বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

পাগল পশু কোরবানি করলে শুদ্ধ হবে?

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৪, ০৬:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

পাগল পশু কোরবানি করলে শুদ্ধ হবে?

কোরবানি ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ১০ জিলহজ ফজরের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাকে কোরবানি দিতে হবে। এটি ওয়াজিব বিধান। আল্লাহ তাআলা কোরবানির নির্দেশ দিয়ে বলেন— ‘আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি আদায় করুন।’ (সুরা কাউসার: ২)

নিসাব পরিমাণ সম্পদ বলতে যদি সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা থাকে অথবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সব সম্পদ মিলে সাড়ে ৫২ ভরি রুপার সমমূল্যের হয়, তাহলে কোরবানি করা ওয়াজিব। সরাসরি স্বর্ণ বা রুপা থাকা শর্ত নয়, বরং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সমমূল্যের নগদ অর্থ বা বাড়ি বা ব্যবসায়িক পণ্য বা অন্যান্য আসবাবপত্র কোরবানির নিসাবের অন্তর্ভুক্ত। (তাবয়িনুল হাকায়িক, পৃষ্ঠা: ১০, খণ্ড: ৬)


বিজ্ঞাপন


কোরবানির পশু হতে হবে ‘বাহিমাতুল আনআম’ তথা ‘অহিংস্র গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু’। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কোরবানির নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছি। জীবনোপকরণ স্বরূপ তাদের যেসব ‘বাহিমাতুল আনআম’ দিয়েছি সেগুলোর ওপর তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সুরা হজ: ৩৪)

আরও পড়ুন: কোরবানির গরুতে একভাগ ছেলের আকিকার জন্য যথেষ্ট?

এরকম পশু ছয় প্রকার। গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল, দুম্বা ও উট। অন্যান্য পশু দিয়ে কোরবানি নাজায়েজ। কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হতে হবে। অবশ্য ছয় মাসের ভেড়া যদি দেখতে মোটাতাজা হয় এবং এক বছর বয়সের মতো মনে হয়— তাহলে তা দিয়েই কোরবানি করা বৈধ। গরু-মহিষের হতে হবে পূর্ণ দুই বছর। আর উটের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে। (হিদায়া, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা-১০৩)

উল্লিখিত পশুগুলো নর, মাদি বা বন্ধ্যা যা-ই হোক তা দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ হবে। পাগল পশুর কোরবানি করাও জায়েজ। তবে যদি এমন পাগল হয় যে, ঘাস পানি দিলে খায় না এবং মাঠেও চরে না তাহলে সেটার কোরবানি জায়েজ হবে না। (আননিহায়া ফি গরিবিল হাদিস: ১/২৩০, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১৬, ইলাউস সুনান: ১৭/২৫২)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: গর্ভবতী পশুর কোরবানির বিধান কী

তবে, কোরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, অধিক গোশতসম্পন্ন, নিখুঁত ও দেখতে সুন্দর হওয়া উত্তম। এছাড়া কোরবানির পশু হতে হবে যাবতীয় দোষ-ত্রুটি মুক্ত। হাদিসে এসেছে, ‘চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি হবে না। অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট; রোগাক্রান্ত, যার রোগ স্পষ্ট; পঙ্গু, যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট ও আহত, যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে।’ ( ইবনে মাজাহ: ৩১৪৪)

কোরবানি অনেক ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হবে। (ইবনে মাজাহ: ৩২৪৭) কোরবানির মাধ্যমে গুনাহও মাফ হয়।(মুস্তাদরাক হাকিম: ৭৬৩৩) এছাড়াও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা কোরবানি জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে। আবদুল্লাহ ইবনে হাসান (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি খুশি মনে সওয়াবের আশায় কোরবানি করবে, ওই কোরবানির জবেহকৃত পশু কোরবানিদাতার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে।’ (আল মুজামুল কাবির: ২৬৭০)

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করে না তার ব্যাপারে হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কোরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩৫১৯; আততারগিব ওয়াততারহিব: ২/১৫৫)

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর