রোববার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ফিজার যুদ্ধ: নিষিদ্ধ মাসে রক্তপাত ও তরুণ নবী (স.)-এর ভূমিকা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ফিজার যুদ্ধ: নিষিদ্ধ মাসে রক্তপাত ও তরুণ নবী (স.)-এর ভূমিকা

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরব সমাজে গোত্রীয় সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছিল একটি সাধারণ ঘটনা। তবে বছরের কিছু পবিত্র মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ থাকলেও এই নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করেও সংঘাত হয়, যা ‘ফিজার যুদ্ধ’ (হুরুবুল ফিজার) নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে তরুণ নবী মুহাম্মদ (স.) অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা তাঁর জীবনীর এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

ওকাজ বাজারের সংঘাত

ফিজার যুদ্ধ সংঘটিত হয় ওকাজ বাজারকে কেন্দ্র করে, যা তৎকালীন আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। ইবনে হিশাম তাঁর ‘সিরাতুন নববিয়্যাহ’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে উল্লেখ করেছেন, এই যুদ্ধের এক পক্ষে ছিল কুরাইশ ও তাদের মিত্র গোত্র বনু কিনানাহ, আর অন্যপক্ষে ছিল ক্বায়স আয়লান গোত্র।

আরও পড়ুন: ইহুদিদের বিরুদ্ধে যেসব যুদ্ধ করেছেন নবীজি

যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে যখন বনু কিনানাহ গোত্রের বার্রায নামের এক ব্যক্তি ক্বায়স আয়লানের তিনজন সদস্যকে হত্যা করে। এই খবর ওকাজ বাজারে ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং যুদ্ধের সূচনা হয়।

প্রাথমিকভাবে ক্বায়স আয়লান গোত্রকে বেশি শক্তিশালী মনে হলেও, পরবর্তীতে বনু কিনানাহর পক্ষে সমর্থন বৃদ্ধি পায়। কুরাইশ ও বনু কিনানাহ মিত্রবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন হারব বিন উমাইয়া, যিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে উভয় গোত্রের মধ্যে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।


বিজ্ঞাপন


শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধের সমাপ্তি

একপর্যায়ে কুরাইশ নেতৃবৃন্দ উভয় পক্ষের নিহতদের সংখ্যা গণনার মাধ্যমে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, যে পক্ষে বেশি নিহত হয়েছে, অন্য পক্ষ তাদের অতিরিক্ত নিহতের রক্তপণ (দিয়াত) প্রদান করবে। উভয় পক্ষ এই প্রস্তাবে সম্মত হয় এবং একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও বিদ্বেষের অবসান ঘটে।

এই যুদ্ধকে ‘ফিজার’ (অপবিত্র) নামে অভিহিত করা হয়, কারণ এতে পবিত্র মাসের পবিত্রতাকে উপেক্ষা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: যেমন কেটেছিল নবীজির যৌবন

তরুণ নবী (স.)-এর ভূমিকা

এই যুদ্ধে তরুণ নবী মুহাম্মদ (স.)-এর ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বিশ বছর। তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে তাঁর চাচাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শত্রুপক্ষের নিক্ষিপ্ত তীরগুলো সংগ্রহ করে চাচাদের হাতে তুলে দিতেন, যাতে তারা পুনরায় সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এই কাজের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে যুদ্ধে অংশ নেন।

নবী (স.) পরবর্তীকালে এই যুদ্ধের কথা স্মরণ করে বলতেন, ‘আমি এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম এবং এটি ছিল একটি অন্যায় যুদ্ধ, যা আমি অপছন্দ করি।’ এই ঘটনা থেকে শান্তি ও ন্যায়ের প্রতি তাঁর প্রাথমিক চিন্তাভাবনার প্রতিফলন দেখা যায়।

(ইবনে হিশাম, সিরাতুন নববিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২০; তারিখুল খুজরি, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৩; কালবে জাযিরাতুল আরব, ৩২০ পৃ.)

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর