শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ঢাকা

আকিকা ও মানতের কোরবানির গোশত খাওয়ার বিধান

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৫, ০২:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

আকিকা ও মানতের কোরবানির গোশত খাওয়ার বিধান

মানতের কোরবানির গোশত কি মানতকারী নিজে খেতে পারবে? আকিকার গোশত কি পরিবারের সবাই খেতে পারবে? প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে মুসলমানদের মাঝে এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খায়। ইসলামি শরিয়ত ও হাদিসের আলোকে এসবের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা দিচ্ছেন আলেমগণ।

মানতের কোরবানি: গোশত নিজে খাওয়া যাবে না

মানত হলো—আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো নফল ইবাদতকে নিজের ওপর ওয়াজিব করে নেওয়া। যেমন কেউ বলেন: ‘আমার চাকরি হয়ে গেলে একটি গরু কোরবানি দেব।’ এধরনের মানত পূরণ করা জরুরি এবং এর গোশত সম্পূর্ণ গরিবদের হক।

মানতের কোরবানির গোশত খাওয়ার বিধান

চার মাজহাবের ইমাম ও অধিকাংশ ফকিহের মতে, মানতের কোরবানির গোশত মানতকারী নিজে খেতে পারবেন না। তা গরিব-মিসকিনদের মাঝে পুরোটা বিলিয়ে দিতে হবে। 

কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তারা মানত পূর্ণ করে...। (সুরা ইনসান: ৭) রাসুল (স.) বলেন, ‘মানতের কোরবানি আল্লাহর উদ্দেশ্যে, এটি গরিবদের জন্য।’ (সহিহ মুসলিম: ১৬৪০)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: কোরবানির প্রচলিত ৫ ভুল ধারণা ও সঠিক ব্যাখ্যা

তাই ফকিহদের মত হলো- মানতকারী ব্যক্তি ধনী হোক বা গরিব উভয় ক্ষেত্রে ওই গোশত থেকে নিজেও খেতে পারবে না এবং কোনো ধনী ব্যক্তিকেও খাওয়াতে পারবে না। সম্পূর্ণ গোশত গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দিতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার: ৬/৩২১, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩২৭, আল ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু: ৩/৬৩০, ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত: ১১/২৯৭) ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়িরও মত এটি। (আলবিনায়া: ১৪/৩৯৩)

আকিকার কোরবানি: গোশত খাওয়া বৈধ

আকিকা হলো সন্তানের জন্ম উপলক্ষে শুকরিয়াস্বরূপ বা বিপদ দূর করার জন্য কোরবানি করা। এটি একটি সুন্নত ইবাদত। সাধারণত ছেলে সন্তানের জন্য দুটি ও মেয়ে সন্তানের জন্য একটি পশু জবাই করা হয়। আকিকার গোশত কোরবানির গোশতের মতো সবাই খেতে পারবে। দরিদ্রদের বিতরণ করা সুন্নত। আত্মীয় স্বজনদেরও দেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: কোরবানির নিয়ত কীভাবে করতে হয়

আকিকার গোশত খাওয়ার বিধান

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আকিকা করো, গোশত খাও এবং অন্যদের খাওয়াও।’ (আবু দাউদ: ২৮৪২)
ইমাম নববি (রহ) বলেন, ‘আকিকার গোশত পরিবারের জন্য হালাল, উপহার ও সদকা—সবই করা যায়।’ (আল-মাজমু: ৮/৪২৬)

বিশুদ্ধ ফতোয়াগ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে, আকিকার মাংস সন্তানের মা-বাবা ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন এবং ধনী-গরিব সবাই খেতে পারবেন। আকিকার মাংসের বণ্টন ও ব্যবহার কোরবানির মতোই। কিছু নিজেদের জন্য রাখা, কিছু আত্মীয়-স্বজনকে দেওয়া এবং কিছু সদকা করা উত্তম (ইলাউস সুনান: ১৭/১১৮, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/৩০৪)

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর