সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

মাঝখানে অজু ভেঙে গেলে করণীয়

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

অজুর মাঝপথে অজু ভেঙে গেলে করণীয়

ইসলামি শরিয়তে ইবাদতের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা। নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত বা কাবাঘর তাওয়াফের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের জন্য অজু করা ফরজ। কিন্তু অনেক সময় অজু করার মাঝপথে অনিচ্ছাকৃতভাবে অজু ভেঙে যায়। এমতাবস্থায় অজুর বিধান নিয়ে ফিকহবিদদের ব্যাখ্যা রয়েছে।

সাধারণ বিধান: নতুন করে শুরু করা

অজুর মাঝখানে যদি অজু ভঙ্গের কোনো কারণ ঘটে (যেমন বায়ু নির্গত হওয়া বা রক্ত বের হওয়া), তাহলে আগের করা অংশটুকু বাতিল হয়ে যায়। এমতাবস্থায় ওই ব্যক্তিকে শুরু থেকে নতুন করে অজু করতে হবে। শুধু ভেঙে যাওয়া স্থান থেকে বাকি অংশ সম্পন্ন করলে অজু পূর্ণ হবে না।

ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাব আল ফিকহ আলাল মাজাহিবিল আরবাআতে বলা হয়েছে- ‘অজুকারীর পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ না পাওয়া যা অজুর পরিপন্থী। যদি কারো মুখ ও হাত ধোয়ার পর অজু ভেঙে যায়, তাহলে তাকে পুনরায় শুরু থেকে অজু করতে হবে।’ (খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৪৯) 

ব্যতিক্রম: ‘মাজুর’ বা অপারগ ব্যক্তির বিধান

শরিয়তে যারা ‘মাজুর’ বা অপারগ (যেমন স্থায়ীভাবে বায়ু নির্গত হওয়া বা প্রস্রাবের ফোঁটা পড়ার অসুস্থতা), তাদের জন্য বিধান কিছুটা শিথিল। অজুর মাঝখানে যদি শুধু ওই নির্দিষ্ট সমস্যাটি ঘটে যার জন্য তিনি মাজুর বলে গণ্য, তাহলে তার অজু ভাঙবে না। তিনি ওই অবস্থাতেই অজু সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে ওই নির্দিষ্ট সমস্যা ছাড়া অন্যকোনো কারণে অজু ভেঙে গেলে সাধারণ বিধানই প্রযোজ্য হবে। (ফতোয়ায়ে বিননোরি টাউন: ১৪৪২০৯২০১৮৭৬)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: অজুর পূর্ণতা: হারিয়ে যাওয়া কিছু সুন্নাহর খোঁজে

অজু ভঙ্গের প্রধান কারণসমূহ

অজু ভঙ্গের প্রধান কারণগুলো সংক্ষেপে নিচে উল্লেখ করা হলো-

  • পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।
  • শরীর থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
  • মুখ ভরে বমি হওয়া।
  • থুতুর চেয়ে মাড়ির রক্তের পরিমাণ বেশি হওয়া।
  • যৌনাঙ্গ থেকে মজি (উত্তেজনার সময় নির্গত তরল) বের হওয়া।
  • গভীর ঘুম বা বেহুঁশ হওয়া।

কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজে দাঁড়াতে চাও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করো...।’ (সুরা মায়েদা: ৬) এই আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, নামাজ আদায়ের জন্য পূর্ণাঙ্গ অজু সম্পন্ন করা আবশ্যক।

হাদিসে এসেছে, ‘বায়ু বের হলে অজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের কারো সালাত কবুল করবেন না।’ (সহিহ বুখারি: ৬৯৫৪) অজুর মাঝপথে পবিত্রতা নষ্ট হলে ব্যক্তি পুনরায় অপবিত্র অবস্থায় ফিরে যায়, তাই পুনরায় শুরু করাই হাদিসসম্মত পদ্ধতি।

আরও পড়ুন: সুন্দরভাবে অজু করার বিস্ময়কর ফজিলত

অজুর শেষে সন্দেহ হলে

অজু করার পর যদি অহেতুক মনে খটকা লাগে যে অজু ভেঙেছে কি না, তবে সেই সন্দেহের কোনো ভিত্তি নেই। যতক্ষণ না নিশ্চিত হওয়া যাবে (যেমন শব্দ বা গন্ধের মাধ্যমে), ততক্ষণ অজু বৈধ বলে গণ্য হবে। 

অজুর মাঝপথে পবিত্রতা নষ্ট হলে সাধারণ ব্যক্তির জন্য শুরু থেকে নতুন করে অজু করা আবশ্যক। তবে মাজুর ব্যক্তির ক্ষেত্রে শরিয়ত সহজতা দিয়েছে। তাই ইবাদতের শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে অজুর বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জরুরি। কারণ শুদ্ধ অজু ছাড়া ইবাদত কবুল হয় না।

সূত্র: আল-ফিকহ আলাল মাজাহিবিল আরবাআ; সহিহ বুখারি; আলমগিরি; জামিয়া বিননোরি টাউন ফতোয়া বিভাগ।

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর