ঈমান আনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। এটি ফরজ ইবাদত ও ইসলামের অন্যতম রুকন। তাই নামাজ মনোযোগের সঙ্গে সুন্দর ও শুদ্ধভাবে পড়ার চেষ্টা থাকা জরুরি। এরপরও ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যেতে পারে। প্রশ্ন হলো- নামাজে কেরাত পড়ার সময় কোনো আয়াত ছুটে গেলে করণীয় কী? সাহু সেজদা দিতে হবে? নাকি সাহু সেজদা ছাড়াই ওই নামাজ শুদ্ধ হবে?
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন- নামাজে কেরাত পড়ার সময় কোনো আয়াত বাদ গেলে তা নামাজের ভেতরে স্মরণ হলে আয়াত দোহরিয়ে নিতে হবে। না দোহরালেও নামাজ হয়ে যাবে। তবে ইচ্ছাকৃত এমন করা মাকরুহ। মূলত একটি আয়াত মিসিংয়ের জন্য সাহু সেজদা ওয়াজিব হয় না।
বিজ্ঞাপন
অবশ্য, এর কারণে তিন বার সুবহানাল্লাহ বলা সময় পরিমাণ চুপ থাকলে সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে। (ফতোয়া তাতারখানিয়া: ২/৬৭; তাহতাবি: ২৫৮; আপ কে মাসায়েল: ৪/৫৭)
আরও পড়ুন: ফরজ নামাজের ৩য়-৪র্থ রাকাতে ফাতেহার সঙ্গে ভুলে অন্যসুরা পড়লে করণীয়
তবে, ভুলক্রমে যদি সূরা ফাতেহার কোনো আয়াত ছুটে যায় তাহলে তাকে সাহু সেজদা দিতে হবে। কারণ, নামাজে পূর্ণ সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব। সুরা ফাতেহার এক আয়াতও ভুলে ছুটে গেলে সাহু সেজদা ওয়াজিব হয়। এক্ষেত্রে সাহু সেজদা না দিলে নামাজ পুনরায় পড়ে নিতে হবে।
(আদ্দুররুল মুখতার: ১/৪৫৮; আসসিআয়াহ: ২/১২৬; আননাহরুল ফায়েক: ১/৩২৩; হাশিয়াতুত তহতাবি আলালমারাকি: ১৩৫; মিনহাতুল খালেক আলা হামিশিল বাহর: ২/৯৪)
বিজ্ঞাপন
আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের মতো মহান ইবাদত বিশুদ্ধভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। নামাজ সংক্রান্ত মাসায়েল জানার ও মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।




