সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

সুরা কদরে আল্লাহ যা বলেছেন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

সুরা কদরে আল্লাহ যা বলেছেন

সুরা কদর পবিত্র কোরআনের ৯৭ তম সুরা। এর আয়াত সংখ্যা ৫ টি এবং এর রুকুর সংখ্যা ১টি। শবে কদর বা লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এই সুরায়। সুরাটির শানে নুজুল সম্পর্কে তাফসির গ্রন্থে রয়েছে, নবীজি (স.) একদিন সাহাবায়ে কেরামদের সামনে বনি ইসরাইলের এক ইবাদতগুজার মানুষের কথা বলছিলেন। সে ব্যক্তি দিনে জিহাদ করত এবং রাতে এক হাজার মাস ধরে আল্লাহর ধ্যান সাধনায় ডুবে ছিল। এ কথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম আফাসোস করে বললেন, আমরা এত বছর ইবদত করব কীভাবে? আমরা তো সেই দরবেশের মতো শ্রেষ্ট হতে পারব না।

ঠিক তখনই জিবরাইল (আ.) সুরা কদর নিয়ে হাজির হলেন। আল্লাহ তাআলা সুরা-কদর নাজিল করে এ উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। এ থেকে আরও প্রতীয়মান হয় যে, শবে-কদর উম্মতে মুহাম্মদিরই বৈশিষ্ট্য। (ইবনে আবি হাতেম এবং ইবনে জরির, মাযহারি)


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: রমজানের শেষ দশকে নবীজির নিয়মিত ৬ আমল

সুরা কদরে যা বলা হয়েছে
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অর্থ: ‘পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।’

إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِ  উচ্চারণ: ‘ইন্না আনঝালনা-হু ফী লাইলাতিল কাদর।’ অর্থ: ‘নিঃসন্দেহ আমি এটি অবতরণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে।’

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ উচ্চারণ: ‘ওয়ামাআদরা-কা-মা-লাইলাতুল কাদর।’ অর্থ: আপনি কি জানেন শবে কদর কী?’


বিজ্ঞাপন


لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ উচ্চারণ: ‘লাইলাতুল কাদরি খাইরুম মিন আলফি শাহর।’ অর্থ: ‘শবে-কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ (একটি রাত)।’

تَنَزَّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ উচ্চারণ: ‘তানাঝঝালুল মালাইকাতুওয়াররুহু ফীহা-বিইযনি রাব্বিহিম মিন কুল্লি আমর।’ অর্থ: ‘এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।’

سَلَٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِ উচ্চারণ: ‘সালা-মুন হিয়া হাত্তা-মাতলা‘ইল ফাজর।’ অর্থ: ‘(এ রাতে বিরাজ করে) শান্তি আর শান্তি- ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত।’

আরও পড়ুন: শবে কদরে বিশেষ ফজিলতের ৯ আমল 

শবে কদরে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব ও ফজিলত
কদরের রাতে গুরুত্বের সঙ্গে নামাজ-দোয়া ও জিকির-আজকারসহ প্রত্যেকটি নেক আমলের সীমাহীন ফজিলত বর্ণিত হয়েছে হাদিসে। প্রিয়নবী (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (সহিহ বুখারি: ৩৫) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘এ মাসে (রমজানে) এমন একটি রাত আছে, যা হাজার রাতের চেয়ে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে সত্যিই বঞ্চিত হলো।’ (সুনানে নাসায়ি: ২১০৮) 

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শবে কদরের মর্যাদা উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন। কদরের রাতে সুন্নাহর অনুসরণে ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর