ইসলামে কোরবানি ওয়াজিব আর আকিকা করা মোস্তাহাব। তাই বিধানগতভাবে কোরবানির গুরুত্ব অধিক। জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যেকোনো দিনে কারো অধীনে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। ওয়াজিব কোরবানি না করলে গুনাহগার হতে হবে। কিন্তু আকিকা পরে করারও সুযোগ রয়েছে।
সুতরাং যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তাকে অবশ্যই আগে কোরবানি করতে হবে। পাশাপাশি আকিকা করার সামর্থ্য থাকলে আকিকাও করবে; সামর্থ্য না থাকলে আকিকা পরে করবে। কিন্তু যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, সে কোরবানি না করেও আকিকা করতে পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৯, রদ্দুল মুহতার: ৬/৩২৬, আলমাবসুত সারাখসি: ৪/১৪৪, আল ইনায়া: ৮/৪৩৫-৩৪৬, আলমুগনি: ৫/৪৫৯)
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: এক গরুতে সর্বোচ্চ কত ছেলের আকিকা করা যায়
কোরবানির নিসাব জাকাতের মতো সারাবছর জমা থাকা আবশ্যক নয়; বরং কোরবানির দিনগুলোতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ হলেই সুস্থ মস্তিষ্ক, প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম নর-নারীর ওপর কোরবানি আবশ্যক। (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫; তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫; রদ্দুল মুখতার: ৬/৩১২)
অনেকে কোরবানির ওপর আকিকাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। এটি ভুল পদ্ধতি। অবশ্যই আগে দেখতে হবে- কোরবানি ওয়াজিব হয়েছে কি না। এমনকি ঋণ থাকলেও হিসাব করে দেখতে হবে ঋণ পরিশোধ করলে নেসাব পরিমাণ সম্পদ বাকি থাকে কি না। বাকি থাকলেই তাকে কোরবানি করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/১৯৬; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ৫/২৯২)
বিজ্ঞাপন
কোরবানির নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। সুতরাং আপনার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করুন ও কোরবানি করুন। নিশ্চয় আপনার প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই নির্বংশ। (সুরা কাওসার: ১-৩) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যার কোরবানি করার সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ইদগাহে না আসে।’ (সুনানে ইবনে মাজা: ৩১২৩)




