আল্লাহ তাআলা মুমিনের ওপর কিছু বিধান আবশ্যক করে দিয়েছেন। এর মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো নামাজ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মুমিনের ওপর ফরজ। দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, ইশারায়—যে অবস্থায় সম্ভব মুমিনকে নামাজ পড়তেই হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘...নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা মুমিনদের জন্য অবশ্যকর্তব্য। ’ (সুরা নিসা: ১০৩)
নামাজ না পড়াকে মহানবী (স.) কুফরি কাজ ও কাফিরের স্বভাব বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এক হাদিসে এসেছে, জাবির (রা.) বলেন, আমি নবী (স.)-কে বলতে শুনেছি, বান্দা এবং শিরক-কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেওয়া। (মুসলিম: ১৪৮) হজরত বুরাইদা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে (মুক্তির) যে প্রতিশ্রুতি আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দেয়, সে কুফুরি কাজ করে। (তিরমিজি: ২৬২১) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যার ভেতর নামাজ নেই, তার ভেতর দ্বীনের কোনো অংশ নেই। (মুসনাদে বাজ্জার: ৮৫৩৯)
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: ইশরাক ও চাশতের নামাজ কখন পড়তে হয়, ফজিলত কী?
নামাজ ইসলামের অন্যতম রুকন। মুমিন হলে নামাজ না পড়ার সুযোগ নেই। আল্লাহ তাআলা বিভিন্নভাবে মুমিনদের নামাজ আদায়ের আদেশ করেছেন। জান্নাতের নেয়ামত স্মরণ করিয়ে দিয়ে, জাহান্নামের শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বান্দাদের নামাজ পড়তে বলেছেন। পবিত্র কোরআনে নামাজের কথা প্রায় শতবার উচ্চারিত হয়েছে। এত বলার পরও বান্দার নামাজ না পড়া আসলেই দুর্ভাগ্যজনক। কোরআন-হাদিসমতে, তারা শাস্তির উপযুক্ত।
পরকালে ‘(জাহান্নামিদের জিজ্ঞাসা করা হবে) কোন জিনিস তোমাদেরকে সাকারে (জাহান্নাম) নিক্ষেপ করলো? তারা বলবে, আমরা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।’ (সুরা মুদ্দাসসির: ৪২-৪৩) সালাত ছেড়ে দেয়ার শাস্তি সম্পর্কে অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘...সুতরাং তারা অচিরেই ‘গাইয়া’ (জাহান্নামের তলদেশ বা উপত্যকা) প্রত্যক্ষ করবে।’ (সুরা মরিয়ম: ৫৯)
বিজ্ঞাপন
কেয়ামতের দিন বেনামাজি সর্বপ্রথম যে লাঞ্ছনার শিকার হবে, কোরআনের একটি আয়াতে তার বিবরণ এসেছে, যার মর্ম এরকম—‘স্মরণ করো সেদিনের কথা, যেদিন পায়ের গোছা উন্মোচন করা হবে। সেদিন তাদের আহ্বান করা হবে সেজদা করার জন্য, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত, হীনতা তাদের আচ্ছন্ন করবে। অথচ যখন তারা নিরাপদ ছিল, তখন তো তাদের আহ্বান করা হয়েছিল সেজদা করতে।’ (সুরা কালাম: ৪২-৪৩)
শুধু পরকালীন শাস্তি নয়, নামাজ না পড়লে ইহকালীন জীবনও বরকতশূন্য হয়ে যায়। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তির আছরের সালাত কাজা হয় তার পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ সবই যেন ধ্বংস হয়ে গেল। (মুসলিম: ১৩০৪)
অন্যদিকে, নামাজি ব্যক্তির জন্য তার নামাজ আলোতে পরিণত হবে, ইমান ও ইসলামের প্রমাণ হবে। হাদিসের ভাষ্যমতে, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যত্নের সঙ্গে আদায় করবে, কেয়ামতের দিন এ নামাজ তার জন্য আলো হবে। তার ঈমান ও ইসলামের দলিল হবে এবং তার নাজাতের ওসিলা হবে। আর যে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়মিত নামাজ আদায় করবে না, কেয়ামতের বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে নামাজ তার জন্য আলো হবে না। দলিলও হবে না এবং সে আজাব থেকে রেহাইও পাবে না।’ (মুসনাদে আহমদ: ৬৫৭৬) আল্লাহ তাআলা আমাদের যথাসময়ে গুরুত্বসহকারে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।




