প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাসসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। তবে বাজেটে নির্ধারিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে দলটি।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জমিয়তের খাস কমিটির বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী কষ্টের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, গোশত, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর উদ্যোগ জনগণের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
তবে তারা মনে করেন, ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ বাজেটের একটি বড় অংশ ঋণনির্ভর হওয়ায় ভবিষ্যতে ঋণের বোঝা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
বিজ্ঞাপন
জমিয়ত নেতারা বলেন, শুধু কর কমালেই হবে না, এর সুফল যেন সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে তা নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। অসাধু মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
নেতৃবৃন্দ কৃষক, উৎপাদক ও ভোক্তার স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি স্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উন্নত, দক্ষ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে এ দুই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
তারা আরও বলেন, ঘোষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। বাজারে স্থিতিশীলতা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত হলেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে।
বৈঠকে জাতীয় বাজেটে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য ভাতা প্রদানের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তবে এ সুবিধা যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জল হক আজিজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারীসহ অন্যান্য নেতারা।
এমআর/এমআই




