ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, ফেরেশতা ইসরাফিল (আ.) পরকাল বিষয়ক একজন কেন্দ্রীয় ফেরেশতা। আল্লাহর নির্দেশে তিনিই কেয়ামতের সূত্রপাত ঘটাবেন। তাঁর প্রধান দায়িত্ব হলো কেয়ামতের দিন শিঙায় ফুঁ দিয়ে পৃথিবী ও আকাশের সমস্ত সৃষ্টিকে ধ্বংস করা। কোরআন, হাদিস এবং ইসলামি পণ্ডিতদের ব্যাখ্যায় তাঁর এই মহান দায়িত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।
১. ইসরাফিল (আ.)-এর দায়িত্ব
ক. শিঙায় ফুঁক দেওয়া: আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। ফলে আল্লাহ যাদেরকে ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া আসমান ও পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই বেহুঁশ হয়ে পড়বে। তারপর পুনরায় শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।’ (সুরা জুমার: ৬৮)
এই আয়াত অনুযায়ী, ইসরাফিল (আ.) দুবার শিঙায় ফুঁক দেবেন। প্রথম ফুঁকে সমস্ত সৃষ্টির মৃত্যু ঘটবে। দ্বিতীয় ফুঁকে মৃতরা আবার জীবিত হয়ে উঠবে।
খ. আরশ বহন ও লৌহে মাহফুজের দায়িত্ব: কিছু ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, ইসরাফিল (আ.) আরশ বহনকারী চার প্রধান ফেরেশতার একজন এবং লৌহে মাহফুজ (সুরক্ষিত ফলক)-এর রক্ষকও। (সূত্র: শুআবুল ঈমান, বায়হাকি: ১/৫২৯)
তবে, এই বর্ণনাটি সব আলেমের কাছে সর্বসম্মত নয়, এটি একটি ভিন্ন মত হিসেবে বিবেচিত।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: জীবন নেয়ার সময় ফেরেশতারা যা করেন
২. হাদিসের আলোকে ইসরাফিল (আ.)-এর বর্তমান অবস্থা
আল্লাহর আদেশের জন্য অপেক্ষা: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘শিঙায় ফুঁক দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা শিঙা হাতে নিয়ে আল্লাহর আদেশের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি আরশের দিকে তাকিয়ে আছেন, তাঁর চোখ দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো।’ (মুসতাদরাকে হাকিম: ১০৭৮)
ইসলামি পণ্ডিতগণ একমত যে, এই হাদিসে ইসরাফিল (আ.)-এর কথাই বলা হয়েছে।
৩. আলেমদের মতামত
ইমাম ইবনে কাসির (রহ) তাঁর তাফসিরে বলেছেন, ইসরাফিল (আ.) চারজন প্রধান ফেরেশতার অন্যতম। তিনি বর্তমানে আল্লাহর আদেশের জন্য প্রস্তুত এবং শিঙায় ফুঁক দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ইসরাফিল (আ.)-এর প্রধান কাজ হলো কেয়ামতের দিন শিঙায় ফুঁক দেওয়া এবং তিনি বর্তমানে এই কাজের জন্য প্রস্তুত আছেন।
ইমাম বায়হাকি (রহ.) শুআবুল ঈমান-এ ইসরাফিল (আ.)-কে আরশ বহনকারী ফেরেশতা এবং লৌহে মাহফুজের রক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে, এই মতটি সব আলেম সমর্থন করেন না।
৪. সতর্কতা
ফেরেশতাদের কাজ ও তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান কেবল আল্লাহই জানেন। আমরা কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত সীমিত তথ্যই জানি। তাই, অপ্রমাণিত বা অস্পষ্ট বর্ণনাগুলোকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
সার কথা, ইসরাফিল (আ.)-এর প্রধান দায়িত্ব হলো কেয়ামতের দিন শিঙায় ফুঁক দেওয়া এবং তিনি বর্তমানে এই কাজের জন্য আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় আছেন। কিছু বর্ণনায় তাঁর অন্যান্য দায়িত্বের কথা উল্লেখ থাকলেও, আমরা কেবল প্রমাণিত ও সুস্পষ্ট বিষয়গুলোর ওপরই নির্ভর করব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কেয়ামতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।




