেককারদের ইবাদতের স্মৃতি বহন করে। এই মরুভূমি মনে করিয়ে দেয়- হজ শুধু একটি সফর নয়; এটি তাওহিদ, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের এক মহান ইবাদত।

উসফান উপত্যকার এই স্মৃতি আমাদের নতুনভাবে উপলব্ধি করায়- একই পথে, একই উদ্দেশ্যে, যুগে যুগে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা এগিয়ে গেছেন তাঁর সন্তুষ্টির সন্ধানে। এই পথে নবীদের ইবাদতের স্মৃতি আজও মুমিনদের হৃদয়ে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’-এর অনুভূতিকে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তোলে।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর